সিলেটের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল কদমতলী। এখান থেকে প্রতিদিন শত শত বাস ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছেড়ে যায়। সেই টার্মিনালের সামনের প্রধান সড়কটির অবস্থাই বেহাল। দুই লেনের ওই সড়কের একাংশে কদমতলী পয়েন্ট পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। উঠে গেছে পিচ। সামান্য অংশ ভাঙাচোরার কারণে ভোগান্তিতে পড়ছে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। আরেক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা নগরীর ব্যস্ততম বন্দরবাজার থেকে মিরাবাজার-টিলাগড়-মেজরটিলা সড়ক। বন্দরবাজারের হকার্স পয়েন্ট থেকে শিশুপার্ক পর্যন্ত অংশে একইভাবে গর্ত আর পিচ উঠে গেছে। অন্যান্য এলাকাতেও সৃষ্টি হয়েছে গর্তের।
শুধু সড়কে ভাঙাচোরা নয়, নির্মাণকাজেও বাড়ছে নাগরিক ভোগান্তি। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নগরীর হুমায়ুন রশিদ চত্বর থেকে চন্ডিপুল পর্যন্ত সড়ক নির্মাণকাজের কারণে দুই মাস ধরে ভোগান্তির শেষ নেই। সড়কের এক অংশ দিয়ে যানবাহন চলাচল করায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে স্থানে স্থানে। ব্যস্ততম সড়ক ছাড়াও নগর এলাকার বিভিন্ন রাস্তায় অংশ বিশেষ ভাঙাচোরার কারণে প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন নগরবাসী। বাস ও ট্রাক ছাড়াও শত শত হালকা যানবাহন চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে।
একাধিক চালক জানিয়েছেন, প্রায় সবক’টি রাস্তার মাঝে মাঝে ভাঙা ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ভোগান্তির পাশাপাশি ভাঙা অংশে ধীরগতির কারণে যানজটেরও সৃষ্টি হয় বলে জানান সিলেট-তামাবিল সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক ফয়েজ আহমদ।
খোদ নগর এলাকায় ভাঙা রাস্তার বিষয়টি জানার পর দ্রুত সংস্কার ও চলমান কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় এমপি ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি গত ২৬ জুলাই সার্কিট হাউসে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ নির্দেশ দেন।
তিনি নগরীর আম্বরখানা থেকে লাক্কাতুরা পর্যন্ত নতুন সড়ক নির্মাণ, সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ-মৌলভীবাজার সড়ক প্রশস্তকরণ এবং ওসমানী বিমানবন্দর থেকে লাক্কাতুরা হয়ে টিবি গেট পর্যন্ত বিকল্প সড়ক নির্মাণের উদ্যোগের কথাও বলেন।
সিলেট সিটি করপোরেশনের ২৯টি ওয়ার্ড থাকা অবস্থায় আয়তন ছিল ২৬ দশমিক ৫০ বর্গকিলোমিটার। রাস্তার পরিমাণ ছিল প্রায় ৭শ কিলোমিটার। ২০২২ সালে ১৫টি ওয়ার্ড বর্ধিত করলে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ৪২টিতে। সেই সঙ্গে আরও ৫৩ বর্গকিলোমিটার আয়তন বৃদ্ধি পায়। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা বর্ধিত ওয়ার্ডগুলোর রাস্তাঘাটের। সেখানের ৯৫ ভাগ রাস্তা ও ড্রেনের কাজ করা লাগবে বলে জানিয়েছেন সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী আলী আকবর। তিনি জানান, তাদের আওতাধীন নগর এলাকার রাস্তা প্রায় ১৪শ কিলোমিটার। ইতোমধ্যে বর্ধিত এলাকার বেশকিছু রাস্তা ও ড্রেনের কাজ শুরু হয়েছে। বৃষ্টি শেষ হলে ভাঙাচোরা রাস্তার কাজ শুরু হবে।
সিসিকের রাস্তা ছাড়াও প্রায় ৪৫ কিলোমিটার রাস্তা রয়েছে সড়ক ও জনপথের আওতাধীন। তাদের রাস্তাগুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নগরীর রিকাবিবাজার-মিরের ময়দান সড়ক বাদে সবক’টি প্রধান সড়ক সওজ দেখভাল করে। প্রধান প্রধান সড়কের মধ্যে বাস টার্মিনাল এলাকা, বন্দরবাজার সড়ক, চন্ডিপুল এলাকা ছাড়াও অসংখ্য ছোট সড়ক রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি প্রধান সড়কের বেহাল হয়ে পড়েছে। সওজ ছাড়াও সিসিকের আওতাধীন বিভিন্ন পাড়ামহল্লার সড়কের মধ্যে মুন্সিপাড়া-মিরের ময়দান, দরগাহ মহল্লার পায়রা গলি, দাড়িয়াপাড়া, হাউজিং এস্টেট, টুকেরবাজারসহ বিভিন্ন মহল্লার সড়কে ভাঙাচোরা দেখা গেছে।
কেওয়াপাড়ার বাসিন্দা সুমন আহমদ জানান, দুই বছর ধরে রাস্তাটি ভাঙা। কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও হয়নি। রিকশাচালকরা পাড়ার ভেতর ভাঙার কারণে ঢুকতে চান না।
সওজ সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী খায়রুল বাশার মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন জানান, চন্ডিপুল থেকে লালাবাজার রাস্তার টেন্ডার হয়েছে। হুমায়ুন রশিদ চত্বর থেকে চন্ডিপুল পর্যন্ত আরসিসি রাস্তার কাজ চলছে। বন্দরবাজার এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি পিচের পরিবর্তে আরসিসি ঢালাই করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
- সিসিকের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, রাস্তা নিয়ে দুর্ভোগের কারণে একাধিক এলাকায় কাজ শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বর্ধিত এলাকায় কাজ চলছে। পুরোনো এলাকার মধ্যে কাজিরবাজার, মিরাবাজার-আগপাড়ার রাস্তাসহ একাধিক রাস্তা ও ড্রেনের কাজ চলছে। কোনো রাস্তার কাজ শেষও হয়েছে।
