সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ (সিউক) এর চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেছেন, সিলেটকে চোখ ধাঁধানো পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ার মহাপরিকল্পনা গ্রহন করা হবে এবং অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হবে।
সিলেটের সার্বিক উন্নয়ন, পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং এই অঞ্চলকে একটি আধুনিক ও বিশ্বমানের দৃষ্টিনন্দন পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে ‘সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ (সিউক)।
আজ ২৩শে আগস্ট (রবিবার) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদা) রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এই নতুন দিগন্তের শুভ সূচনা ঘোষণা করেন।
তিনি জানান, আগামী ২৫শে আগস্ট (মঙ্গলবার) বেলা ১২:৩০ মিনিটে ফরচুন গার্ডেনে (২৯/এ নাইওরপুল, সিলেট) সিউক-এর অস্থায়ী কার্যালয় ও কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হবে।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, এমপি। অনুষ্ঠানে সম্মানিত উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, এমপি। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, এমপি; গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমাদ সোহেল মনজুর, এমপি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, এমপি উপস্থিত থাকবেন।
‘সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন ২০২৩’ অনুযায়ী গঠিত এই কর্তৃপক্ষ সিলেট মহানগরীর ৭৯.৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা এবং এর সাথে সিলেট সদর, দক্ষিণ সুরমা, গোলাপগঞ্জ ও বিশ্বনাথ—এই ৪টি উপজেলার প্রায় ১৯৯ বর্গকিলোমিটার এলাকাসহ সর্বমোট প্রায় ১৯৯৫ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে সিউক-এর আওতাভুক্ত করার প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।সিউকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২১ সদস্যবিশিষ্ট এই সংস্থায় চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে ৪ জন সদস্য, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের প্রতিনিধি, ৩ জন বিশিষ্ট নাগরিক এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধি থাকবেন। একজন নির্বাহী পরিচালক সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
ইতিমধ্যেই সিউকের রাজস্ব খাতে ৬৭টি ক্যাটাগরিতে ৭১৪টি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্থায়ী দপ্তরের জমির জন্য আবেদন করা হয়েছে।প্রেস ব্রিফিংয়ে সিউকের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, সিউকের আওতাভুক্ত এলাকায় ভূমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন।
সংযোগ সড়ক, বাইপাস, উড়াল সেতু ও ফ্লাইওভার নির্মাণ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন।পর্যটন ও পরিবেশ রক্ষা: পাহাড়, টিলা ও নদী-খাল অপরিবর্তিত রেখে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখা এবং মাস্টারপ্ল্যানে পর্যটন অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত স্থানে পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ।
আবাসন প্রকল্পে গ্রীন বিল্ডিং সার্টিফিকেশনের ব্যবস্থা, ফ্ল্যাট নির্মাণ, পার্ক, খেলার মাঠ ও ফুটপাত নির্মাণসহ পর্যাপ্ত বনায়ন।স্বচ্ছতা ও কর্মসংস্থান: ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার স্থাপন, আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর কর্মপরিবেশ সৃষ্টি এবং স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনবল নিয়োগ।
উদ্বোধনের পরপরই সরকারি সব দপ্তর, পেশাজীবী সংগঠন, স্থপতি, ডেভেলপার ও সুশীল সমাজের সাথে সিউকের সমন্বয় সভা, মতবিনিময় এবং আধুনিক নগর বিষয়ক সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজন করা হবে। চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী সিলেটের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে গণমাধ্যমকর্মীদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন ও গঠনমূলক পরামর্শ দিয়ে পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।