সিলেটে প্রবাসীর বাসা থেকে অর্ধকোটি টাকার বিদেশি মদ উদ্ধার

সিলেট মহানগরীর একটি আবাসিক বাসাকে গোপন বিদেশি মদের গুদাম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ ও বিয়ার উদ্ধার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-৯)। অভিযানে প্রাথমিকভাবে ছয় শতাধিক বোতল বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশি মদ ও বিয়ার জব্দ করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য অর্ধকোটি টাকারও বেশি। এ ঘটনায় বাড়িটির দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা এক প্রবাসীর ছোট ভাইকে প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত করেছে র‍্যাব। একই সঙ্গে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ দুইজন চালককে হেফাজতে নিয়ে তাদের সম্পৃক্ততাও তদন্ত করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সিলেট মহানগরীর ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের বালুচর নতুনবাজার সংলগ্ন একটি বাসায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

জানা যায়, র‍্যাব-৯ সিপিসি-১-এর একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে বাড়িটির নিচতলার একটি স্টোররুম থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ ও বিয়ার উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া মদের সঠিক সংখ্যা এখনো গণনা করা সম্ভব না হলেও প্রাথমিকভাবে ছয় শতাধিক বোতল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব। উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন নামিদামি ব্র্যান্ডের বিদেশি মদের আনুমানিক বাজারমূল্য অর্ধকোটি টাকারও বেশি।

র‍্যাবের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বাড়িটির দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা প্রবাসীর ছোট ভাই আবু সেত্তারের হেফাজতেই এসব বিদেশি মদ সংরক্ষণ করা হতো। সেখান থেকে সেগুলো বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় তাকে প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে অভিযান চলাকালে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ দুইজন চালককে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের ভূমিকা ও সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অভিযান শেষে র‍্যাব-৯ সিপিসি-১-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর সাদমান সাংবাদিকদের বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে বাসার নিচতলার একটি স্টোররুম থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ ও বিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো গণনা সম্পন্ন না হলেও প্রাথমিকভাবে উদ্ধার হওয়া মদের সংখ্যা ছয় শতাধিক বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিস্তারিত গণনা শেষে সঠিক সংখ্যা ও মূল্য জানানো হবে।

তিনি আরও বলেন, উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশি মদের আনুমানিক বাজারমূল্য অর্ধকোটি টাকারও বেশি। তবে গণনা শেষে প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করা হবে।

র‍্যাব জানায়, ঘটনায় বাড়িটির দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা আবু সেত্তারকে প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তার হেফাজতেই এসব বিদেশি মদ সংরক্ষণ করা হতো এবং সেখান থেকে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হতো বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

এছাড়া অভিযান চলাকালে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ দুইজন চালককে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধেও প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মেজর সাদমান বলেন, এটি ছিল একটি আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা গোপন মদের গুদাম। দীর্ঘদিন ধরে এখানে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদের চালান মজুদের তথ্য থাকলেও সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছিল না। ধারাবাহিক গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে গুদামটির অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর সফলভাবে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

তিনি জানান, উদ্ধার করা আলামত আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে। পাশাপাশি আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, মদগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হতো এবং কোথায় সরবরাহ করা হতো—সেসব বিষয়ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। র‍্যাবের দাবি, এই অভিযানের মাধ্যমে সিলেটে অবৈধ বিদেশি মদের একটি সম্ভাব্য সরবরাহ নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলেছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন