বৈষাম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সিলেটে পুলিশের গুলিতে সাংবাদিক এটিএম তুরাব নিহতের ঘটনায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সিলেট মহাননগর পুলিশের উপ কমিশনার আজবাহার আলী শেখসহ ৫১ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে মামলা করেছে তার পরিবার।
গত ১৯ আগস্ট ২০২৪ তারিখে দুপুর ১২টায় নিহত তুরাবের ভাই তুরাবের ভাই আবুল হোসেন মোহাম্মদ আজরফ জাবুর বাদী হয়ে অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সিলেটে মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাত আরো ২৫০ জনকে আসামী করা হয়েছে। কোতোয়ালি থানার মামলা নম্বর ২৬, জি.আর নম্বর ৫৭৭/২০২৪ ইং।
উল্লেখ্য, জাবের আহমদ এর বাবা আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে জৈন্তাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। জৈন্তাপুর থানার মামলা নম্বর ৮০, জি.আর নম্বর ১৬১/২০২১ইং।
তুরাব হত্যা মামলা আসামীরা হলেন-১। আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ, ২। মোঃ সাদেক দস্তগীর কাউছার (৪০), পিতা-অজ্ঞাত অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম উত্তর), সিলেট, ৩। আজবাহার আলী শেখ (৫০), পিতা-অজ্ঞাত, উপ-পুলিশ কমিশনার, এস.এম.পি, সিলেট, ৪। আতিকুর রহমান (৫২), পিতা-মৃত আব্দুল্লাহ মিয়া, সাবেক সভাপতি, জৈন্তাপুর উপজেলা ছাত্রলীগ, সাং- ছাতারখাই, ডাক- চতুল বাজার, থানা- জৈন্তাপুর, জেলা-সিলেট, ৫। কল্লোল গোস্বামী, ইনচার্জ, বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি, ৬। রনজিত সরকার, পিতা- মনমূহন সরকার, সাবেক সংসদ সদস্য, সুনামগঞ্জ (১নং আসন), সাং- ৯২ গোপালটিলা, টিলাগড়, সিলেট, ৭। ফজলুর রহমান, পরির্দশক (তদন্ত), কোতয়ালী মডেল থানা, সিলেট, ৮। রুহেল আহমদ, পিতা- ফিরোজ মেম্বর সভাপতি, সরকারী কলেজ ছাত্রলীগ কাউন্সিলর, ৩৪নং ওয়ার্ড, সিলেট সিটি কর্পোরেশন, সিলেট, ৯। নাজমুল ইসলাম, পিতা- অজ্ঞাত, সভাপতি, জেলা ছাত্রলীগ, সিলেট, ১০। প্রবাল চৌধুরী পুজন, পিতা- প্রদীপ চৌধুরী, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য, ১১। জাবের আহমদ (২৪), পিতা-আতিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক, জৈন্তাপুর উপজেলা ছাত্রলীগ, সাং-ছাতারখাই, ডাক-চতুল বাজার, থানা-জৈন্তাপুর, জেলা-সিলেট, ১২। মঈন উদ্দিন, পিতা- অজ্ঞাত, সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কোতয়ালী মডেল থানা এস.এম.পি. সিলেট, ১৩। সেবুল আহমদ উরফে সাগর (২৩) সভাপতি, ১৬নং ওয়ার্ড যুবলীগপিতা- রফিক মিয়া, মাতা-ছালেহা বেগম, ঠিকানা: ৪ আল-আমিন, চারাদিঘীরপার, সিলেট, ১৪। আব্দুর রহমান সুমেল (২২) সাধারণ সম্পাদক, ১৬নং ওয়ার্ড যুবলীগ, পিতা- বাদশা মিয়া, ঠিকানা: ৫৮ আল-আমিন চারাদিঘীরপার, সিলেট, ১৫। জাকারিয়া আহমদ হারুন (৫৩), পিতা- হাজী কাপ্তান মিয়া, মাতা-হুরুন্নাহার বেগম, ঠিকানা: চারাদিঘীরপার, সিলেট, ১৬। রুহান খান (২২), পিতা-আজাদ খান, মাতা- হাসনা বেগম, ঠিকানা: ৬৭ চারাদিঘীরপার, সিলেট, ১৭। শাবাজ খান ইফাত (২৪), পিতা- আলম খান, মাতা- আলেয়া বেগম, ঠিকানা: চারাদিঘীরপার, সিলেট, ১৮। আরিফ আহমদ (২৩), পিতা মো. মাজ উদ্দিন, মাতা-মোছা রিপা সুলতানা, সাং-ধরমপুর, রেঙ্গা হাজিগঞ্জ, থানা-মোগলাবাজার, জেলা সিলেট, ১৯। আজিজুল হাকিম উরফে রাজু (২৮), পিতা-আব্দুল লতিফ, মাতা- হারুনুর নেছা, ঠিকানা: চারাদিঘীরপার, সিলেট, ২০। শাহবাজ খান প্রিয়ম (২৪), পিতা- আলম খান, মাতা- আলেয়া বেগম, ঠিকানা: চারাদিঘীরপার, সিলেট, ২১। সাইদ আহমদ (২৮), পিতা-অজ্ঞাত, ঠিকানা: চারাদিঘীরপার, সিলেট, ২২। মোহাম্মদ আবুল ফজল উরফে খোকন (৪৮), পিতা- মোঃ আব্দুল করিম, মাতা-নুরুনেছা বেগম, ঠিকানা: ৩৫ সওদাগরটুলা, সিলেট, ২৩। শিপলু মিয়া (৩৬), পিতা- ইউনুস মিয়া, মাতা-ফাতেমা বেগম, ঠিকানা: ৪নং সওদাগরটুলা, সিলেট, ২৪। সনি আহমদ (৩৭), পিতা-অজ্ঞাত, ঠিকানা: মীরবক্সটুলা, সিলেট, ২৫। আকাশ, পিতা-আব্দুন নূর, ঠিকানা: চারাদিঘীরপার, সিলেট, ২৬। দাউদ, পিতা-অজ্ঞাত, ঠিকানা: চারাদিঘীরপার, সিলেট, ২৭। আশরাফ খান (২৫), পিতা-শাহজাহান খান, মাতা-মিনু বেগম, ঠিকানা: ৬৯ আল আমিন, চারাদিঘীরপার, সিলেট, ২৮। আইজল হোসেন (৩৫), পিতা- সফর আল, সাং-কৃষ্ণপুর, থানা- গোলাপগঞ্জ, জেলা-সিলেট, বর্তমান সাং-পশ্চিম সোনারপাড়া, শিবগঞ্জ, সিলেট, ২৯। আশরাফুল ইসলাম শাব্বির (৪৮), পিতা-মরহুম ফিরন্ন মিয়া, সাং-কে এম টিলা, মাইজগাঁও, থানা-ফেঞ্চুগঞ্জ, জেলা- সিলেট, ৩০। জুবেদ আহমদ চৌধুরী শিপু (৪৫), পিতা- মরহুম সাজ্জাদ আলী চৌধুরী, সাং-নুরপুর উত্তর টিলাথানা-ফেঞ্চুগঞ্জ, জেলা- সিলেট, ৩১। ইফতেখার ভূঁইয়া, পিতা-অজ্ঞাত, এএসআই, কোতয়ালী মডেল থানা এস.এম.পি. সিলেট, ৩২। সেলিম মিয়া, পিতা- অজ্ঞাত, কং/২১৬৮, কোতয়ালী মডেল থানা এস.এম.পি. সিলেট, ৩৩। আজহার, পিতা- অজ্ঞাত, কং/১৯৫৭, বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি কোতয়ালী মডেল থানা এস.এম.পি. সিলেট, ৩৪। ফিরোজ, পিতা- অজ্ঞাত, কং/২২৫৫, কোতয়ালী মডেল থানা এস.এম.পি. সিলেট, ৩৫। উজ্জ্বল, পিতা-অজ্ঞাত, কং/১৬০৩৩৬, ৩৬। খলিল, পিতা-অজ্ঞাত, কং/১৬৮৫, ৩৭। মাসুদ, পিতা- অজ্ঞাত, কং/১৬৯৩, ৩৮। শরীফ, পিতা- অজ্ঞাত, কং/১৬৫০, ৩৯। শিবালী, পিতা- অজ্ঞাত, কং/৩১৫০, ৪০। রুনু, পিতা-অজ্ঞাত, কং/৩৩১৫, ৪১। শরীফা, পিতা-অজ্ঞাত, কং/২৬৭৫, ৪২। এমরান, পিতা-অজ্ঞাত, কং/১৫৩০, ৪৩। ইমন, পিতা- অজ্ঞাত, কং/৩২৬৮, ৪৪। সবুজ, পিতা-অজ্ঞাত, কং/২৪৬৪, ৪৫। তানিয়া, পিতা- অজ্ঞাত কং/৩৩১৯, ৪৬। আফছানা, পিতা-অজ্ঞাত, কং/৩১০১, ৪৭। মারিয়া, পিতা- অজ্ঞাত, কং/৩৩১২, ৪৮। ঝুমা, পিতা-অজ্ঞাত, কং/৩১২৫, ৪৯। তানিয়া, পিতা- অজ্ঞাত, কং/৩৩১৩, ৫০। খলিল, পিতা-অজ্ঞাত, কং/৮৬৯, ৫১। কাজী রিপন সরকার, পিতা-অজ্ঞাত, এসআই, বিপি- ৯০১৭২০০০০৪, সর্ব থানা-কোতয়ালী মডেল থানা এস.এম.পি. সিলেটসহ অজ্ঞাতনামা ২০০/২৫০ জন।
ওই অভিযোগ থেকে জানা যায়, ১৯ জুলাই বেলা ১টা ৫৫ মিনিটে পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য সিলেট নগরের বন্দরবাজার এলাকার কোর্ট পয়েন্টে অবস্থান করছিলেন সাংবাদিক এ টি এম তুরাব। একপর্যায়ে বিএনপি মিছিল শুরু করলে তুরাব মিছিলের পেছনে অন্য সহকর্মীদের সঙ্গে অবস্থান নেন। মিছিলটি নগরের পুরান লেন গলির মুখে পৌঁছালে সশস্ত্র পুলিশ বিপরীত দিকে অবস্থান নেয়। এ সময় হঠাৎ লাগাতার গুলিবর্ষণের শব্দ শোনা যায়। এ সময় তুরাব গুলিবিদ্ধ হয়ে চিৎকার দিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তখন অন্য সহকর্মী ও পথচারীরা তুরাবকে উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় এবং তার শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়ে পড়ায় উন্নত চিকিৎসার তাকে নগরের সোবহানীঘাট এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা ৬টা ৪৪ মিনিটে তিনি মারা যান।