ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসবমুখর পরিবেশ এবং ২০ হাজারেরও বেশি ভক্ত-দর্শনার্থীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সিলেটে উদযাপিত হয়েছে শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের পবিত্র স্নানযাত্রা মহোৎসব।
সোমবার (২৯ জুন) সকাল ১০টায় ইসকন সিলেট মন্দিরে শুরু হওয়া দিনব্যাপী এ আয়োজনে সিলেটের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, নারী, পুরুষ ও শিশুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে মন্দির প্রাঙ্গণ উৎসবের মিলনমেলায় পরিণত হয়।
ইসকন বাংলাদেশের সহ-সভাপতি ও ইসকন সিলেট মন্দিরের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ ভক্তি অদ্বৈত নবদ্বীপ স্বামী মহারাজ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেটে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাস। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দেবামৃত নিতাই দাস।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অনিরুদ্ধ দাস বলেন, ধর্মীয় উৎসব মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে। শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি মানবিক মূল্যবোধ, সহনশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল প্রতীক।
তিনি আরো বলেন, এ ধরনের আয়োজন সমাজে শান্তি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক সম্মানবোধ জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সভাপতির বক্তব্যে শ্রীমৎ ভক্তি অদ্বৈত নবদ্বীপ স্বামী মহারাজ বলেন, জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা ভক্তি, সেবা ও মানবকল্যাণের শিক্ষা দেয়। তিনি সকলকে সম্প্রীতি, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইসকন সিলেট মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক ভাগবত করুণা দাস ব্রহ্মচারী, ইসকন ইয়ুথ ফোরামের কো-অর্ডিনেটর দেবর্ষি শ্রীবাস দাস ব্রহ্মচারী, সিলেটের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
দিনব্যাপী আয়োজনে বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ, পূজা-অর্চনা, কীর্তন এবং শ্রীশ্রী জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রা মহারনীর মহাস্নান অনুষ্ঠিত হয়। ২০ হাজারেরও বেশি ভক্ত ও দর্শনার্থী দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে স্নানযাত্রায় অংশ নেন এবং ভক্তিভরে পূজা-অর্চনা করেন।
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সবার মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। বিপুল জনসমাগম, সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা এবং সম্প্রীতির বার্তায় এবারের স্নানযাত্রা মহোৎসব ইসকন সিলেটে এক অনন্য ধর্মীয় ও সামাজিক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

