সিলেট মহানগরীতে সংঘবদ্ধ ‘হানিট্র্যাপ’ চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ। এ সময় জিম্মি অবস্থায় থাকা দুই যুবককে উদ্ধার করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া মালামাল ও অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহন জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ এপ্রিল রাতে গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাদে রণকেলী গ্রামের মাহমুদুল হাসান রিফাত (২৫) ও তার প্রবাসী বন্ধু মাহফুজ আলী (২৫)-কে মেন্দিবাগ পয়েন্ট থেকে কৌশলে প্রলুব্ধ করে সিএনজি অটোরিকশায় তুলে নেয় চক্রের সদস্য আব্দুল জলিল ও জায়েদ আহমদ। পরে তাদের যতরপুর এলাকার ‘নবপুষ্প-১১৩’ নম্বর বাসার ৫ম তলার একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিল চক্রের নারী সদস্য জেসমিন আক্তার। পরবর্তীতে চক্রের মূলহোতা তানজিলা আক্তার ওরফে রাবেয়া বেগম তানহাসহ আরও কয়েকজন ওই ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে। তারা ভিকটিমদের ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ও নির্যাতনের মাধ্যমে কাবু করে ফেলে এবং জোরপূর্বক অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে।
এরপর ভিকটিমদের কাছ থেকে আইফোন ১৪ প্রো ম্যাক্স, নগদ টাকা, রূপার চেইন ও ব্রেসলেট ছিনিয়ে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাদের পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। লোকলজ্জার ভয়ে ভিকটিমরা প্রথমে ৯০ হাজার টাকা দিলেও তাদের মুক্তি দেওয়া হয়নি।
পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি আঁচ করতে পেরে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশের শরণাপন্ন হন। অফিসার ইনচার্জ খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকিরের নির্দেশনায় এসআই আনোয়ারুল ইসলাম পাঠান তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ভিকটিমদের অবস্থান শনাক্ত করেন। এরপর ১০ এপ্রিল ভোর ৪টা ২০ মিনিটে অভিযান চালিয়ে পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার এবং দুই ভিকটিমকে উদ্ধার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—তানজিলা আক্তার ওরফে রাবেয়া বেগম তানহা (২৭), আব্দুল জলিল (৩০), জেসমিন আক্তার (২২) ও জায়েদ আহমদ (৩৫)। অভিযানকালে একটি প্রাইভেট কার, একটি সিএনজি অটোরিকশা, তিনটি মোবাইল ফোন এবং ছিনতাই হওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় দণ্ডবিধি ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১২ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সিলেট মহানগর পুলিশের উত্তরের ডিসি সাইফুল ইসলাম এক প্রেসব্রিফিংয়ে জানান, “এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলছিল। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং এমন অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”