সিলেটে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। রোগীর চাপে কার্যত নাজেহাল হয়ে পড়েছে হাসপাতালগুলো। বিশেষ করে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। একশ’ শয্যার এই ‘হাম ডেডিকেটেড’ হাসপাতালে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি থাকায় অনেক শিশুকে একই বেডে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
রবিবার সকাল পর্যন্ত হাসপাতালটিতে ভর্তি ছিল ১১৪ জন শিশু। হাসপাতালের বারান্দা, করিডোর এমনকি মেঝেতেও চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে রোগীদের। চিকিৎসক ও নার্সরা অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তারা হলো- হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার আবদুল্লাহপুর গ্রামের ৯ মাস বয়সী আকরামুল এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ঘিলাছড়া গ্রামের ৮ মাস বয়সী সাইফান। আকরামুল মারা যায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং সাইফান শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে।
এ নিয়ে সিলেট বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ জনে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১২২ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ২৬৮ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১১৮ জন ভর্তি আছে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে।
এছাড়া সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৫৪ জন, মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ২০ জন, হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ১৫ জন এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ জন চিকিৎসা নিচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সিলেটে এখনো হাম শনাক্তের জন্য পূর্ণাঙ্গ ল্যাব সুবিধা না থাকায় গুরুতর রোগীদের নমুনা ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। উপসর্গ বিবেচনায় অধিকাংশ শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, শিশুদের হাম প্রতিরোধে সময়মতো টিকা নিশ্চিত করা জরুরি। একইসঙ্গে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ অতিরিক্ত শয্যা ও চিকিৎসাসেবা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানা গেছে।