
সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গত ১৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং নবগঠিত তথাকথিত ‘সোনালী দল’-এর ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। উক্ত সংবাদগুলোতে সাদা দলের সম্মানিত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ‘মব সৃষ্টি’ এবং উপাচার্য মহোদয়সহ অন্যদের ওপর হামলার যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। সাদা দল এ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
প্রকৃত ঘটনা ও সাদা দল-এর বক্তব্য
বিগত ১৪/০২/২০২৬ তারিখ রোজ শনিবার বিকেল ৩ ঘটিকায় সাদা দলের সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত (কপি সংযুক্ত) মোতাবেক ১৫/০২/২০২৬ তারিখ রোজ রবিবার ১২ টা ৫০ মিনিটে পূর্বানুমতির প্রেক্ষিতে প্রোটকল মেনে সাক্ষাতের জন্য সাদা দলের সদস্যবৃন্দ সকলেই মাননীয় উপাচার্যের কার্যালয়ে উপস্থিত হই । আলোচনার শেষ মুহুর্তে উপস্থিত প্রফেসর ড. জসিম উদ্দিন আহাম্মদ, প্রক্টর, সিকৃবি, সিলেট, রাগান্বিত হয়ে সাদা দলের বর্তমান সভাপতি এবং সহ সভাপতির উপর তেড়ে আসেন। তাৎক্ষণিকভাবে প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুব ইকবাল নিবৃত করতে গেলে তাঁকে আঘাত করা হয়। মাননীয় উপাচার্যের সরবরাহকৃত সিসি ফুটেজ এ লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, সাদা দলের ৪/৫ জন শিক্ষককে উপাচার্য মহোদয়ের অনুসারী ও সুবিধাভোগী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সহায়তায় লাঞ্চিত করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে বর্তমান উপাচার্য মহোদয় তার হীনস্বার্থ চরিত্রার্থে জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী শিক্ষকদের মাঝে বিভাজন তৈরি করে আসছেন এরই ধারাবাহিকতায় বিগত ১৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং ‘সোনালী দল’ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে বলে কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, সিকৃবিতে জাতীয়তাবাদী আদর্শের অনুমোদিত একমাত্র বলিষ্ঠ প্ল্যাটফর্ম হলো ‘সাদা দল’ যা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মলগ্ন হতে বিগত ফ্যাসিস্ট আমলেও নানাভাবে নিপীড়িত হয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ধারন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছেন। অথচ তথাকথিত ভিত্তিহীন অননুমোদিত সোনালী দল পূর্ব পরিকল্লনায় নাটকীয়ভাবে দুর্দিনের জাতীয়তাবাদীর পতাকা ধারনকারী সাদা দলের সম্মানিত সদস্যদের উপর পূর্ব পরিকল্পিত হামলা করেন। উক্ত ব্যক্তিবর্গ নিজেদের ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল এবং প্রশাসনিক অনিয়মকে আড়াল করার উদ্দেশ্যেই এই ভুঁইফোড় সংগঠনটি সাদা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে।
সংবাদে উল্লিখিত ‘মব সৃষ্টি’ বা উপাচার্য মহোদয়কে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। বরং উপাচার্য মহোদয় নিজেই সাদা দলের শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবি শুনতে অস্বীকার করেন এবং উনার সহযোগী কয়েকজন শিক্ষক বিশেষ করে প্রফেসর ড. মো. জসীম উদ্দীন আহাম্মদ, প্রফেসর ড. মো. মাছুদুর রহমান ও প্রফেসর ড. মো. সামিউল আহসান তালুকদার উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করেন এবং ন্যায়সঙ্গত আলোচনাকে নস্যাৎ করেন। উক্ত সুবিধাভোগী শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে সাদা দলের শিক্ষকদের উপর আক্রমন করেন।
উল্লেখ্য যে, উচ্চাভিলাষী এই তিন শিক্ষক আমাদের দেশনেত্রী পৃথিবী হতে চির বিদায়ের মূহুর্তে সারাদেশ যখন শোকাহত তখন গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত সাদা দলের কার্যনির্বাহী কমিটিকে মেয়াদ পূর্তির পূর্বেই অনৈতিকভাবে নতুন কমিটি গঠনের জন্য চাপ প্রয়োগ করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো: আলিমুল ইসলাম কর্তৃক শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, যোগ্যদের পদোন্নতি হতে বঞ্চিত করা এবং ইউজিসির অভিন্ন নীতিমালা লঙ্ঘন করায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদেরে মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। উপাচার্য মহোদয় শিক্ষান্নোয়নে কোন কাজ না করে উপরোন্ত ঠুনকো অজুহাতে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফলাফল আটকিয়ে দেওয়া, শোকজ করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে শোকজ ও সাময়িক বহিষ্কার ও চরম দুর্ব্যবহারের মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন। এতে করে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যহত হচ্ছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণ ও কেনাকাটায় দুর্নীতি এবং অনিয়ম পরিলক্ষিত হচ্ছে। এর প্রতিবাদে সাদা দলের শিক্ষকেরা দীর্ঘদিন ধরে গণতান্ত্রিকভাবে আপত্তি জানিয়ে আসছেন।
আমরা সাদা দল সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে বস্তুনিষ্ঠ সত্য সংবাদ পরিবেশন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছি। একইসাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রকার প্রশাসনিক অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাদা দলের আপসহীন সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। শিক্ষকদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষায় আমরা কোনো প্রকার অপশক্তির কাছে মাথানত পূর্বেও করিনি, এখনও করব না। এ ধরনের ন্যাক্কারজনক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সুষ্ঠ নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তিদের বিচার দাবি করছি।