সাহিত্যই একটি জাতির চিন্তা চেতনা এবং আত্মপরিচয়ের প্রধান বাহন —এ কথা উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ (কেমুসাস)-এর সভাপতি ও ভাষা সৈনিক অধ্যক্ষ মাসউদ খান বলেছেন, সাহিত্যচর্চায় পিছিয়ে পড়লে একটি জাতি মনন ও বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তিতে দুর্বল হয়ে পড়ে। নিয়মিত সাহিত্য পদক প্রদানের মাধ্যমে আলোর অন্বেষণ নতুন প্রজন্মের লেখকদের অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে, যা সত্যিই প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
রোববার রাতে নগরীর কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ-কেমুসাস প্রাঙ্গণে ১০ দিনব্যাপী বইমেলার মঞ্চে অনুষ্ঠিত ৬ষ্ঠ আলোর অন্বেষণ সাহিত্য পদক–২০২৫ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ-কেমুসাসের সভাপতি ভাষা সৈনিক অধ্যক্ষ মাসউদ খান বলেছেন, সাহিত্য জাতির আত্মপরিচয়ের প্রধান বাহন। যে জাতি সাহিত্যচর্চায় পিছিয়ে পড়ে, সে জাতি চিন্তায় ও মননে দুর্বল হয়ে যায়। আলোর অন্বেষণ যে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে নিয়মিত সাহিত্য পদক প্রদান করছে, তা নতুন প্রজন্মের লেখকদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। এই আয়োজন কেবল সম্মাননা নয়, এটি সাহিত্যের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রকাশ।
তিনি আরও বলেন, সিলেট ঐতিহ্যগতভাবে সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক উর্বর জনপদ। এখানকার লেখকরা দেশ-কাল-মানুষকে ধারণ করে যে সাহিত্য রচনা করছেন, তা জাতীয় সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করছে। আলোর অন্বেষণ ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখলে সাহিত্যচর্চার পরিসর আরও বিস্তৃত হবে। তিনি রোববার রাতে ৬ষ্ঠ আলোর অন্বেষণ সাহিত্য পদক-২০২৫ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন।
আলোর অন্বেষণ সভাপতি কবি সাজন আহমদ সাজুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক এমজেএইচ জামিলের পরিচালনায় নগরীর কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ-কেমুসাস প্রাঙ্গণে ১০ দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত বইমেলা মঞ্চে অনুষ্ঠিত পদক প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- শিক্ষাবিদ লেঃ কর্নেল (অব.) সৈয়দ আলী আহমদ, কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ কেমুসাসের সাধারণ সম্পাদক গল্পকার সেলিম আউয়াল, কবি ও বাচিক শিল্পী সালেহ আহমদ খসরু, সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. কাপ্তান হোসেন, দৈনিক প্রথম আলোর সিলেট ব্যুরো প্রধান সুমন কুমার দাশ ও ইন্ডিপিনডেন্ট টিভির ডিজিটাল মিডিয়ার সেন্ট্রাল ডেস্কের সিনিয়র সাব এডিটর সোহরাব আলম।
এবার আলোর অন্বেষণ সাহিত্য পদক-২০২৫ প্রাপ্তদের মধ্য রয়েছেন-আজীবন সম্মাননা পদক লাভ করেন কবি ও গবেষক অধ্যাপক দেওয়ান এ এইচ মাহমুদ রাজা চৌধুরী। এছাড়া গবেষণায় কবি ও গবেষক তাবেদার রসুল বকুল, প্রবন্ধে কবি ও প্রাবন্ধিক মাওলানা শামসীর হারুনুর রশীদ, কবিতায় কবি নিশাত ফাতেমা ও প্রবাসী লেখক হিসেবে সম্মাননা লাভ করেন কবি ও সংগঠক সোহেল আহমদ। পদক প্রাপ্তির পর তাদের পক্ষ থেকে অনুভুতি প্রকাশ করে বক্তব্য প্রদান করা হয়।
মোস্তাক হোসেন সাকেলের পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সুচীত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কবি মুন্নী আক্তার। বক্তব্য রাখেন কবি কাওসার আরা বেগম। উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন হাসন রাজা সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সোলেমান আহমদ চুন্নু, কবি কাওসার আরা বেগম, কবি মিলন কান্তি দাস, ছড়াকার এখলাছুর রহমান, কবি কামাল আহমদ, আলোর অন্বেষণ এর আপ্যায়ন সম্পাদক কয়েস আহমদ, সংগঠক মোস্তাক আহমদ সাকেল,কবি ফাতেহা বেগম, কবি হোসাইন হামিদ ও সুবেজ আহমদ প্রমুখ।
