পরিবর্তনের ছোঁয়ায় বদলে গেছে লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবেশ।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগী ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে বইছে স্বস্তি।
সরকারি হাসপাতালে গেলে রোগী আরও অসুস্থ হয়ে যায়, এমন ধারণা পোষণ করেন অনেকেই। আর এটিই যেন এ দেশের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার করুণ বাস্তবতা। সরকারি হাসপাতালের অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা-আবর্জনাময় পরিবেশ, চিকিৎসক-নার্স- পরিস্কার পরিচ্ছন্ন কর্মীদের অবহেলার কারণে বেসরকারিভাবে চিকিৎসাসেবা নিতে বাধ্য হচ্ছে বেশিরভাগ মানুষ। আর সেখানে ব্যতিক্রম লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপজেলার প্রায় ২ লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসা সেবা গ্রহণের একমাত্র ভরসাস্থল। দীর্ঘদিন ধরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ,দুর্গন্ধের জন্য ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের দম বন্ধ হয়ে যেত, ওয়ার্ডের ভিতরের করুন অবস্থা,টয়লেটের অবস্থা অত্যান্ত শোচনীয় থাকার ফলে ভোগান্তির শেষ ছিলনা চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও রোগীর স্বজনদের।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভিতরে ও বাহিরের পরিবেশ এখন ঝকঝকে,পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে কাজ করে যাচ্ছে কর্মরত পরিচ্ছন্নকর্মীরা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সামনে বিভিন্ন ফুলের বাগান, ফলজ ও ভেষজ গাছের বাগান করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কে দৃষ্টিনন্দন করে তুলেছেন কর্তৃপক্ষ। যা রোগী,রোগীর স্বজনদের ও চিকিৎসা সেবা নিতে আসা মানুষদের সজীবতায় অসুস্থ রোগীদের মন কে প্রফুল্ল করে তুলে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,শিশু ওয়ার্ড, পুরুষ ওয়ার্ড ও মহিলা ওয়ার্ডে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার ছোঁয়া লেগেছে,বেডের বেড শিট গুলো পরিস্কার, ওয়ার্ডের ভিতরে পরিবেশ আগের চেয়ে অনেক ভাল,ওয়ার্ডের ভিতরে জুতা নিয়ে প্রবেশ নিষেধ থাকায়, ওয়ার্ডের ভিতরে ময়লা আবর্জনা ও দুর্গন্ধ নাই।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কেবিনে ভর্তি বদিউল আলম জানান আমি ১ সপ্তাহ যাবত হাসপাতালে ভর্তি আছি, এর আগে অনেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিছি, লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর মত এত পরিস্কার পরিচ্ছন্ন দেখি নাই,ডাক্তারা নিয়মিত খোঁজ খবর নিচ্ছেন,নার্সরা নিয়মিত দেখা শুনা করছেন।
সুলতানা নামে এক আত্মীয় জানান হাসাপাতালের পরিবেশ আগের চেয়ে এখন অনেক ভাল, ওয়ার্ডের ভিতর অনেক পরিস্কার পরিচ্ছন্ন, পরিচ্ছন্ন কর্মীরা প্রতিদিন পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখেন, ডাক্তার স্যাররা নিয়মিত পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে খেয়াল রাখেন।
লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর আবাসিক মেডিকেল অফিসার (RMO) ডাঃ আব্দুল্লাহ আল মুকতাদির বলেন, লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে আমরা শুধুই চিকিৎসার স্থান নয়, বরং সাধারণ মানুষের আস্থার একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশে যে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে তা এখন দৃশ্যমান।
রোগীদের সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিতকল্পে আমরা ‘নিয়মিত এবং দীর্ঘক্ষণ রাউন্ড’ ব্যবস্থা জোরদার করেছি, যাতে প্রতিটি রোগী চিকিৎসকের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকেন। সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমাদের এখানে প্রতিদিন দুইবার স্বাস্থ্য শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে, একবার আমাদের দক্ষ নার্সদের মাধ্যমে এবং আরেকবার অভিনব উপায়ে রোগীর স্বজনদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে। এটি স্বাস্থ্য সচেতনতায় একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আপনারা লক্ষ্য করবেন, আমাদের ওয়ার্ড এবং ওয়াশরুম গুলো এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হচ্ছে। এছাড়া প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে দায়িত্বশীল প্রতিনিধি নির্ধারণ করা হয়েছে, যিনি রোগীদের সার্বিক সুবিধা-অসুবিধা তদারকি করছেন।
জনসাধারণের প্রতি বিশেষ অনুরোধ আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করছি হাসপাতালের সেবার মান ও পরিবেশ উন্নত করতে। কিন্তু একটি সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখা এককভাবে আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়, যদি না আপনারা সচেতন হন।
আমরা নিজের ঘরকে যেভাবে পরিষ্কার রাখি, জনস্বার্থের এই প্রতিষ্ঠানটিকে কি সেই নজরে দেখতে পারি না? হাজার জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ দিয়েও কোনো প্রতিষ্ঠান কে পরিস্কার রাখা সম্ভব নয়,যদি না আমরা প্রত্যেকে নিজের ভেতরে পরিচ্ছন্নতা বোধ লালন করি।আমাদের সামান্য সচেতনতাই পারে লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কে একটি পরিচ্ছন্ন ও আদর্শ হাসপাতালে পরিণত করতে।হাসপাতাল টি আপনার, আমার, আমাদের সবার, একে সুন্দর রাখার দায়িত্বও আমাদের সবার।
লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ কাজী শামসুল আরেফিন বলেন হাসপাতালে আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আমাদের হাসপাতালের পরিস্কার পরিচ্ছন্ন, রোগী ব্যবস্হাপনা বিশেষ করে রোগীদের যে দুই বেলা রাউন্ড দেই তা খুব সুন্দর ভাবে প্রতিপলিত হচ্ছে। ফল শ্রুতিতে দেখা যাচ্ছে যে আমাদের হাসপাতালে আগের যে অবস্থা ছিল এর চেয়ে অনেক অনেক পরিবর্তন হয়েছে।আমাদের হাসপাতালে মাত্র দুই জন মেডিক্যাল অফিসার আছে,এত কম সংখ্যক জনবল নিয়েও আমরা এই পর্যায়ে আসতে পারছি সেটা অবশ্যই একটা গর্বের বিষয়, তবে এলাকাবাসী ও সকলের সহযোগিতা ছাড়া এ পর্যায়ে আসা কোন ভাবেই সম্ভব না।প্রত্যেকেই আমাদের নির্দেশনা মানছে এবং সে অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছে।যে কেউ আমাদের হাসপাতালে আসলেই বলতে পারবে ওয়ার্ডের ভিতরে এত পরিস্কার পরিচ্ছন্ন বিশেষ করে বাথরুম এত পরিস্কার পরিচ্ছন্ন যে কেউ দেখলে মনে করবে আমাদের হাসপাতাল একটা ভিআইপি হাসপাতাল।লাখাই উপজেলা বাসী সহ সকলের সহযোগিতা কামনা করছি যেন আমাদের হাসপাতাল টা এভাবেই চলতে পারে।
