শান্তিগঞ্জ বাজার-আস্তমা সড়ক পেয়ে আনন্দিত দুই গ্রামের মানুষ

স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর স্বপ্নের সড়ক পেয়েছে আস্তমা-কামরূপদং গ্রামের দশ হাজার মানুষ। সড়কটি স্থানীয় ভাবে শান্তিগঞ্জ-আস্তমা সড়ক নামে পরিচিত। দীর্ঘ দিন ধরে এই সড়কটি নির্মাণের জন্য দাবী জানিয়ে আসছিলেন এই অঞ্চলের মানুষ। বিগত সরকারের আমলে এই সড়কটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন হয়ে ঠিকাদার নিয়োগ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এই সড়করের আস্তমা স্কুল পয়েন্ট থেকে পশ্চিম হয়ে কামরূপদলং ব্রীজ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলো মিটার আরসিসি ঢালাই কাজ করছেন । সড়কটি বাস্তাবায়ন হওয়ায় কামরূপদলং-আস্তমা গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ আনন্দিত। তারা বলছেন, আমাদের দীর্ঘ দিনের দুর্ভোগের অবসান হলো। আমাদের এলাকাবাসী আগে অনেক কষ্ট করে চলাচল করতে হতো। স্কুল-মাদ্রাসা ও কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা এই সড়কে মারাত্মক দুর্ভোগে পড়তে হতো। এখন এই সড়ক দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাতায়াত করতে পারছি।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থ বছরে ২ কোটি ১৪ লক্ষ ১৮ হাজার ১৮৪ টাকা ব্যয় ধরে শান্তগঞ্জ বাজার-আস্তমা সড়কের ২৩৬২-৩৩৮৭ মিটার পর্যন্ত (আস্তমা স্কুল পয়েন্ট থেকে কামরূপদলং ব্রীজ পর্যন্ত) ১০২৫ মিটার কাজ পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মো. আতিকুর রহমান। ওর্য়াক ওর্ডার অনুযায়ী কাজটি পেয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এই সড়কের আস্তমা স্কুল পয়েন্ট থেকে আস্তমা বড় বাড়ি ব্রীজ পর্যন্ত ঢালাই কাজ সম্পন্ন করেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আস্তমা স্কুল পয়েন্ট থেকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজটি শুরু করে আস্তমা বড় বাড়ি ব্রীজ পর্যন্ত আরসিসি ঢালাই সড়ক নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছে। এই সড়কটি দিয়ে এখন গ্রামের মানুষ গাড়ি যোগে যাতায়াত করছেন। সড়কটির আস্তমা বড়বাড়ি ব্রীজ হতে কামরূপদলং গ্রামের মাদ্রাসা সড়ক পযর্ন্ত মাটি ও সাইটে গার্ড ওয়াল নির্মাণ করছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কামরূপদলং গ্রামের নাইন্দা নদীর ব্রীজ হতে পূর্ব দিকে মাদ্রাসা সড়ক পর্যন্ত ঢালাই কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কাজ গুলো সম্পন্ন করতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন ব্যাপক ভাবে কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। সড়কটি বাস্তবায়ন হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের চাপ দেখা গেছে। তারা বলছেন, আমাদের দীর্ঘ দিনের দুর্ভোগের অবসান হলো। এখন থেকে দিবারাত্রে যে কোন সময় গাড়ি যোগে যাতায়াত করতে পারবো আমরা।

আস্তমা গ্রামের বাসিন্দা ও জয়কলস ইউনিয়েনের ০১নং ওয়ার্ডের সদস্য হাবিবুর রহমান জানান, ‘আমাদের দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন ছিলো শান্তিগঞ্জ বাজার-আস্তমা সড়কের আস্তমা-কামরূপদলং সড়কটির। এই সড়ক দিয়ে আমরা অনেক দুর্ভোগে ছিলাম। সড়কটি বাস্তবায়ন হওয়ায় ২ গ্রামের ১০ হাজার মানুষ আজ আনন্দিত। আমাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হয়েছে। সড়কটি দিয়ে এখন আমার সহজেই গাড়ি নিয়ে যাতায়াত করতে পারছি। আমাদের এই এলাকার স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা নির্বিগ্নে চলাচল করতে পারছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজনও আন্তরিক ছিলেন। তারা নিয়ম অনুযায়ী কাজ করেছেন।’

পঞ্চগ্রাম এমদাদুল উলুম কামরূপদলং মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আব্দুল হাই জানান, ‘আমাদরে এই সড়কটি না থাকায় অনেক কষ্টে আমরা চলাফেরা করেছি। আলহামদুলিল্লাহ এইবার সড়কটি বাস্তবায়ন হচ্ছে দেখে আমাদের এলাকার সকল মানুষ আজ খুসি। আমাদের এই অঞ্চলের একমাত্র মাদ্রাসা পঞ্চগ্রাম এমদাদুল উলুম কামরূপদলং মাদ্রাসা। এই সড়ক দিয়ে আমাদের মাদ্রাসার শিক্ষক শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করেন। সড়কটি নির্মাণ হওয়ায় আমরা আনন্দিত। আমাদের দাবী দ্রুত সময়ের মাধ্যে অবশিষ্ট কাজ গুলো যেন সম্পন্ন করা হয়।’

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধীকারী মো. আতিকুর রহমান জানান, ‘আমরা কাজটি পেয়ে ওয়ার্ক ওর্ডার অনুযায়ী বাস্তবায়ন করছি। কাজটি শেষ হতে অনেক সময় লেগেছে। তার কারণ হলো সড়কটিতে বর্ষা মৌশুমে কাজ করা যায় না। মাটি সহ রাস্তা করতে হয়েছে। আমাদের কাজের প্রায় ৭৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ২৫ ভাগ কাজ চলতি মাসেই শেষ করা হবে।’

উপজেলা প্রকৌশলী সাজেদুল আলম জানান, ‘ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত সময়ের মাধ্যে এই কাজটি সম্পন্ন করার জন্য তাগাদ দিয়েছে। আমাদের নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কাজটি সম্পন্ন করা হচ্ছে। নিয়ম ও ওর্য়াক ওর্ডার অনুযায়ী কাজটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সড়কটি এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনে স্বপ্ন ছিল। আমরাও আন্তরিকতার সাথে কাজটি বাস্তবায়ন করাচ্ছি। আশা করি চলতি মাসেই এই সড়কের বাকি কাজ গুলো সম্পন্ন করা যাবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন