সড়ক ও গাইড ওয়ালে ধস ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার হামরকোনা গ্রামের কাছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি সড়ক ও পার্শ্ববর্তী গাইড ওয়াল ধসে পড়েছে। স্থানীয় সচতেন মহলের অভিযোগ ঠিকাদার অপরিকল্পিত ও নিম্নমানের কাজ করার ফলে অল্প দিনের ব্যবধানে রাস্তাটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। এতে স্থানীয় জনসাধারণ ও শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।

অন্যদিকে বর্ষার মৌসুম আসায় অতিবৃষ্টি ও ঢলের পানির তীব্র স্রোতে সড়কটি ভেঙে গেলে বন্যাকবলিত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন আশপাশ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ।

সওজ ও স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সিলেট-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কের পুরাতন অংশ কুশিয়ারা নদীর বদ্ধ ফিশারির তীরঘেঁষে হামরকোনা ও দাউদপুর গ্রামের মধ্য দিয়ে চলে গিয়ে বর্তমান মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ১৯৭৭ সালে রাস্তাটি বানের পানির তীব্র স্রোতের চাপে ভেঙে যায়। তখন প্রায় এক কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিম দিকে ব্রাহ্মণগ্রামের পয়েন্ট থেকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ঘুরিয়ে নেওয়া হয়।

পরে সওজের রাস্তার পুরাতন অংশ মেরামত করে দেয়। ফলে হামরকোনা, দাউদপুর, নাদামপুর, শেখহাটি, ব্রাহ্মণগ্রাম, মোবারকপুরসহ আরও কয়েকটি গ্রামের মানুষ রাস্তা দিয়ে চলাচল করেন। এরপর থেকে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে একাধিকবার রাস্তাটিতে মাটি ভরাট ও ইট সলিংয়ের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। কিন্তু প্রতি বছর বর্ষা এলেই স্রোতের দাপটে সড়কে ভাঙন দেখা দেয়। এতে বানকবলিত হতেন স্থানীয়রা।

পরবর্তী সময়ে ভুক্তভোগী মানুষের আবেদন-নিবেদনে গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দু’দফা সওজ বিভাগ সড়কটি সংস্কার, নদী অংশে বল্লী দেওয়া ও গাইডওয়াল নির্মাণে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। দুই কিস্তিতে সওজ টাকা বরাদ্দ দেয় ৯০ লাখ ও এক কোটি ২৭ লাখ টাকা। সে সময় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যেনতেনভাবে কাজ করে বিল উঠিয়ে নেয়। তখন স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক স্থানীয় নেতা মোবাইলে লাইভ করে নিম্নমানের কাজের ফিরিস্তি দেন। এ খবর পেয়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হুমকি দিয়ে সেই পোস্ট সরাতে বাধ্য করেন।

ভুক্তভোগী হামরকোনা গ্রামের প্রবাসে থাকা রুবেল আহমদ জানান, গত বছর বর্ষার সময় সড়কের সংস্কারকাজ ও গাইড ওয়াল নির্মাণের এক বছর না যেতেই ধসে পড়তে শুরু করে। তখন ব্যক্তিগত অর্থায়নে তিনি বাঁশ পুঁতে ধস ঠেকাতে চেষ্টা করেন। এ বছর ফের অতিবৃষ্টি শুরু হলে ফুঁসে ওঠে বদ্ধ ফিশারি। ধসে পড়ে গাইড ওয়াল ও পাকা সড়ক। এ সময় নদীভাঙনে মানুষের মাঝে বন্যা আতঙ্ক বিরাজ করে। পানি কিছু নেমে গেলেও সড়ক ধসে পড়া থামছে না। সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য ও দাউদপুর গ্রামের অধিবাসী আবুল হোসেন জানান, এই উন্নয়ন কার্যক্রম যখন সম্পন্ন হয় তখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন ছিল। ঠিকাদার ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা।

মৌলভীবাজার সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কায়সার হামিদ বলেন, বিভিন্ন ধাপে হামরকোনা-দাউদপুর অংশের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। সড়কের পাশ অনেক গভীর হওয়ায় গাইড ওয়াল ও পাকা সড়কের অংশ বিশেষ ধসে পড়েছে। পাউবোর সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন