সম্প্রতি সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে পাঁচ গ্রামের মানুষের মধ্যে সংঘটিত সংঘর্ষের ঘটনার পর সালিশের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করে শান্তি ও সম্প্রীতি ফিরিয়ে দিয়েছেন সুনামগঞ্জ-১ (তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, মধ্যনগর ও ধর্মপাশা) আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর)সকালে সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের মধ্যস্থতায় ও স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ, এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিগনের প্রচেষ্টায় পাঁচ গ্রামের মানুষের উপস্থিততে ও তাদের মধ্যে সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতি শান্তিপূর্ন সমাধান হয়েছে।
এরপূর্বে বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় বারের মত সংঘর্ষ পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তিনি নিজেই দুই পক্ষকের লোকজনের সাথে কথা বলে সালিশের মাধ্যমে সমাধান প্রস্তাব দিলে উভয় পক্ষ তা মেনে নেয়।
সালিশে সভাপতিত্ব করেন সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় কৃষকদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনিসুল হক। এছাড়াও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাদল মিয়া, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জুনাব আলী, যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান উজ্জ্বল, উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম, তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সদস্য সাখাওয়াত হোসেন, একে এম নাসের উজ্জ্বলসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সালিশকারীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত এক সাপ্তাহ আগে তাহিরপুর সুনামগঞ্জ সড়কের পাশে বীরজয় লক্ষী দুতমা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ক্রিকেট খেলার বল জালাল মিয়ার অটোরিকশায় পরে। তখন অটোরিকশা চালক চলে গেলেও হাফিজ আলী এসে কথা-কাটাকাটি করে।
এই ঘটনার জের ধরে রবিবার রাতে তাহিরপুর বাজারে একেই বিষয় নিয়ে কথাকাটাকাটি হয় দুতম গ্রামের হান্নানের ছেলে জসিমের সাথে মমিসিংঙ্গাহাটি হাটির হাফিজ মিয়া, নবাব মিয়া, মানিক মিয়াসহ কয়েকজনের সাথে। কথাকাটাকাটির এক প্রর্যায়ে জসিমকে মারধর করা হয়।
একেই ঘটনা নিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে হাফিজকে জয়নগর,বীরনগর গ্রামের কয়েকজন মারধর করে। এনিয়ে এলাকায় দু পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
এর পর মঙ্গলবার রাতে এশার নামাজের সময় বীরনগর গ্রামের মসজিদে মাইকিং করা হয় যেন বুধবার সকালে গ্রামের সবাই যেন যার যা কিছু আছে তা নিয়ে উপস্থিত হয়।
পর দিন বুধবার দুপুরে দুই পক্ষ উপজেলার সদর ইউনিয়নের পুলিশ সার্কেল অফিসের সামনে তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের শনির হাওর এলাকায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে সংঘর্ষকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। তবে তাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। পরে পুলিশ, উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় এলাকাবাসীর চেষ্টায় সংঘর্ষ থামে।
সংঘর্ষে দুই পক্ষের অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়। কেউ সুনামগঞ্জে সদর হাসপাতাল, কেউ সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে।
