হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের দক্ষিণাঞ্চলের ফদ্রখলা, ফরিদপুর, কোটান্দরসহ বিভিন্ন গ্রাম টানা ৩ থেকে ৪ দিন ধরে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন রয়েছে। বিশেষ করে ফদ্রখলা গ্রামে টানা ৪ দিন বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শত শত পরিবার। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক ঝড়ে বিদ্যুতের লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকেই এসব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, ক্ষতিগ্রস্ত লাইন দ্রুত মেরামতে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের অভাবে পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। অন্ধকারে পড়ালেখা করতে না পেরে তাদের প্রস্তুতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি অসুস্থ রোগী ও জরুরি সেবার ওপর নির্ভরশীল মানুষজন পড়েছেন চরম সংকটে।
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে সংরক্ষিত মাছ, মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে করে সাধারণ মানুষের আর্থিক ক্ষতি দিন দিন বাড়ছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে নষ্ট খাবার ফেলে দিতে বাধ্য হয়েছেন। ফদ্রখলা গ্রামের বাসিন্দা রহিম মিয়া বলেন,চার দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। ফ্রিজে রাখা সব মাছ-মাংস নষ্ট হয়ে গেছে। হাজার হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু দেখার কেউ নেই। আরেক বাসিন্দা রহিমা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফোন দিলে কেউ ধরে না। ধরলেও বলে ঝড়ে লাইন নষ্ট। কিন্তু চার দিনেও ঠিক করতে পারছে না কেন?
অপরদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল ফোন চার্জ দিতে না পারায় যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। অনেকেই দূরবর্তী এলাকায় গিয়ে মোবাইল চার্জ করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা বাড়তি দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে। শিক্ষার্থী রকিবুল হাসান জানায়, পরীক্ষার সময় এমন অবস্থা আগে দেখিনি। রাতে পড়তে পারছি না, ফোনও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, রাত নামলেই পুরো এলাকা অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে। এতে চুরি-ডাকাতির আশঙ্কা বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। নিরাপত্তাহীনতায় আতঙ্কে রয়েছেন অনেক পরিবার। হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের জিএম মোঃ জিল্লুর রহমানের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করলে কোন সাড়া মেলেনি।
তবে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টরা জানান, সাম্প্রতিক ঝড়ে একাধিক স্থানে বিদ্যুতের লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সীমিত জনবল নিয়ে একসঙ্গে সব জায়গায় কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রতি বছর ঝড়ের মৌসুমে একই পরিস্থিতি তৈরি হলেও কেন আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয় না। পর্যাপ্ত জনবল ও সরঞ্জাম না থাকায় সাধারণ মানুষকে কেন বারবার ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে- এ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং দায়িত্বে অবহেলার বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
