সুনামগঞ্জে হাওরের পানি থেকে গ্যাস সদৃশ পদার্থ নির্গমন, এলাকাজুড়ে কৌতূহল

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার একটি হাওরে পানির নিচে ডুবে থাকা নলকূপ থেকে উচ্চচাপে কাদাজল মিশ্রিত গ্যাস সদৃশ পদার্থ বের হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (১৮ মে) দুপুরে উপজেলার রায়পুর গ্রামের টগার হাওরের পূর্বপাশে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র ও উপজেলা প্রশাসন জানায়, বোরো ধান কাটা শেষ হওয়ার পর বর্তমানে টগার হাওর পুরোপুরি পানিতে নিমজ্জিত। এ অবস্থায় হঠাৎ করেই হাওরের মাঝখানে থাকা একটি ডুবন্ত নলকূপ থেকে প্রবল চাপের সঙ্গে কাদাজল ও গ্যাসের মতো পদার্থ ওপরে উঠতে দেখা যায়। ঘটনাটি মুহূর্তেই স্থানীয়দের নজরে আসে এবং খবর ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন।

স্থানীয় কয়েকজন জানান, প্রথমে তারা পানির নিচ থেকে বুদবুদের মতো কিছু উঠতে দেখেন। পরে তা দ্রুতগতিতে কাদাজলসহ ওপরে উঠতে থাকে। কিছু সময় পর আবার নির্গমন বন্ধ হয়ে যায়। এলাকাবাসীর দাবি, রায়পুর গ্রামের বিভিন্ন স্থানে আগে থেকেই মাটির নিচে গ্যাসের অস্তিত্ব নিয়ে নানা আলোচনা ছিল। তবে এবার প্রথমবারের মতো তারা সরাসরি এমন দৃশ্য দেখলেন।

এ বিষয়ে ধর্মপাশা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনি রায় মুঠোফোনে জানান, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে একাধিক ফোন পেয়েছেন। তিনি বলেন, “এটি প্রকৃতপক্ষে গ্যাস নাকি অন্য কোনো পদার্থ, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। চলতি বছরের জানুয়ারিতেও একই স্থান থেকে অনুরূপভাবে গ্যাস সদৃশ পদার্থ বের হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করা হবে।”

এদিকে ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ ধারণা করছেন, হাওরের নিচে প্রাকৃতিক গ্যাসের স্তর থাকতে পারে। আবার অনেকে বিষয়টিকে রহস্যজনক বলেও মন্তব্য করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

রায়পুর গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, “হাওরের মধ্যে এমন দৃশ্য আগে কখনও দেখিনি। বিষয়টি দ্রুত পরীক্ষা করা দরকার।”
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা রিনা আক্তার বলেন, “যদি সত্যিই গ্যাস থাকে, তাহলে সরকারিভাবে তদন্ত করে এলাকার উন্নয়নে কাজে লাগানো উচিত।”
তবে অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, সঠিক পরীক্ষা ছাড়া এ ধরনের স্থানের কাছে সাধারণ মানুষের যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন