সিলেটে হামের ভয়াবহতা বাড়ছে: একদিনে আরও তিন শিশুর মৃত্যু

সিলেট বিভাগে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিদিনই নতুন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি বাড়ছে মৃত্যুও। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু এই পরিস্থিতিকে আরও শঙ্কাজনক করে তুলেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ১০টা ৫ মিনিটে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (পিআইসিইউ) ১০ মাস বয়সী আরিফ নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। একই দিন রাত ৮টা ১৫ মিনিটে সুনামগঞ্জের ৫ মাস বয়সী তৌফিক নামের আরেক শিশু মারা যায়। এ ছাড়া রাত সাড়ে ৯টায় ৯ মাস বয়সী শিশু হুমায়রার মৃত্যু হয়।
এ নিয়ে সিলেটে হামে আক্রান্ত হয়ে একজন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মোট আটজনের মৃত্যু হলো।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির তিনটি মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আরিফ হাম ও ব্রংকোনিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছিল। পরে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে—পেটে ব্যথা, কালো মল (মেলেনা), নাক দিয়ে কালো তরল নির্গমন, উচ্চ জ্বর ও শকের লক্ষণ দেখা যায়। চিকিৎসকদের ধারণা, এটি হেমোরেজিক হাম বা ‘ব্ল্যাক হাম’-এর একটি জটিল রূপ হতে পারে। পরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, তৌফিক গত ৬ এপ্রিল হাম, ব্রংকোনিউমোনিয়া, হৃদরোগজনিত জটিলতা (হার্ট ফেইলিউর) ও ক্রুপসহ একাধিক সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। তার মৃত্যুর ক্ষেত্রেও হামের জটিলতা দায়ী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিচালক আরও জানান, “দিন দিন পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠছে। ডাক্তার ও নার্সরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। রোগীর চাপও বাড়ছে।” একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, আরও একজন গুরুতর রোগীকে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল থেকে ওসমানীতে স্থানান্তর করা হচ্ছে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে নতুন করে ১০ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে ৫৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন প্রায় ১৬০ জন রোগী। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৮৩ জন ভর্তি আছেন সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে।

ক্রমবর্ধমান সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঘটনা সিলেটের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের সতর্কবার্তা হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো টিকাদান, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। এখনই সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণই হতে পারে এই সংকট মোকাবিলার একমাত্র কার্যকর পথ।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন