খরচার হাওর পাড়ে তাজ মহলের আদলে অতিথ ঐতিহ্য, নান্দনিক কারুকার্য শোভিত তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মুক্তিখলা-মল্লিকপুর শাহী জামে মসজিদটি কালের স্বাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে আজও। বয়সের ভারে জড়ার্জিন ও ভুকম্পনে মসজিদটির কয়েকটি স্থানে ফাটল দেখা দেয়ায় মসজিদটি ভেঙে পড়ার সম্মুখীন হয়েছে।
মসজিদটি সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা বিশ্বম্ভরপুর-জনতা বাজার-পলাশ সড়কের মুক্তিখলা-মল্লিকপুর গ্রামে স্থাপিত।
স্থানীয় এলাকাবাসী সাথে কথা বলে ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,মসজিদটির বয়স ৮০ বছরের বেশি বললেও মসজিদের দেয়ালে লেখা রয়েছে ১৫,০৯, ১৩৫৬ বাংলা সনে নির্মিত। নামাজ পড়ার জন্য সৌখিন ধনাঢ্য ব্যক্তির দের উদ্যোগে ও সহযোগীতায় খরচার হাওর পাড়ের মুক্তিখলা -মল্লিকপুর গ্রামে তাজমহলের আদলে তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটি তৈরী করা হয়। দৃষ্টি নন্দন ও আকর্ষণী ভাবে তৈরি করতে সেই সময়ে প্রায় ৪৫-৫০ লাখ টাকা নির্মাণে ব্যয় করা হয়। আর এর কারীগর ছিলো পুরান ঢাকার। মসজিদের ভেতরে অবস্থান অন্যান্য মসজিদের চেয়ে আলাদা। বয়সের ভারে মসজিদটি এখন শ্রীহীন হয়ে পড়েছে হয়েছে দূর্বল,শুধু তাই নয় ভূমি কম্পনের কারন মসজিদের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরেছে। গম্বুজে লাগানো পাথর সড়ানো হয়েছে ভেঙে পড়ে যাওয়ার ভয়ে। এ কারনে নামাজ পড়তে আসা লোকজন আতংকে রয়েছে কখন ভেঙে পড়ে। এদিকে মসজিদে মুসল্লীদের নামাজ পড়ার জায়গা হচ্ছে।
গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ গিয়াস উদ্দিন,আব্দুজ জহুর সহ এলাকাবাসী জানান,মসজিদ টির বয়স ৮০ এর বেশী। সেই সাথে পুরোনো এবং নানান সমস্যা দেখা দিয়েছে। সরকার প্রাচীন ও ইতিহাসিক নিদর্শন ও স্থাপনা রক্ষানাবেক্ষন করছেন। এই মসজিদটিকেও যেন সরকারের তত্ত্বাবধানে নেয়া হয় তার দাবী জানানো হয়।
মসজিদ কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম সহ কমিটির লোকজন জানিয়েছেন,মসজিদটি পুরোতন ও দৃষ্টি নন্দন হওয়ায় আমাদের গ্রামের সম্মান বৃদ্ধি করার পাশা পাশি আমাদের মুসল্লীদের নামাজ পড়ার একমাত্র মসজিদ। এই মসজিদটি না থাকলে আমাদের উপজেলা সদরে না হয় কয়েক কিলোমিটার দূরে গিয়ে নামাজ পড়তে হবে। খুব দ্রুত মেরামত করা প্রয়োজন। কিন্তু অর্থের অভাবে আমরা তা পারছি না।
মসজিদের ইমাম মাওলানা আবুল কাসেম জানান,মসজিদে দীর্ঘদিন ধরে নামাজ পড়াচ্ছি,আগে মুসল্লী কম হলে গত ৭-৮ বছর ধরে মুসল্লী বেশি হওয়ার জায়গাও হয় না। বৃষ্টি হলে মসজিদের ভিতরে পানি পড়ে আর বর্ষার মৌসুমে পানি বেশে হলে মসজিদের পানি প্রবেশ করে। সরকারী ভাবে মসজিদটি যদি মেরামত ও রক্ষানাবেক্ষন করা হতো তাহলে এলাকাবাসী উপকৃত হতো।
