
সুনামগঞ্জের ৬টি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ১০৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মান করে প্রত্যন্ত এলাকার শিশুদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে নেদারন্যান্ডস সরকার এর অথ্যায়নে নিমান করা হয়েছিল। এই কাজে সহযোগিতা করে এফআইভিডিবি। সেই বিদ্যালয় গুল অর্থ সংকটে বন্ধ হবার পর থেকে রক্ষাবেক্ষনের অভাবে জড়ার্জিন অবস্থায় রয়েছে। অনেক বিদ্যালয় গুলোর মূল্যবান জিনিস গুলো খোলে নিয়ে যাচ্ছে অনেকেই।
আর বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকগনও বেকার হয়ে পরে। এই বিদ্যালয় গুলো চালু হলে এর আশপাশের বাসিন্দাদের ছেলে মেয়েদেরকে কষ্ট করে কয়েক কিলোমিটার দূরে সরকারী স্কুলে যেতে হতো না,পাশাপাশি এই স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ দিলে শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছেন সচেতন মহল ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
এফআইভিডিবি জানাগেছে,সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা ২১টি,তাহিরপুর উপজেলা ১৪টি, জামালগঞ্জ উপজেলা ১০টি, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ২৯ টি, শান্তিগঞ্জ উপজেলা ২০টি, দিরাই উপজেলা ৯টি।
এর মধ্যে বর্তমানে চালু আছে শুধুমাত্র শান্তিগঞ্জ উপজেলায় তিনটি স্কুল,যা এফআইভিডিবি এর নিজস্ব তহবিলে পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে৷ আরও জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়নে এই স্কুল গুলো নির্মাণ করা হয়েছিল ২০০৪ সালের দিকে স্থানীয় ধন্যাঢ্য ব্যক্তি ও দানবীরদের দানের জায়গায়। পরে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হতে। এ সময় বেশ ভাল ভাবেই স্কুলে ছাত্রছাত্রী আসতো, লেখা পড়াও ভালই চলছিলো।
বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী সাথে কথা বলে জানা গেছে। কোনোটি হাওর পাড়ের গ্রামের আবার কোনোটি উচু জমিতে।
একটি বিদ্যালয় তৈরী করতে ব্যয় হয় তৎকালীন সময়ে ১১ লাখ থেকে ১৪ লাখ টাকার মত। সেই বিদ্যালয় গুলোতে শিক্ষকগন শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়েছিল গ্রাম গুলোর শিশু শিক্ষার্থীদের মধ্যে। কয়েক বছর ভাল ভাবে চললেও অর্থ বরাদ্দ না দেয়ার সেগুলো বন্ধ হয়ে যায়।
এতে করে এই স্কুল গুলোর আশপাশের শিক্ষার্থীরা লেখা পড়া করার জন্য পায়ে হেটে কয়েক কিলোমিটার দুরে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যেতে হয়। অনেকেই আবার পড়া শুনা বন্ধ করে দেয়। আর এখানে কর্মরত শিক্ষকগন ও দীর্ঘদিন অপেক্ষায় থেকে বিকল্প কর্মসংস্থান খোঁজ নিয়েছেন।
বর্তমানে ভবন গুলো অরক্ষিত থাকার জড়াজির্ন এর পাশা পাশি অনেকেই আবার গরু রাখছেন,আবার কেউ কেউ বসবাস করছে।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়ন মিয়ারচর গ্রামের বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম জানান, স্কুল গুলোতে বেশির ভাগ গবীর অহসায় পরিবারের শিশুরা লেখা পড়া করেছিল। কিন্তু বেশ কয়েক বছর চলারপর তা বন্ধ হয়ে যায় লেখাপড়া। ফলে ঐসব পরিবারের শিশু শিক্ষার্থীরা অনেকেই ঝড়ে পড়ে লেখা পড়া থেকে।
তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দাগন জানান,লোভার হাওর পাড়ে স্কুলটি চালু ছিল কিন্তু হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যায় গত ৭-৮ বছর পূর্বে। আবারও স্কুলটি চালু হলে এই গ্রামের শিশুরা লেখা পড়া করা অনেক সহজ হতো।
দীর্ঘদিন ধরে তা আর হচ্ছে না। পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
এই স্কুলে কর্মরত শিক্ষিকা ও রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দা নিরালা বেগম জানান,দীর্ঘদিন এই স্কুলে শিক্ষক হিসাবে তিনটি গ্রামের শতাধিক শিশু শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেছিলাম পরে ২০১৩ সালের দিকে বন্ধ হয়ে যায়। পরে কিছু দিন নিজে নিজেই চালিয়ে ছিলাম যে আবারও স্কুলটি চালু হবে কিন্তু আর হয়নি। এরপর থেকে আর কেউ যোগাযোগ ও করেনি। আশায় আছি যদি আবারও স্কুলটি চালু হয় তাহলে আবারও পাঠদান শুরু করবো।
সুনামগঞ্জ এফআইভিডিবি রিজওনাল ম্যানেজার-সালাহ উদ্দীন জানিয়েছেন,অর্থ বরাদ্দ না থাকার স্কুল গুলো বন্ধ হয়ে যায়। আর স্কুল গুলোতে যারা শিক্ষক হিসাবে কর্মরত ছিলেন তারাও বেশ ভাল ভাবেই শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল।
বরাদ্দ না পাওয়ার পর বেশ কিছু দিন তারা নিজেরাই পাঠ্যদান করেছিল নতুন করে চালু হবে আর না হয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। কিন্তু পরিবর্তিতে তা আর হয়নি। যার জন্য ভবন গুলো এভাবেই পড়ে রয়েছে। শান্তিগঞ্জ উপজেলায় তিনটি স্কুল,যা এফআইভিডিবি এর নিজস্ব তহবিলে পরিচালিত হচ্ছে। অর্থ বরাদ্ধ পেলে ঐসব বিদ্যালয় গুলো আবারও চালু হবে।
এই বিষয়ে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মতিন খান জানান, আমার উপজেলার ঐ সব স্কুলগুলোর বিষয়ে খোঁজ খবর নিব। আর স্কুল গুলো চালু করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলবো।