- Dainiksylhet.com - https://dainiksylhet.com -

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত জুড়ীতে

ছবি: এআই দিয়ে তৈরী

মৌলভীবাজারের জুড়ীতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এক হিন্দু ধর্মাবলম্বী ব্যক্তি। চাকরি পাওয়ার পর ভেরিফিকেশনের সময় বাবার নামে কোনো স্থাবর সম্পত্তি না থাকায় চাকরি হারানোর আশঙ্কায় পড়েছিলেন এক মুসলিম তরুণ। বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিবেশী এক হিন্দু ভদ্রলোক স্বপ্রণোদিত হয়ে কোনো ধরনের বিনিময় ছাড়াই ওই তরুণকে এক শতক জমি দান করেছেন। এমনকি জমি রেজিস্ট্রেশনের খরচও নিজেই বহন করেছেন তিনি।

রোববার (৪ অক্টোবর) বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. মহিউদ্দিন। তবে সরকারি বিধিমালা ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আপাতত দাতা ও গ্রহীতার নাম প্রকাশ করতে চাননি তিনি।

জানা গেছে, সোনালী ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ওই তরুণের চাকরির ভেরিফিকেশন শুরু হয়। এ সময় তার বাবার নামে কোনো স্থাবর সম্পত্তি না থাকায় জটিলতা দেখা দেয়। এতে চাকরি পাওয়ার পরও নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়ে যান তিনি। কারণ, ভেরিফিকেশনের সময় প্রয়োজনীয় সম্পত্তি-সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এ অবস্থায় বিষয়টি জানতে পারেন ওই তরুণের প্রতিবেশী এক হিন্দু ধর্মাবলম্বী ব্যক্তি। পরিবারের দীর্ঘদিনের আর্থিক ও আবাসিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত থাকায় তিনি নিজ থেকেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। কোনো ধরনের আর্থিক বিনিময় ছাড়াই এক শতক জমি ওই তরুণের পরিবারের নামে দান করে দেন তিনি। জমি রেজিস্ট্রেশনের ব্যয়ও বহন করেন নিজেই।

জুড়ী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. মহিউদ্দিন বলেন, “চাকরি পাওয়া এক মুসলিম তরুণের বাবার নামে কোনো স্থাবর সম্পত্তি না থাকায় ভেরিফিকেশনে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি জানতে পেরে তার প্রতিবেশী এক হিন্দু ভদ্রলোক কোনো বিনিময় ছাড়াই এক শতক জমি দান করেছেন। এমনকি রেজিস্ট্রেশন খরচও তিনি দিয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “তরুণটির পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া বাসায় বসবাস করছে। তাদের সমস্যার কথা জেনে ওই ব্যক্তি স্বপ্রণোদিত হয়ে সহযোগিতার জন্য এগিয়ে এসেছেন।”

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, ধর্ম, সম্প্রদায় কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে একজন তরুণের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে প্রতিবেশীর পাশে দাঁড়ানোর এই ঘটনা নিঃসন্দেহে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত।

স্থানীয়দের মতে, সম্প্রীতির শক্তি শুধু উৎসব কিংবা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বিপদের সময় একে অন্যের পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেই এর প্রকৃত সৌন্দর্য। জুড়ীর এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল—মানবিকতার কাছে ধর্মের বিভাজন কখনো বড় হয়ে উঠতে পারে না।

তথ্য সূত্র: কালবেলা অনলাইন

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন