হাওর বেষ্টিত সুনামগঞ্জে প্রতি বছরেই হাওরের একমাত্র বোরো ফসল রক্ষায় বাঁধ নির্মাণ কাজ ১৫ই ডিসেম্বর নীতিমালা অনুযায়ী উদ্বোধন করা হলেও কাজের বেলায় ঢিলেমে আর অনিয়মের অভিযোগের পাহাড় জমে। কিন্তু শেষ হয় না নীতিমালা অনুযায়ী ২৮শে ফেব্রুয়ারীর মধ্যে।
সোমবার জেলার কয়েকটি উপজেলায় বাঁধের কাজ শুরু করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের আয়োজনে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান মানিক।
এর মধ্যে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ঢাকার অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান তাহিরপুর উপজেলার বালিজুরি ইউনিয়নের আঙ্গুরউলি হাওরের ডুবন্ত বাঁধের ভাঙা অংশ মেরামতের মাধ্যমে কাজের সূচনা করেন। এসময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়াসহ সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা,পাউবো ও অনুমোদন করা পিআইসিগন উপস্থিত ছিলেন।
সুনামগঞ্জ পাউবো সূত্রে জানা গেছে,কাবিটা প্রকল্পের আওতায় এ জেলার ১৩৭টি হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় মোট ৫৯০ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার করা হবে। এ কাজ বাস্তবায়নে ৫১০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) কাজ করবে। এতে ১০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ধরা হলেও কাজ চলাকালে এই ব্যয় আরও বাড়বে বলে জানা গেছে আর এটাই যেন নিয়মে পরিনত হয়েছে।
হাওর পাড়ের বাসিন্দাদের অভিযোগ করেন, লোক দেখানো উদ্বোধন করার পর সঠিক ভাবে কাজ ও হয় না। আর বরাদ্দের টাকাও পায় না সঠিক ভাবে আর এ কারনে দায়িত্ব পাওয়া পিআইসিরাও কাজ করে না। ব্যাপক অনিয়ম করে বাঁধকে হুমকির মুখে ফেলে দেয়। অন্যদিকে,পিআইসি নেয়ার সময় পাগল হয়ে যায়৷ আর নানান তদবিদ ও গোপনে অর্থের লেনদেন হয়,কিন্তু কেউই মুখ খুলে না।যে বাঁধের কাজ উদ্বোধন করা হয়েছে সে বাঁধ মার্চের আগে শেষ হবে না।
তাহিরপুর উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মনির হোসেনের সঞ্চালনায় সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন,এখনও হাওর এলাকায় পানি না নামার কারণে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ এক সাথে শুরু করা হয় নি। একই সঙ্গে পিআইসির সভাপতি ও সম্পাদক দেরকেও বলা হয়েছে যে এলাকায় পানি আগে কমে যাবে সেই বাঁধে দ্রুত কাজ শুরু করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সুনামগঞ্জ জেলায় টেকনিক্যাল সাপোর্টও বেশি দেওয়া হয়। নীতিমালা অনুযায়ী আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ হলে মার্চ মাসের মধ্যেই বিল পরিশোধ করা হবে।
এসময় পাউবো সিলেটের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ কাইছার আলম, তাহিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরুখ আলম শান্তনু, সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
