সিলেট নগরীর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্কলার্সহোম, টিলাগড় ক্যাম্পাসে অত্যন্ত আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে ‘৬ষ্ঠ ক্ষুদে গণিত উৎসব-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় শিশুকিশোর সংগঠন ফুলকুঁড়ি আসর-এর ৫২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনটির সিলেট মহানগরী শাখার সহযোগিতায় শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) আমাদের বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই গণিত উৎসব ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত চলমান এই প্রতিযোগিতায় সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন স্কুলের প্রায় ১,৩০০ জন ক্ষুদে শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। “পৃথিবীকে গড়তে হলে সবার আগে নিজেকে গড়ো” এবং “শিক্ষা সেবায় আনন্দ, গড়বো নতুন দিগন্ত” এই মহৎ লক্ষ্য ও স্লোগানকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের মেধা, মনন, সৃজনশীলতা ও নৈতিক বিকাশের উদ্দেশ্যে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং ফুলকুঁড়ি আসরের সংগঠকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠান ও পরীক্ষা কার্যক্রমটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন ফুলকুঁড়ি আসর সিলেট মহানগরী শাখার পরিচালক জুনাইদ আহমেদ এবং পরীক্ষা আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন শাখা সহকারী পরিচালক মো. আবুল কাশেম আজাদ। এদিন আমাদের বিদ্যালয়ের পরীক্ষা কার্যক্রম ও উৎসবমুখর পরিবেশ পরিদর্শন করতে বহু গুণীজন ও বিশিষ্ট অতিথি উপস্থিত হয়েছিলেন।
পরীক্ষা হল পরিদর্শন করেন সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ও ফুলকুঁড়ি আসর সিলেট মহানগরীর উপদেষ্টা মুকতাবিস-উন-নূর, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ট্রেজারার ও সমাজকল্যাণ অনুষদের অধ্যাপক প্রফেসর ড. মো. ইসমাইল হোসেন, স্কলার্সহোম টিলাগড় ক্যাম্পাসের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শামছ উদ্দিন (আরণ্যক শামছ), কোঅর্ডিনেটর সুমিত্রা মজুমদার, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তর, কিশোর থিয়েটারের উপদেষ্টা আহমদ মাহবুব ফেরদৌসী, ফুলকুঁড়ি আসর প্রাক্তন প্রধান পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম, ফুলকুঁড়ি আসর কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি সম্পাদক মাহবুব সরকার প্রমুখ।
পরিদর্শনকালে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ শিক্ষার্থীদের এই উৎসবমুখর অংশগ্রহণ দেখে অত্যন্ত সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, শিশু-কিশোরদের মনের ভেতর থেকে গণিতের ভয় দূর করতে এবং তাদের যুক্তিবোধ ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা বাড়াতে এই ধরনের আয়োজন প্রশংসনীয়। একই সাথে তারা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।স্কলার্সহোম, টিলাগড় ক্যাম্পাসের পক্ষ থেকে আমরা মনে করি, এই আয়োজনটি শুধু একটি সাধারণ প্রতিযোগিতা ছিল না। এটি ছিল শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব তৈরি এবং একটি মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তোলার সুন্দর প্রয়াস। আমাদের বিদ্যালয়ে এই চমৎকার উৎসবটি আয়োজনের জন্য আমরা ফুলকুঁড়ি আসর সংগঠনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এই ধরনের শিক্ষামূলক ও সৃজনশীল কার্যক্রমে স্কলার্সহোম পরিবার সব সময় পাশে থাকবে।
