ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ ও ঢাকা-৭ এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ ও ভোট পুনরায় গণনার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হয়েছে।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এসব আবেদন গ্রহণ করে বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক বেঞ্চ আগামী অবকাশকালীন ছুটির পর শুনানির জন্য দিন ঠিক করে দেন।
তিন আসনের জামায়াতের প্রার্থীরা এসব আবেদন করেন।
আবেদনকারীদের আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবির জানান, আদালত সব ব্যালট পেপার, ফলাফল শিটসহ যা যা আছে সেগুলো কোর্টের কাস্টডিতে নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।
তিনি সাংবাদিকদের সামনে কিছু নথি তুলে ধরে বলেন, আমরা ঢাকা-৬, ঢাকা-৭ এবং গাইবান্ধা-৪ নিয়ে গেলাম। আদালত শুনলেন। আমরা বেশ কিছু জিনিস দেখালাম। তার মধ্যে একটা ফলাফল শিট।
এই ফলাফল শিটের নিচে কী লেখা আছে? পোলিং এজেন্টের নাম দেওয়া আছে? এখানে কোনো ইলেকশন কমিশনের সিল নাই। এবারে আরেকটা দেখেন, এইটা দেখেন এটাও দেখেন। সো একটা ফলাফল শিট দুই রকম হতে পারে না। এটা ছিল প্রথম জিনিস।
দ্বিতীয় জিনিসটা যেটা ছিল দেখানোর সময়, সেটা হচ্ছে পেন্সিল দিয়ে লেখা। একাধিক জায়গায় পেন্সিল দিয়ে লেখা। এছাড়া সেন্টার নাম্বার লেখা থাকার কথা। এটা কোন সেন্টারের? সেই সেন্টারের নামই লেখা নেই। এই লেখাটা থাকার কথা হচ্ছে প্রিন্টেড।
এইগুলো দেখার পরে আদালত সন্তুষ্ট হলেন এবং সবগুলো অ্যাডমিট করে নোটিশ ইস্যু করলেন। সঙ্গে সঙ্গে ডাইরেকশন দিলেন যে, যতগুলো ব্যালট পেপার, রেজাল্ট শিট, যা যা আছে সেগুলো সব কোর্টের কাস্টডিতে ওনারা নিয়ে নেবেন, আলাদা করে রেখে দেবেন। পরবর্তী ডেট ধার্য করেছেন ৩ তারিখে এবং ১০ তারিখে (মে মাসের), রি-ওপেনিংয়ের প্রথম দিনে।
তিনি আরও বলেন, তিন আসনে ভোটের ব্যবধান পাঁচ হাজারের মধ্যে। একটাতে আছে তিন হাজারের মতো, একটাতে সাড়ে চার হাজার, আরেকটাতে পাঁচ হাজার। বিকেল ৪টার পরে যত পোস্টাল ভোট এসেছে, সে পোস্টাল ভোট একটাও তারা কাউন্ট করেনি। এসব কারণে আমরা এটা দিয়েছি। আমাদের নেক্সট অ্যাপ্লিকেশনটা হবে, এই ভোটগুলো সব রিকাউন্ট করা। আজকে এই তিনটা দিয়ে শুরু হলো আনুষ্ঠানিক যাত্রা।
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা-৬, ঢাকা-৭ এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের সব নির্বাচনী নথি ও ব্যালট পেপার হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এই তিনটি আসনে ব্যাপক অনিয়ম ও ভোট জালিয়াতি হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে তারা হাইকোর্টে আবেদন করলে আদালত সেই আবেদন আমলে নেন। বিচারক ওই আসনগুলোর ব্যালট পেপার এবং রেজাল্ট শিটসহ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র নিরাপদ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই ঢাকা-৬ আসনের জামায়াত প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান কারচুপির অভিযোগ তুলে ফলাফল স্থগিত করার দাবি জানিয়েছিলেন। পরে জামায়াতে ইসলামী সংবাদ সম্মেলন করে সারা দেশের ৩০টি আসনের ফলাফল স্থগিত করার দাবি জানায়। তবে নির্বাচন কমিশন সেই দাবি না মেনে ২৯৭টি আসনের ফলাফল ঘোষণা করে দেয়।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে ‘নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করা হয়। বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক বেঞ্চ এখন এই আসনগুলোর অনিয়মের অভিযোগের শুনানি করছেন।