‘জ্বালানি সংকটের আগে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই হাজার লিটার পেট্রোল বিক্রি হতো। এখন বিক্রি হচ্ছে পাঁচ থেকে ছয় হাজার লিটার। একইভাবে বেড়েছে অকটেন, ডিজেল ও সিএনজি গ্যাসের বিক্রিও। এত জ্বালানি কীভাবে ব্যবহার হয় বুঝে আসছে না।’–এভাবেই বলছিলেন সিলেট বিভাগ পেট্রোল পাম্প অ্যান্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জুবায়ের আহমদ চৌধুরী।
তাঁর কথার সূত্র ধরে নগরীর সাত থেকে আটটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে সব পাম্পের বিক্রি এক রকম নয়। প্রতিটি পাম্পেই ভিড় লেগে আছে। পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেনের চেয়ে সিএনজি গ্যাস ব্যবহৃত গাড়ির লাইন ছিল দীর্ঘ। জ্বালানি দিতেও কার্পণ্য করছেন না পাম্পের কর্মচারীরা।
নগরীর চৌকিদেখি এলাকার উত্তরা পেট্রোলিয়ামের ব্যবস্থাপক মারুফ আহমদ বললেন, আমরা যে পরিমাণ জ্বালানি পাচ্ছি, সেই অনুযায়ী বিক্রি করছি। বিক্রি আগের তুলনায় খুব একটা বেশি, তা বলা যাবে না।
জ্বালানি সংকট ও দাম বাড়ার পর সিলেটের পরিস্থিতি অনেকটাই ভিন্ন। তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন খুব একটা চোখে পড়ছে না। তবে গ্যাসের লাইন দীর্ঘ থাকছে। গতকাল ভোক্তা ও পাম্প-সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সিএনজি গ্যাস আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।
বিজিবি গেট এলাকার শাহজালাল সিএনজি স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, অর্ধশতাধিক অটোরিকশা গ্যাসের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। বাসচালক আব্দুল মালেক জানান, গ্যাসের কোনো সংকট নেই। চাহিদামতো পাচ্ছি।
নগরীর পাঠানটুলা এলাকার নর্থইস্ট অয়েল স্টেশনে বিক্রি হচ্ছে গ্যাস, পেট্রোল ও অকেটেন। অকটেন কিনতে আসা মোটরসাইকেলচালক এমদাদ হেসেন জানান, তিনি বর্ধিত দামে তিন লিটার কিনেছেন। দাম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, মাঝেমধ্যে তেল পাওয়া যায় না। কোন সময় কী হয় বলা মুশকিল। সেজন্য চাহিদার চেয়ে কিছুটা বেশি কিনেছি।
চৌকিদেখি উত্তরা পেট্রোলিয়ামে দেখা গেছে, এখানে ডিজেল ছাড়া অন্য জ্বালানি বিক্রি হচ্ছে। বিশ্বরোড শাহজালাল উপকণ্ঠে অবস্থিত বেঙ্গল গ্যাসেলিন ও সুবিধবাজারের আহমদ গ্যাস ফিলিং স্টেশনে ছিল যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। উপশহরের মুখ ল কলেজ মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম জানান, তাদের অধিকাংশ গাড়ি গ্যাসচালিত। তবে স্ট্যান্ডের কিছু গাড়ি পেট্রোল ও এলপিজিচালিত। গ্যাসের দাম না বাড়লেও অন্য জ্বালানি বাড়ায় চালকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। আগের ভাড়ার চেয়ে এখন তাদের কিছুটা বেশি নিতে হচ্ছে। সংকট প্রসঙ্গে তিনি জানান, এমনিতে জ্বালানি সংগ্রহে খুব একটা বেগ পেতে হয় না। মাঝেমধ্যে বিদ্যুৎ না থাকলে পাম্পে লাইন পড়ে। অনেক পাম্পে আবার জেনারেটর নেই।
জ্বালানি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, তারা চাহিদামতো জ্বালানি পাচ্ছেন না। যা পাওয়া যায় তা নির্ধারিত সময়ের আগে বিক্রি হয়ে যায়। তখনই পাম্পগুলো সাময়িক বন্ধ থাকে।
সিলেট বিভাগ পেট্রোল পাম্প অ্যান্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসাধারণ সম্পাদক রিয়াসদ আজিম আদদান জানান, সিলেট বিভাগের চার জেলায় ১১৪টি পেট্রোল পাম্প রয়েছে। এর মধ্যে সিলেট মহানগরীতে ৪৫টিসহ জেলায় মোট ৭০টি পাম্প রয়েছে। এসব পাম্পে প্রতিদিন পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের প্রায় ১১ লাখ লিটার জ্বালানির চাহিদা রয়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় কম সরবরাহ হচ্ছে। এ ব্যাপারে সিলেটের যমুনা অয়েল লিমিটের বিপণন কর্মকর্তা বেনজির আহমদ জানিয়েছেন, ডিপোতে তেল রয়েছে। সরকার নির্ধারিত রেশনিংয়ের বাইরে তেল দেওয়ার এখতিয়ার তাদের নেই।
