সিলেটে শ্রীরাম নবমী মহোৎসব শুরু ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার

মর্যাদা পুরোষোত্তম ভগবান শ্রীরাম চন্দ্রের শুভ আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে ৬ষ্ঠ বারের মতো দু’দিনব্যাপী শ্রীরাম নবমী মহোৎসব ২০২৬-এর আয়োজন করা হয়েছে। এই মহোৎসব সিলেট নগরের মিরাবাজারস্থ শ্রীশ্রী বলরাম জিউর আখড়ায় ‘শ্রীরাম নবমী উদযাপন পরিষদ শ্রীহট্ট’ এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে।

অনুষ্ঠানসূচির মধ্যে রয়েছে- ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় শ্রীরাম লালা শ্রীবিগ্রহের আগমন ও সমবেত বরণ অনুষ্ঠান, সন্ধ্যা ৭টায় শ্রীরাম লালার আরতি ও মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্জ্বলন, রাত ৮টায় শ্রীরাম ভজন সঙ্গীত ও স্তুতিপাঠ। ২৭ মার্চ শুক্রবার সকাল ৮টায় শ্রীরামের পূজার্চ্চনা, সকাল ১০টায় শ্রীরামের চরণ পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ, সকাল ১১টায় যজ্ঞানুষ্ঠান, দুপুর ১২টায় শ্রীরাম কথামৃত আলোচনা, দুপুর ১.৩০ মিনিটে সর্বস্তরের ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণ, বেলা ৩টায় ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সন্ধ্যা ৬টায় মর্যাদা পুরোষোত্তম ভগবান শ্রীরাম চন্দ্রের সন্ধ্যারতি ও সমবেত দীপদান, রাত ৮টায় অনুষ্ঠান সমাপন।

মহারাজভোগ ও যে কোনো অনুদান প্রদানে ০১৭৫৮-৩৬৪৬৮৬ (বিকাশ)-এ যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মর্যাদা পুরোষোত্তম ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের শুভ আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে দু’দিনব্যাপী আয়োজিত শ্রীরাম নবমী মহোৎসবে সর্বস্তরের ভক্ত-অনুরাগীকে উপস্থিত থাকার জন্য ‘শ্রীরাম নবমী উদযাপন পরিষদ শ্রীহট্ট’ এর আহ্বায়ক শ্রী রাজন মালাকার ও সদস্য সচিব শ্রী সন্দীপ চক্রবর্ত্তী (রূপক) বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, শ্রীরাম হলেন ভগবান শ্রীবিষ্ণুর সপ্তম অবতার। রাবণকে বধ করার জন্য ত্রেতাযুগে অবতীর্ণ হয়েছিলেন ভগবান শ্রীরাম। শ্রীরাম মর্যাদাপুরুষোত্তম নামেও পরিচিত। শ্রীরাম মর্যাদা অনুসরণ করতে গিয়ে অনেক আদর্শ উপস্থাপন করেছিলেন। তিনি কখনও সপ্ত-মর্যাদা উল্লঙ্খন করেননি। তাই তাঁকে সপ্ত-মর্যাদা পুরুষোত্তম বলা হয়। সনাতন ধর্মে শ্রীরামচন্দ্র ছিলেন অন্তহীন প্রেম, সাহস, শক্তি, ভক্তি, কর্তব্য ও মূল্যবোধের উৎকৃষ্ট উদাহরণ। সপ্ত-মর্যাদা পুরুষোত্তম ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের সাত প্রকারের ভক্তির কথা ঐতিহাসিক গ্রন্থ শ্রীশ্রী রামায়ণে উল্লেখ রয়েছে। (১) ধর্মের প্রতি অগাধ বিশ্বাস (২) পিতৃভক্তি (৩) মাতৃভক্তি (৪) ভ্রাতৃপ্রীতি (৫) পত্নীপ্রেম (৬) ভৃত্যাবাৎসল্য ও (৭) প্রজা বাৎসল্য তথা দেশমাতৃকার প্রতি ভক্তি। প্রভু শ্রীরামচন্দ্রের শাসনামলে উপরোক্ত সাতটি মর্যাদা সর্বস্তরে বিরাজরাম ছিল। ওই সময়ে সপ্ত-মর্যাদার কোনো উল্লঙ্খন হয়নি। তাই সকলের হৃদয়ে শ্রীরামচন্দ্রের ভাবনা থাকা উচিত। কারণ এটিই জীবনের মূল ভিত্তি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন