বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য শান্তিগঞ্জ উপজেলার প্রশাসনিক ভবনের ছাদে বসানো এক কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সোলার প্যানেল (সৌরবিদুৎ)। প্রকল্পের শুরুতে ২/৩ বছর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সহ উপজেলার বিভিন্ন সরকারি অফিসসহ গুরুত্বপূর্ণ অফিসগুলো এর সুবিধা পেলেও ১/২ বছর যেতে না যেতেই সোলার প্যানেলটি নষ্ট হয়ে পড়ে। সোলার প্যানেল প্রকল্পটি অযত্ন অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে এর ব্যাটারিসহ মূল্যবান যন্ত্রপাতি। ফলে অপচয় হচ্ছে সরকারের বিপুল অঙ্কের অর্থ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা ও নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবহারের লক্ষ্যে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের আওতায় ২০১৩ সালে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এর অধীনে শান্তিগঞ্জ উপজেলার প্রশাসনিক ভবনের ছাদজুড়ে ৩০ কিলোওয়াটের ১০০টি প্যানেল নিয়ে সৌরবিদ্যুৎ সোলার প্যানেল প্রকল্প স্থাপন করা হয়। বসানো হয় ব্যাটারি ও আইপিএসসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি। এতে ব্যয় হয় প্রায় এক কোটি ৪৭ লাখ টাকা টাকা। প্রকল্পের শুরুতেই বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমাতে সরকারি বিদ্যুৎ ব্যয় সাশ্রয় এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারের লক্ষ্যেই উপজেলা প্রশাসনিক ভবনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রকল্পটি চালু থাকার সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়, সহকারি কমিশনার (ভূমি) এর কার্যালয়, উপজেলা পরিষদ, কৃষি বিভাগ, মৎস্য বিভাগ, সমবায় অফিস, নির্বাহী অফিসারের বাসভবন, প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস, স্থানীয় সরকার বিভাগ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস সহ উপজেলার অধিকাংশ দপ্তর বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় ছিল। কিন্তু ২/৩ বছরের মাথা আস্তে আস্তে যন্ত্রাংশ নষ্ট হতে থাকে। বর্তমানে সোলার প্যানেলটি পুরোপুরি বিকল ও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। বিগত গত ৮ বছর ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে থাকা সোলার, ব্যাটারি, আইপিএসসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ মেরামতের বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, ব্যাটারি, ইনভার্টারসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা পরীক্ষা এবং ত্রুটি দেখা দিলে দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা থাকা জরুরি। দীর্ঘদিন কোনো প্রকল্প বন্ধ থাকলে যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সরকারি বিনিয়োগের কার্যকারিতাও নষ্ট হয়েছে। সোলার প্যানেল স্থাপনের পর এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কোন প্রতিষ্ঠান বা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ছিল, কত বছর পর্যন্ত ওয়ারেন্টি বা মেইনটেন্যান্স সুবিধা ছিল এবং প্রকল্পটি বিকল হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি, কন্ট্রোলারসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতির কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়েছে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিল্লোল চাকমা বলেন, আমি নবগত নির্বাহী অফিসার হিসাবে যোগদান করেছি। স্থানীয় প্রকৌশলীর সাথে এ বিষয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে। পুরো বিষয়টি সচল করতে কী পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হবে, তা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান বা বিশেষজ্ঞকে দিয়ে একটি প্রাক্কলন (এস্টিমেট) করানো হবে। ব্যয় যদি কম হয় এবং উপজেলা তহবিল থেকে তা বাস্তবায়নের মতো সংস্থান থাকে, তাহলে তহবিল থেকেই কাজটি করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। আর ব্যয় বেশি হলে মন্ত্রণালয়ে লিখিত ভাবে আবেদন করে পৃথক বরাদ্দ এনে কাজটি বাস্তবায়ন করা হবে। বিষয়টি আমি সরেজমিনে দেখে এসেছি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
