সংসদ সদস্যকে পাত্তাই দিচ্ছেন না উপজেলা প.প কর্মকর্তা, স্থানীয় মহলে ক্ষোভ

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সীমা সিদ্দিকার বিরুদ্ধে স্থানীয় সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠুকে অবজ্ঞা-অবহেলার অভিযোগ ওঠেছে। তিনি যেন নির্বাচিত এই সংসদ সদস্যকে পাত্তাই দিচ্ছেন না। তার এই আচরণকে শুধু সংসদ সদস্যকে নয়, পুরো বড়লেখার জনগণকে অসম্মান করছেন বলে অনেকেই মনে করছেন।

এ নিয়ে বিএনপি পরিবার ও খোদ সীমা সিদ্দিকার দপ্তরের কর্মচারীদের মধ্যেও চাপা ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। অভিযোগ রয়েছে, সীমা সিদ্দিকা বড়লেখায় যোগদানের পর থেকে নানা স্বেচ্ছাচারিতা, বিতর্কিত কর্মকান্ড এবং মাঠকর্মীদের সাথে অসদাচরণ করে যাচ্ছেন। তার বেপরোয়া কর্মকান্ডে নিজ বিভাগের কর্মচারিরা অতিষ্ট।

জানা গেছে, নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু এমপি শপথ নেওয়ার পরের সপ্তাহে (২২ ফেব্রুয়ারি) হাসপাতালে গিয়ে জনবল সংকট নিরসন, সেবার মান বাড়ানো ও সেবা প্রদানের প্রতিবন্ধকতা নিরসনের লক্ষ্যে সমস্যা চিহ্নিত ও সমাধানের ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করতে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, মেডিকেল অফিসার, নার্সসহ প্রত্যেক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের সাথে মতবিনিময় সভা করেন। পূর্ব নির্ধারিত ওই সভায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রত্যেকেই অংশগ্রহণ করেন নিজ বিভাগের সমস্যা তোলে ধরেন। কিন্তু একই বিল্ডিংয়ে নিজ কার্যালয়ে অবস্থান সত্ত্বেও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সীমা সিদ্দিকা নব নির্বাচিত সংসদ সদস্যের গুরুত্বপূর্ণ এই মতবিনিময় সভায় যাননি। অথচ অন্তহীন সমস্যায় জর্জরিত উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ।

এদিকে নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর সোমবার (১৮ মে) সকালে প্রথমবারের মতো হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় আড়াই বছর পর (সর্বশেষ ২০২৩ সালে তৎকালিন মন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়।) স্থানীয় সংসদ সদস্যের সভাপতিত্বে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির অনুষ্ঠিত হয়। হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন। সভার সভাপতি নাসির উদ্দিন এমপি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কার্যক্রম, সমস্যা-সংকট সম্পর্কে অবহিত হতে ওই বিভাগের কর্মকর্তা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সীমা সিদ্দিকাকে সভায় পাওয়া যায়নি। খোঁজ করা হলে তিনি সভায় উপস্থিত না হয়ে তার কার্যালয়ের এক কর্মচারিকে সভায় পাঠান। এতে দপ্তরের প্রকৃত চিত্র জানতে না পারায় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি, সদস্যসচিব-সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ক্ষুব্দ হন।

এব্যাপারে সংসদ সদস্য ও বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু জানান, শপথ নেওয়ার পরই নিজ নির্বাচনি এলাকার প্রত্যেকটি দপ্তরের খোঁজ খবব নিতে পর্যায়ক্রমে তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের সাথে মতবিনিময় করেছেন। দপ্তরের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা নিরসনের উদ্যোগ নিচ্ছেন। গত ২২ ফেব্রুয়ারি তিনি বড়লেখায় প্রথম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন, কর্মচারী-কর্মকর্তাদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করেন। হাসপাতালের সার্বিক বিষয়াদি অবহিত হয়ে তাৎক্ষণিক কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেন। কিন্তু পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা সীমা সিদ্দিকাকে সভায় পাননি।

এদিকে সোমবার (১৮ মে) অনুষ্ঠিত হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রথম সভায় ওই বিভাগের সার্বিক বিষয়াদি জানতে চাইলে তাকে পাওয়া যায়নি। খোঁজ নিলে জানা যায় তিনি নাকি ছুটিতে। পরে একজন কর্মচারিকে সভায় পাঠিয়েছেন।

সোমবার বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নিজ কার্যালয়ে বসে আছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ব্যবস্থপনা কমিটির আপনি একজন সদস্য হয়েও নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রথম সভায় অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে বলেন, তিনি ছুটিতে ছিলেন। আজকে সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি তিনি জানেন না, কেউ জানাননি। তবে খবর পেয়ে কর্মস্থলে এসেছেন। এর আগে ২২ ফেব্রুয়ারি হাসপাতালে নিজ কার্যালয়ে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও সংসদ সদস্যের মতবিনিময় সভায় অংশ নেননি কেন জানতে চাইলে বলেন, ওইদিনের মিটিংয়ের ব্যাপারটিও তিনি জানতেন না। দুটি ঘটনায় কি প্রমাণ করে না আপনি প্রত্যক্ষভাবে সংসদ সদস্যকে অবজ্ঞা ও কম গুরুত্ব দিচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন আসলে ঘটনাটি এমন নয়।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন