সীমান্তে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াল বিজিবি

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী জনপদগুলোতে শীত মৌসুম এলেই চিত্রটি প্রায় একই থাকে-চরম দারিদ্র্য, অপ্রতুল সরকারি সহায়তা আর কনকনে ঠান্ডায় অসহায় মানুষের নীরব কষ্ট। সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি যেখানে সীমিত, সেখানে মানবিক সহায়তায় কার্যত ভরসা হয়ে উঠছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

(৫ জানুয়ারি) সকালে হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (৫৫ বিজিবি) উদ্যোগে গুইবিল সীমান্ত এলাকায় দুই শতাধিক শীতার্ত ও দুঃস্থ মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।

২ নম্বর আহমেদাবাদ ইউনিয়নের গুইবিল বিওপির আওতাধীন ‘মন্দিরের মাঠ’ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই কার্যক্রমে অংশ নেন মূলত সীমান্তঘেঁষা দরিদ্র পরিবারের নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা। কুয়াশাচ্ছন্ন শীতের সকালে কম্বল হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন স্থানীয় বৃদ্ধা রহিমা খাতুন (৭০)।

তিনি বলেন, এই শীতে খুব কষ্টে আছিলাম। বিজিবি আমাগো খোঁজ রাখছে-এইডাই অনেক বড় কথা। রহিমার মতো আরও অনেক নারী, শিশু ও বৃদ্ধের চোখে-মুখে তখন কৃতজ্ঞতার ছাপ। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিবছর শীত মৌসুমে এই এলাকাগুলোতে সরকারি পর্যায়ের সহায়তা সময়মতো পৌঁছায় না। অনেক ক্ষেত্রেই ইউনিয়ন বা উপজেলা পর্যায়ের বরাদ্দ সীমিত থাকায় প্রকৃত উপকারভোগীরা বাদ পড়ে যান। এমন বাস্তবতায় বিজিবির উদ্যোগকে তারা ‘রাষ্ট্রের মানবিক মুখ’ হিসেবে দেখছেন।

শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান। তিনি বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা আমাদের মূল দায়িত্ব হলেও সীমান্ত এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও দুর্দিনে পাশে দাঁড়ানো বিজিবির নৈতিক অঙ্গীকার। তিনি আরও বলেন, এই শীতে মানুষের কষ্ট আমাদের নাড়া দিয়েছে। সামর্থ্য অনুযায়ী আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়- সীমান্তের এই মানুষগুলোর শীতের দুর্ভোগ লাঘবে কি কেবল নিরাপত্তা বাহিনীর মানবিক উদ্যোগই ভরসা? স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, পর্যাপ্ত সরকারি বরাদ্দ এবং সঠিক তালিকাভুক্তির অভাবে সীমান্ত জনপদের মানুষ প্রতিবছর একই সংকটে পড়ে। অনুষ্ঠানে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয়রা বিজিবির মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন