সিলেট সদর উপজেলার তারাপুর ও মালনীছড়া চা-বাগানের মধ্যবর্তী সীমান্ত এলাকায় অবৈধভাবে বাঁশের বেড়া দিয়ে জমি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিতর্কিত একটি জাল দলিলের মাধ্যমে জমির মালিকানা দাবি করে তৃতীয় একটি পক্ষ সক্রিয় হওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে চা-বাগানের সীমানা ও আশপাশের জমি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। সম্প্রতি বাগান দুটির মধ্যবর্তী বর্ডার বা সীমানা এলাকায় অজ্ঞাতনামা কিছু ব্যক্তি বাঁশের বেড়া দিয়ে জমি দখলে নেওয়ার চেষ্টা চালান। বিষয়টি নজরে আসার পর বাগান কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করে তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তা জোরদার করে।
এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগের পরও জমি দখলের তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উক্ত সীমানা জমির মালিকানা নিয়ে বর্তমানে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। আদালতের চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগেই জমিটি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, একটি চক্র কথিত জাল ও বিতর্কিত দলিল তৈরি করে জমির মালিকানা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। এমনকি ওই দলিলের ভিত্তিতে জমিতে দখল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় ‘লায়েক’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তির নামও সামনে এসেছে। তার বিরুদ্ধে সরাসরি জবরদখলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকলেও এসব অভিযোগের সত্যতা আদালত বা সংশ্লিষ্ট তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, তারাপুর ও মালনীছড়া চা-বাগান শুধু সিলেটের ঐতিহ্যের অংশ নয়, বরং এ অঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের সঙ্গেও নিবিড়ভাবে যুক্ত। চা-বাগানের জমি অবৈধভাবে দখল বা সীমানা পরিবর্তনের চেষ্টা হলে এর প্রভাব শুধু মালিকানা বিরোধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; দীর্ঘমেয়াদে বাগানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও পরিবেশও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
অভিযোগ রয়েছে, জমি দখলের উদ্দেশ্যে প্রথমে সীমানা নির্ধারণের নামে বাঁশের বেড়া দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে কথিত দলিল বা কাগজপত্র দেখিয়ে দখলকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হতে পারে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের ভূমি বিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকায় আদালতের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বিরোধপূর্ণ জমিতে কোনো পক্ষের একতরফা দখল প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই। ফলে আদালতের নিষ্পত্তির আগে জমিতে নতুন করে সীমানা নির্মাণ, দখল কিংবা মালিকানা পরিবর্তনের যেকোনো প্রচেষ্টা আইনগতভাবে প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় জমি দখলের চেষ্টা হলে সাধারণ মানুষ অনেক সময় প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। ফলে এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুরুতেই বন্ধ করতে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।
এদিকে চা-বাগান সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিরোধপূর্ণ জমির প্রকৃত মালিকানা যাচাই, কথিত দলিলের বৈধতা পরীক্ষা এবং সীমানা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। পাশাপাশি আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় কেউ যাতে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে জমির দখল পরিবর্তনের চেষ্টা করতে না পারে, সে বিষয়েও প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
সিলেটের ঐতিহ্যবাহী চা-বাগানগুলোর জমি নিয়ে এ ধরনের বিরোধ ও দখলচেষ্টার অভিযোগ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—বাগানের সীমানা, জমির কাগজপত্র ও মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতা কি যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও তদারকি করা হচ্ছে?
সাধারণ মানুষ ও চা-বাগান সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক। আদালতের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিরোধপূর্ণ জমিতে সব ধরনের দখলচেষ্টা বন্ধ রাখা এবং ঐতিহ্যবাহী চা-বাগানের জমি ও পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।