মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শত বছরের পুরোনো বসতভিটা প্রতারণার মাধ্যমে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক হিন্দু পরিবার। শুক্রবার সকালে উপজেলার ভূনবীর ইউনিয়নের পাত্রীকুল গ্রামের বাসিন্দা বাবুল দাশ নিজ বাড়িতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে বাবুল দাশ জানান, প্রায় একশ’ বছর আগে তার বাবা মৃত রুক্ষিনী দাশ স্থানীয় সত্যেন্দ্র কুমার ভট্টাচার্যের কাছ থেকে পাত্রীকুল মৌজার আরএস ৫৭৮, ৫৭৭ ও ৫৭৫ নম্বর দাগে ৪২ শতক জমি ক্রয় করেন এবং সেখানে বসতঘর নির্মাণ করে অদ্যাবধি পরিবারসহ বসবাস করে আসছেন। সে সময় হিন্দু জমি রেজিস্ট্রির প্রচলন না থাকায় মৌখিক চুক্তির মাধ্যমে জমি কেনাবেচা হয়। পরবর্তীতে দলিল করে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও সত্যেন্দ্র কুমার ভট্টাচার্য মৃত্যুবরণ করায় তা আর সম্ভব হয়নি। পরবর্তীকালে এই সম্পত্তি শত্রু সম্পত্তি হিসেবে ডিসি খতিয়ান ভুক্ত হয়।
তিনি বলেন, পরবর্তীতে সত্যেন্দ্র কুমারের ছেলে শুকুমার ভট্টাচার্য ওরফে হিরক ভট অর্পিত সম্পত্তি থেকে জমি অবমুক্ত করে তাদের নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে মামলা পরিচালনার খরচ বাবদ তার কাছ থেকে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা নেন। দীর্ঘদিন পার হলেও তিনি জমি রেজিস্ট্রি করে না দিয়ে টালবাহানা করতে থাকেন।
বাবুল দাশের অভিযোগ, সম্প্রতি শুকুমার ভট্টাচার্য গোপনে ওই জমিসহ মোট ২৭ কেয়ার (কেদার) জমি হবিগঞ্জের রিচি এলাকার তাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেন। গত বছরের ৫ অক্টোবর তাজুল ইসলাম লোকজন নিয়ে তাদের বাড়িতে এসে জমি নিজের নামে কেনার দাবি করলে বিষয়টি জানতে পারেন তারা। তিনি জানান, খবর পেয়ে স্থানীয় মুরুব্বি ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে গ্রামের প্রবীণরা স্বীকার করেন, বাবুল দাশ পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ওই জমিতে বসবাস ও ভোগদখল করে আসছে। কিন্তু ক্রেতা তাজুল ইসলাম বিষয়টি উপেক্ষা করে উল্টো হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বাবুল দাশ দাবি করেন, বর্তমানে তাকে ও তার পরিবারকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তার একমাত্র ছেলেকে গুম ও প্রাণনাশের ভয় দেখানো হচ্ছে। এমনকি বাড়ির পাশের চলাচলের পথ ও পানির উৎস ব্যবহারে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, “এই জমিই আমাদের একমাত্র সম্বল। শুকুমার ভট্টাচার্য প্রতারণার মাধ্যমে আমার সর্বস্ব নিয়ে অন্যের কাছে আমার বসত ভিটা বিক্রি করে গা ঢাকা দিয়েছে । এখন আমাদের উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র চলছে।”
শুকুমার ভট্টাচার্য এর বড় মেয়ে নিবেদিতা ভট্টাচার্য সুমি তার বাবার মুঠো ফোন রিসিভ করে বলেন,তার বাবা অসুস্থ ঢাকা ইউনাইটেড হসপিটালের আইসিউ’তে ভর্তি আছেন। সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে জানালে তিনি উল্টো সাংবাদিকদের প্রশ্ন করে বলেন,যারা সংবাদ সম্মেলন করেছে তারা কী কোন ডকুমেন্টস দেখিয়েছে না মুখে বলেছে তাদের জায়গা? আমরা বলেছি এখানে এলাকার শতাধিক লোকজন স্বাক্ষী দিচ্ছে আপনার বাবা প্রতারণা করেছেন বাবুল দাশের সাথে,তখন তিনি বলেন,তারাও সংবাদ সম্মেলন করবেন বলে লাইন কেটে দেন।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন বাবুল দাশ। সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং স্থানীয় শতাধিক হিন্দু-মুসলিম গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
