- Dainiksylhet.com - https://dainiksylhet.com -

সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ শেয়ার জালিয়াতির

সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শেয়ার জালিয়াতি একটি মামলার আসামি। দুর্নীতি, প্রতারণা, অবৈধ বল প্রয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকের অর্থ লুট ও আত্মসাতের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে পারস্পরিক যোগসাজশে ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের নামে ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার অধিগ্রহণের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে। সাহাবুদ্দিন ছাড়াও মামলার আসামি আরও ১৯ জন। ইসলামী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার মো. আবদুচ ছামাদ বাদী হয়ে ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে এ মামলার আবেদন করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মামলায় আরজিতে ১২ নম্বর আসামির পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালক মো. সাহাবুদ্দিন হিসেবে। তৎকালীন বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে মামলাটি দুর্নীতি দমন কমিশনকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। আদশে ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের দিন ঠিক করেন। তবে এখনও দুদক মামলাটিতে প্রতিবেদন দাখিল করেননি। সর্বশেষ গত ২৩ জুন দুদক প্রতিবেদন না করায় ওই আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. আলমগীর ১১ আগস্ট নতুন করে তারিখ ঠিক করেন।

মামলার এজাহারে অন্য আসামিরা হলেন ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল ওয়াহেদ, ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মিস মিরফাত আরা বেগম, এস আলম গ্রুপ ও এস আলম সেন্টারের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ওরফে এস আলম, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালক মো. জয়নাল আবেদিন, আরাস্ত খান, প্রফেসর মো. নাজমুল হাসান, আবু সাইদ মোহাম্মদ কাশেম, সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, সৈয়দ আবু আসাদ, মো. কামরুল হোসেন, আহসান আলম, প্রফেসর ডা. মো. সেলিম উদ্দিন, শওকত হোসেন, খুরশিদ-উল-আলম, প্রফেসর ডা. কাজী শহীদুল আলম, মেজর জেনারেল (অব.) ইঞ্জিনিয়ার আবদুল মতিন, জামাল মোস্তফা চৌধুরী এবং প্রফেসর ডা. মো. সিরাজুল করিম।

মামলার অভিযোগ বলা হয়, আসামিরা ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের নামে ৭ কোটি ৭৫ লাখ ৩৬ হাজার ৩৯৩টি শেয়ার অধিগ্রহণ করেন, যা প্রতিষ্ঠানটির মোট শেয়ারের ৪ দশমিক ৮১৬০ শতাংশ। এসব শেয়ারের মোট মূল্য ২৫১ কোটি টাকা। ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা হলেও পরিশোধিত মূলধন ছিল মাত্র ৮ লাখ টাকা। মাত্র ৮ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের একটি প্রতিষ্ঠানের নামে ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার অধিগ্রহণ আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ কারণে অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে, পরস্পরের যোগসাজশে ও একই অভিপ্রসঙ্গের মাধ্যমে জনগণের অর্থে অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে এ লেনদেন সম্পন্ন করেছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির মোট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণ করেছে ২৪টি শেয়ারহোল্ডার কোম্পানি, যাদের অনেককেই এস. আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এই শেয়ার স্থানান্তরের প্রক্রিয়া, অর্থের উৎস এবং ক্রয়-বিক্রয়ের তারিখ সংক্রান্ত তথ্যসমূহ বিশ্লেষণ করে জানা যায়, শেয়ার বিক্রি ও ক্রয়ের তারিখ উভয় পক্ষের ক্ষেত্রে একই দিনেই সংঘটিত হয়েছে, অর্থাৎ শেয়ার হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটি পূর্ব-পরিকল্পিত ও সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। এস. আলম গ্রুপ, তার মালিক/উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট ২৪টি কোম্পানি এবং তাদের দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত পরিচালকরা সম্মিলিতভাবে এই ব্যাংকের ওপর দখল প্রতিষ্ঠার কৌশল অবলম্বন করেছেন এবং তার দায়-দায়িত্বও সম্মিলিতভাবেই তাদের ওপর বর্তায়। এই প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বার্থসংশ্লিষ্ট লেনদেন ও বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকের স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। অবৈধভাবে নিজেরা লাভবান হয়ে জনগণের অর্থের তছরুপে একই অভিপ্রায়ে ফৌজদারি বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুল কুদ্দুস জানান, মামলাটির এজাহারে ১২নং আসামি সাহাবুদ্দিন সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি কিনা আমার জানা নেই। আমি ব্যাংকের পক্ষে প্যানেল আইনজীবী হিসেবে মামলা ফাইলিং করেছি। এর বাইরে আমার কিছুই জানা নেই। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যে লিস্ট দিয়েছেন তা ধরে মামলা ফাইলিং করা হয়েছে। জানা গেছে, এ মামলায় সবার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে দেশ ছাড়ার নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। ওই আদেশ দেওয়ার সময় মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকায় তার নাম উল্লেখ করা হয়নি। ইসলামী ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এখন সাবেক রাষ্ট্রপতি নিষেধাজ্ঞার আওতায় চলে আসবেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন