সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় সুরমা নদীর ভাঙনে তিন গ্রামের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, গ্রামীণ রাস্তাঘাট, কবরস্থান, খেলার মাঠসহ শতাধিক বসতভিটা নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন কয়েকশ পরিবার। তা প্রতিরোধ সরকারী ভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার দাবীতে ফুসে উঠেছে এলাকাবাসী।
উপজেলার মান্নারগাঁও ইউনিয়নের আজমপুর, আশ্রাবনগর ও ইদনপুর গ্রামে তীব্র নদীভাঙন প্রতিরোধ সরকারী প্রকল্পের আওতায় না আনায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ভাঙন কবলিত এলাকার সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে ভুক্তিভোগীদের আয়োজনে বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
তিনটি গ্রামের মানুষের কান্না থামাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয় মানববন্ধনে।
মানববন্ধনে অংশ গ্রহণকারী স্থানীয় বাসিন্দাগন জানান, সুরমার তীব্র স্রোতে ইতোমধ্যে এই তিন গ্রামের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, গ্রামীণ রাস্তাঘাট, কবরস্থান, খেলার মাঠসহ শতাধিক বসতভিটা নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। ঝুঁকিতে রয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,মসজিদসহ অর্ধশতাধিক বাড়ি ঘর। মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু চোখের সামনেই ভেঙে পড়ছে নদীগর্ভে দেখা দিবে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। বার বার সংশ্লিষ্টদের জানানোর পরও কোনো কাজ হচ্ছে না। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোটি কোটি টাকার নদী ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ইদনপুর, আজমপুর ও আশ্রাবনগরে রহস্য জনক ভাবে প্রকল্পের বাইরে রেখে উন্নয়ন বৈষম্য অবিলম্বে দূর করে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।
এসময় ছাতক-দোয়ারাবাজার আসনে জাতীয় পার্টির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জাবা মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, মান্নারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইজ্জত আলী তালুকদার, তাসনিম আলম মিজান, নজির উদ্দিন মাস্টার, আব্দুল হান্নান, সাবেক ইউপি সদস্য আজাদ মিয়া, এখলাছ মিয়া, এখলাছুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন।
