- Dainiksylhet.com - https://dainiksylhet.com -

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা কার্যক্রমের দুর্নীতি দূরীকরণের দাবীতে পদযাত্রা

সিলেট কল্যাণ সংস্থা, সিলেট বিভাগ যুব কল্যাণ সংস্থা ও সিলেট প্রবাসী কল্যাণ সংস্থার যৌথ আয়োজনে মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা কার্যক্রমের যাবতীয় দুর্নীতি দূরীকরণের দাবীতে বেলা ১১টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মানববন্ধন, পদযাত্রা ও প্রধান উপদেষ্টা সহ ২১ উপদেষ্টা বরাবর সিলেট জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

মানববন্ধন থেকে শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকারী ও হত্যার সাথে জড়িত দুর্বৃত্তদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মাধ্যমে ফাঁসি কার্যকর করার জোর দাবী জানানো হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ৫টি মৌলিক অধিকারের মধ্যে একটি শিক্ষা। শিক্ষাকে কোনোভাবেই দূর্নীতিতে পরিণত হতে পারে না। দূর্নীতিমূক্ত বাংলাদেশ গড়তে প্রথমে শিক্ষাকে সর্বক্ষেত্রে দূর্নীতিমুক্ত করতে হবে। শিক্ষাকে ব্যবসায় পরিণত না করে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে একটি পাঠদানে আদর্শ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আগামী ১৫ জানুয়ারী ২০২৬ এর মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা কার্যক্রমের দুর্নীতি দূরীকরণে বাস্তবভিত্তিক কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে মাঠ পর্যায়ে কঠোর কর্মসূচীর হুশিয়ারী বক্তারা।

সিলেট কল্যাণ সংস্থার কার্যকরী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ এহছানুল হক তাহেরের সভাপতিত্বে ও সিবিযুকস’র বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন রশিদ চৌধুরীর পরিচালনায় শুরুতে পবিত্র কোরআন শরীফ থেকে তেলাওয়াত করেন সিবিযুকস’র বিভাগীয় কমিটির সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক কবি কামাল আহমদ। মানববন্ধনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিবিযুকস’র বিভাগীয় কমিটির সভাপতি আলহাজ্জ মুখতার আহমেদ তালুকদার। বক্তব্য রাখেন সিবিযুকস’র সিলেট মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ রফিকুল ইসলাম শিতাব ও সিলেট জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক তোফায়েল আহমদ। মানববন্ধন, পদযাত্রা ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচীতে প্রায় ৫ কোটি ছাত্রছাত্রীদের প্রতিনিধিত্ব করেন মখছুছুর রহমান, ফয়ছল আহমদ, মোঃ আল-আমিন আহমদ, মোঃ জুয়েল মিয়া, মোছাঃ মাহবুবা জান্নাত সাদিয়া, মাসুম মিয়াজী, মোঃ জামিল হোসেন, মোঃ আলী হোসেন, মোঃ সালিম আহমদ, মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, জামাল আহমদ, শংকর বিশ্বাস, রাহিম আহমদ, দীপক কুমার মোদক বিলু, মোঃ ইকবাল হোসেন, মুসলেহ উদ্দিন চৌধুরী মিলাদ, চিত্ত রঞ্জন দাস, মোঃ ফুজায়েল আহমদ, ফয়েজ হাসান, মোঃ সাহেদ আহমদ শান্ত, সাংবাদিক মামুন হাসান ও সাংবাদিক নাজমুল কবীর পাভেল।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ব্যাধি হচ্ছে দুর্নীতি। দূর্নীতির করাল গ্রাসে সর্বক্ষেত্রে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দূর্নীতি রোধে শিক্ষা সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে। যেকোনো মানুষের জীবনে শিক্ষা ছাড়া সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া ও দেশীও-আন্তর্জাতিক অবস্থানে নিজেকে উপস্থাপনের সুযোগ থাকে না। বলা যায়, বর্তমান সময়ে শিক্ষাই মানুষকে একজন আলোর দিশারী ও সবকিছু মোকাবেলায় অন্যন্য ভূমিকা রাখে। তাই শিক্ষা? মানুষকে একজন প্রকৃত মানুষ হিসেবে পরিণত করে। এই শিক্ষার মধ্যে যদি দূর্নীতি থাকে তাহলে জীবনের শুরুটাই অন্যায় অবস্থান থেকে শুরু হয়। সারাদেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দূর্নীতির আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। আর এই শিক্ষা নিয়ে যদি ব্যবসা শুরু হয়, তা আমাদেরকে মারাত্মক দূর্ভাবনায় ফেলে দেয়। বর্তমানে শিক্ষাকে পুঁজি করে প্রায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যবসায়ী হয়ে উঠেছেন। সরকারীভাবে প্রথম শ্রেনী থেকে নবম শ্রেনী পর্যন্ত বোর্ড বই বিনামূল্যে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। একাদশ-দ্বাদশ শ্রেনীর সব বই নিজ থেকে ক্রয় করতে হয়। বইয়ের সহায়ক হিসেবে যে বইগুলো ব্যবহার করা হয়? বিশেষ করে ব্যাকরণ, গ্রামার ও বিভিন্ন শ্রেনীর নোট বা গাইড বই, তা অনেক সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে নির্ধারিত বই কিনতে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করা হয়। এই বইগুলো মানসম্পন্ন বা নিম্ন মানের হউক। শিক্ষার্থীদের সামর্থ্য থাকুক বা না থাকুক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ঐ বইগুলো কিনতে বাধ্য করে। কোনো ছাত্রছাত্রী নিজ থেকে কোনো বই কিনলে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তা গ্রহণ করে না। অনেক সময় প্রায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে উল্লেখিত বইগুলো বিক্রয় করা হয়, যা কতটুকু বৈধ তা আমাদের জানা নেই? এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোচিং বাণিজ্য ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়ন্ত্রিত নিজস্ব কোচিং বাণিজ্য, অনুপস্থিত বানিজ্য, ভর্তি ফি বানিজ্য, সেশন ফি বাণিজ্য, স্কুল ড্রেস বাণিজ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্যান্টিন বানিজ্য? সম্পূর্ণ সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আধা সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এধরনের কার্যক্রম শিক্ষার্থীদেরকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দেয়। উচ্চবিত্তরা সহজে পার পেয়ে গেলেও মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের অসম্ভব প্রতিকুলতার মধ্যে পড়তে হয়। তদন্ত সাপেক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সবধরনের অসংগতি দূরীকরণে ও দূর্নীতি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আপনার সুদৃষ্টি কামনা করছি। বাংলাদেশের প্রায় ৫ কোটি শিক্ষার্থীদের অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা কার্যক্রমের যাবতীয় দুর্নীতি দূরীকরণনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে আপনার সদয় মর্জি হয়।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন