- Dainiksylhet.com - https://dainiksylhet.com -

সিলেটে নিভৃতে হাটছে কথিত ম্যাগনেট প্রতারক চক্র

ছবি: এআই

প্রবাসী অধ্যুষিত অঞ্চল আধ্যাত্বিক পূন্যভূমি সিলেটে দিন দিন সক্রিয় হয়ে উঠছে একটি প্রতারক চক্র। দীর্ঘদিন ধরে নানান মাধ্যমে প্রলোভনের জাল বুনে বৃহত্তর সিলেটকে টার্গেট করে রেখেছে তারা। ২৪ এর পাঁচ আগস্টে হাসিনা সরকারের পতনের পরপরই দীর্ঘ সময় ধরে সিলেটে থাকা নেত্রকোনার আমিনুল, টাংগাইলের গফ্ফার সহ ক’জন প্রতারক সিলেট থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে । তবে তাদের অনুসারীরা এখনো কথিত শতকোটি টাকার ম্যাগনেট পিলার, সমমূল্যের কয়েন, তক্ষক, স্বর্ণমূর্তি, রত্নপাথর এজাতীয় জিনিসাধির প্রলোভনীয় তথ্য দ্বারা আকৃষ্ট করে লোক চোখে ধুলো দিয়ে সাধারণ থেকে উঁচু মহলে প্রতারনা করে বেড়াচ্ছে। ছ্দ্ম বেশে ওই সিন্ডিকেট ম্যাকাররা অধিকাংশ বিত্তশালী, ব্যবসায়ী, সমাজসেবক,জনপ্রতিনিধি, এলিট পার্সনদের টার্গেট করে মুখোশের আড়ালে গড়ে তুলছে সু-সম্পর্কও।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, এদের ফাঁদে পড়ে সোর্স হিসেবে ব্যবহার হচ্ছেন সমাজের সরল প্রকৃতির সাধারণ মানুষ। বিশেষ সূত্রে জানা যায়, সিলেটের গোয়ালাবাজার, তাজপুর, বিশ্বনাথ, বিয়ানীবাজার, সিলেট সদর, শাহপরান, হরিপুর, জাফলং, গোলাপগঞ্জ, এছাড়া জেলা সদর মৌলভিবাজার, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জেও এই প্রতারক চক্রের উঁকি ঝুঁকি রয়েছে। গত ২৫ জুলাই সুনামগঞ্জের শাল্লায় সাধারণ জনতা ম্যাগনেট চক্রের হাত থেকে ১৮১৮ সন গায়ে লেখা সীমান্ত পিলার উদ্ধার করে স্হানীয় প্রশাসনের কাছে ধরিয়ে দেয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিলেটের একজন ভুক্তভোগী দৈনিকসিলেটকে জানান, প্রতারকদের ভাষ্যমতে বৃটিশ আমলের সীমান্ত পিলারে বিশেষ ধরণের ম্যাগনেট পাওয়া যায়,যার বিক্রয় মূল্য হতে পারে হাজার কোটি টাকা। ভালো মানুষ সেজে ওই চক্রের একজন আমার কাছে এসে বলেন তারা বিশেষ এই ম্যাগনেটিক পিলার, কয়েন নিয়ে কাজ করেন যেগুলোর বেশিরভাগই হয় বৃটিশ আমলের সীমান্ত পিলার, যার গায়ে সন লেখা থাকে তেমনি আরেকটি ম্যাগনেটিক ধাতব বস্তু হলো প্রাচীন সময়ের কয়েন। এগুলো সংগ্রহ করে বিক্রি করা হয় বিদেশীদের কাছে, তারা এর মাধ্যম হয়ে কাজ করেন আর কাজের খরচ মেটাতে নেওয়া হয় শেয়ার। কাজ সফল হলে প্রতিটি শেয়ারে দেওয়া হয় সত্তরগুন মুনাফা, বাড়ি গাড়ি বিদেশের নাগরিকত্ব সহ লোভ দেখানো প্রতারণার ফাঁদে ফেলে আমার কাছ থেকেও মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয় তারা। এরকম আর কেউ প্রতারিত হয়েছে কিনা জানতে চাইলে ওই ভুক্তভোগী বলেন আমার জানামতে তথ্য নিলে অসংখ্য লোকজনের সাড়া পাওয়া যাবে। আমি মনে করি দেশের গোয়েন্দা সংস্থা এবিষয়ে তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে মূলহুতা কারা এবং কারা এর সাথে জড়িত।

এবিষয়ে জানতে সিলেট গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে ফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন