সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক চার লেন প্রকল্পে বদলে যাচ্ছে শান্তিগঞ্জ উপজেলা সদরের ২ কিলোমিটার। এরই মধ্যে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের প্রায় ৪০ ভাগ কাজ সম্পন্ন করেছেন। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে কমে আসবে যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা। স্থানীয়দের দাবী শান্তিগঞ্জ উপজেলা সদরের ২ কিলোমিটার চারলেন প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন।
জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ৭৫ কোটি ৯৩ লাখ ২৮ হাজার ২৫২ টাকা ব্যয় ধরে সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে এম এম বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড। প্রকল্পের কাজটি গত ২৫ অর্থ বছরের অক্টোবর মাস থেকে শুরু হলে শেষ হবে ২০২৭ সনের জুন মাসে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিয়ম ও ওয়ার্ক ওর্ডার অনুযায়ী বাস্তবায়ন করছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কর্মকর্তারা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শান্তিগঞ্জ উপজেলার শান্তিগঞ্জ বাজারের পূর্ব অংশে ও মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহা সড়কে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এরই মধ্যে প্রায় ৪০ ভাগ কাজ সম্পন্ন করেছেন তারা। সড়কটির টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের সামন থেকে উজানীগাওস্থ শিল্প ও কারিগরী সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক) এর সামন পর্যন্ত ২ কিলো মিটার ২ লেন থেকে ৪ লেনে উন্নিতি করা হবে। এর মধ্যে সড়কের শান্তিগঞ্জ বাজারের পূর্ব অংশের দক্ষিণ পাশ হতে শান্তিগঞ্জ কার্প হ্যাচারী পর্যন্ত ২ লেনের ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে। এই অংশের উত্তর পাশেও চলছে মাটি ও ড্রেসিং এর কাজ। দ্রুত গতীতেই অগ্রসর হচ্ছে প্রকল্পটি। তবে সড়কের পাশে থাকা গাছ ও বিদ্যুতের পিলার থাকায় কিছুটা বিড়ম্ভনায় পড়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। গাছ ও বিদ্যুতের পিলার অপসারন করা হলে কাজের গতি আরো বৃদ্ধি পাবে।
স্থানীয় জনসাধারণ ও শান্তিগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, আমাদের এই সড়কটি ছোট থাকায় প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হতো যাত্রীদের। এখানে দুর্ঘটনা প্রবন সড়ক হিসেবে পরিচিত এই এলাকা। প্রতিবছরই সদরপুর থেকে উজানীগাঁও মোড় পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় পড়ে কেউ মারা যাচ্ছেন, আবার কেউ পঙ্গুত্ববরণ করে কোন মতে বেচে আছেন। সড়কটি ৪ লেন সড়কে উন্নীত হওয়ায় সড়কে দুর্ঘটনা কমে আসবে। পাশাপাশি সড়০কের আশপাশে গড়ে উঠা বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আবাসিক প্রতিষ্ঠান, উপজেলা প্রশাসনের প্রতিষ্ঠান আছে। সবার চলাচল নিরাপদ হবে। আমরা চাই সিলেট থেকে সুনামগঞ্জ পর্যন্ত এই সড়কটি ৪ লেন করা হোক।
সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ব বিদ্যালয়ের প্রক্টর সেখ আব্দুল লতিফ জানান, ‘সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ব বিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস ও প্রশাসনিক ভবন এই এলাকায় থাকায় ৪ লেন প্রকল্পটি আমাদের জন্য আশ্বিরবাদ। এই এলাকায় অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে শুধুমাত্র সড়কটি ছোট থাকার কারণে। এখন সড়কটি ৪ লেন করা হচ্ছে। প্রকল্পের কাজ সঠিক মতো বাস্তবায়ন করলে, এর সুফল পাবে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সহ এই এলাকার মানুষ। ’
শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সুহেল তালুকদার জানান, ‘সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহা সড়কের শান্তিগঞ্জ বাজার এলাকার পূর্ব পশ্চিম অংশ মিলে, এখানে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ভবন, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ব বিদ্যালয়, উপজেলা পরিষদ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ফায়ার সাভির্স, শিল্প ও কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক), টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট, আব্দুল মজিদ কলেজ, শান্তিগঞ্জ থানা ভবন, শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাব, মুক্তিযুদ্ধা কমপ্লেক্স, শান্তিগঞ্জ কার্প হ্যাচারী সহ সরকারি বেসরকারী অনেক প্রতিষ্ঠানের ভবন আছে। প্রতি দিনে এখানে কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। এই প্রকল্পটি এই প্রতিষ্ঠান গুলো ও এলাকাবাসীর জন্য আশ্বিরবাদ। আমরা চাই প্রকল্পের কাজটি দ্রুত সহময়ের মধ্যে শেষ হোক। ’
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এম এম বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড এর প্রজেক্ট ম্যানেজার, ইঞ্জিনিয়ার সাকিব আল হাসান জানান, ‘আমার যথাযত ভাবে নিয়ম ও ওয়ার্ক ওর্ডার অনুযায়ী কাজ করছি। প্রতিনিয়তই এই কাজটি তদারকি করছেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা। এখানে অনিয়ম দুর্নীতির কোন সুযোগ নাই। কিছু দিনে আগে এক ভাই না বোঝে বিভ্রান্তি ছড়েয়েছেন। এখানে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে আমাদের কাজের এক্সপেনশন জয়েন্টের কক শীট ঢায়ের ১ ইঞ্চি নিচে চলে গিয়েছিল। এই জয়েন্টকে তিনি ফাটল বলে স্যোসাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেছেন। প্রকৃত অর্থে এটা ফাটল নয়। এটা আমাদের ঢালাইয়ের এক্সপেনশন জয়েন্ট। পরে উর্ধ্বতন কর্মপক্ষ এসে দেখে গেছেন। তারা ফাটলের কোন সত্যতা পাননি। সড়ক ও জনপথ বিভাগের কাজে অনিয়ম দুর্নীতি করার কোন সুযোগ নাই।’
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জের সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলী আতাউর রহমান জানান, ‘ এই কাজটি খুবই নান্দনিক ও দৃষ্টি নন্দন কাজ। আমরা নিয়মিত তদারকি করে আসছি। কাজের মান খুবই ভালো। সড়কটি বাস্তবায়ন হলে এই ২ কিলো মিটার সড়কে দুর্ঘটনা কমে আসবে।’
