আগামী অর্থবছরের বাজেটে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে অনেক পণ্য ও সেবার ভ্যাট-ট্যাক্স কমানো হচ্ছে। এতে দাম কমতে পারে ওইসব পণ্যের।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। যেমন-নারীদের পছন্দের স্বর্ণালংকার বিক্রিতে ৫ শতাংশ ভ্যাট আছে, যা বিক্রীত মূল্যের ওপর আদায় করা হয়।
বাজেটে ৫ শতাংশের পরিবর্তে ভরিপ্রতি আড়াই হাজার টাকা সুনির্দিষ্ট কর বসানো হয়েছে। এতে স্বর্ণালংকারের দাম কমবে। সিমকার্ড ও ই-সিম কার্ড সেবার বিপরীতে ৩০০ টাকা সুনির্দিষ্ট কর ছিল।
এর পরিবর্তে সিমের দামের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হতে পারে। এতে সিমের দাম কমতে পারে।
দেশে ফ্রিজ-রেফ্রিজারেটর উৎপাদনে ১৫ শতাংশ ভ্যাট রয়েছে। এটি কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করা হতে পারে। এতে বাজারে দেশি ফ্রিজের দাম কমতে পারে।
চিকিৎসা কাজে ব্যবহৃত হার্টের রিং ও চোখের লেন্সের ওপর ১০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার হতে পারে। ফলে এই দুটি পণ্যের দাম কিছুটা হলেও কমবে। মৃতদেহ সংরক্ষণে মর্চুয়ারি আমদানিতে শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করা হতে পারে। ক্যানসারের ৯ ধরনের ওষুধ আমদানিতে কর রেয়াত সুবিধা দেওয়া হতে পারে।
কৃষিকাজে ব্যবহৃত বালাইনাশক উৎপাদনের ৩৬ ধরনের কাঁচামাল আমদানিতে ভ্যাট প্রত্যাহার হতে পারে। ফ্রুটব্যাগ আমদানিতে শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হতে পারে। সার ও কীটনাশকের সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার হতে পারে।
সৌরবিদ্যুতের প্যানেল ও ব্যাটারির কাঁচামাল উৎপাদন-আমদানিতে শুল্ক-কর ছাড় দেওয়া হচ্ছে। সেমি কন্ডাক্টর খাতের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ককর অব্যাহতির সুবিধা ২০৩১ সাল পর্যন্ত বর্ধিত করা হতে পারে। টাগবোট আমদানিতে শুল্ক-কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হতে পারে।
১৮০০ সিসি পর্যন্ত নতুন হাইব্রিড গাড়ি আমদানিতে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক (আরডি) প্রত্যাহার হতে পারে। কম্পিউটার, প্রিন্টার, পোর্টেবল অটোমেটিক ডাটা প্রসেসিং মেশিন, ফ্ল্যাশ মেমোরি, কম্পিউটার মনিটর আমদানিতে অগ্রিম কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করা হতে পারে।
প্যাকেজিং ম্যাটেরিয়াল সরবরাহের ওপর উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমে ৩ শতাংশ হতে পারে। লোশন, ফেসক্রিম, ফেসওয়াশ আমদানিতে কেজিপ্রতি শুল্ক ২০ ডলার থেকে কমিয়ে ৭ ডলার করা হতে পারে, যার ফলে এসব পণ্যের দাম কমতে পারে। ফ্লোট গ্লাসের ৫ ধরনের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমে ১৫ শতাংশ হতে পারে। সিনথেটিক ওভেন ফ্যাব্রিক্সের ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার হতে পারে।
এছাড়া দাম কমতে পারে-দেশে উৎপাদিত ত্বক ফর্সাকারী প্রসাধনী সামগ্রী; সানস্ক্রিন বা স্যানট্যাগ সামগ্রী; হাত, নখ বা পায়ের প্রসাধনী সামগ্রী; পাউডার; লিপস্টিক; আইলাইনার।