
ঢাকায় টমি মিয়ার ‘বারোন্তি গ্রাম’: নারী-চালিত ‘ক্র্যাফট হাউস’ উদ্যোগের যাত্রা শুরু হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফারজানা খান, ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর,
এসএমই ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী মেহরীন মাহমুদ
মৌলভীবাজারের অন্যতম গ্রামীণ ইকো-ভিলেজ এবং সামাজিক উদ্যোগ ‘টমি মিয়ার বারোন্তি গ্রাম’ (Tommy Miah’s Baronthi Gram), ১৯ এপ্রিল তাদের প্রথম ধাপ হিসেবে ‘ক্র্যাফট হাউস’ (Craft House) প্রকল্পের সূচনা করেছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকল্পের মূল উদ্বোধনের আগে, গ্রামীণ নারীদের কর্মসংস্থান ও বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে এই নারী-চালিত উদ্যোগটি গ্রহণ করা হয়েছে।
ঐতিহ্য ও বাণিজ্যের মেলবন্ধন বারোন্তি গ্রাম ক্র্যাফট হাউসের যাত্রা শুরু হয়েছে ১৮টি হাতে তৈরি লাইফস্টাইল পণ্যের একটি বিশেষ সংগ্রহের মাধ্যমে। মৌলভীবাজার এবং এর আশপাশের গ্রামীণ নারী কারিগরদের নিপুণ হাতে তৈরি এই সংগ্রহে রয়েছে:
পরিবেশবান্ধব ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প ও শৌখিন গৃহসজ্জা সামগ্রী।
নান্দনিক ডিজাইনের পট হ্যাঙ্গার এবং কি-রিং।
হাতে তৈরি বিশেষ পাদুকা (Footwear)।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো গ্রামীণ উৎপাদন ব্যবস্থাকে একটি কাঠামোগত বাণিজ্যিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত করা। এর মাধ্যমে নারী কারিগররা যেমন টেকসই আয়ের সুযোগ পাবেন, তেমনি বিলুপ্তপ্রায় ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পও সংরক্ষিত হবে।
সাংস্কৃতিক সম্পৃক্ততা ও অর্থনৈতিক প্রভাব দেশের জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী মেহরীন মাহমুদ এই উদ্যোগের সাংস্কৃতিক প্রচার ও প্রসারে যুক্ত হয়েছেন। গ্রামীণ সৃজনশীল উদ্যোগ এবং নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে তিনি বিশেষ ভূমিকা রাখছেন।
“ক্র্যাফট হাউস কেবল একটি উৎপাদন কেন্দ্র নয়; এটি একটি টেকসই গ্রামীণ সৃজনশীল অর্থনীতি গড়ে তোলার স্বপ্নের প্রথম ধাপ, যা আমাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সাথে আধুনিক পর্যটনকে যুক্ত করবে,”—বারোন্তি গ্রাম কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
পরিবেশবান্ধব পর্যটন ও কর্মসংস্থান
বর্তমানে উন্নয়ন পর্যায়ে থাকা ‘টমি মিয়ার বারোন্তি গ্রাম’ একটি পূর্ণাঙ্গ ইকো-ভিলেজ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
কারুশিল্প পর্যটন: দর্শনার্থীদের জন্য সরাসরি কারুপণ্য তৈরি দেখার ও শেখার ব্যবস্থা।
আতিথেয়তা: ইকো-কটেজ, লেকসাইড ভিউ এবং ক্যাফে স্পেস।
আধুনিক সুযোগ-সুবিধা: একটি আন্তর্জাতিক মানের কনভেনশন সেন্টার।
পুরো প্রকল্পটি পর্যায়ক্রমে ৫০০-এর বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা স্থানীয় অর্থনীতি এবং দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
ইভেন্ট ডিটেইলস (মিডিয়া ইনভাইটেশন)
গণমাধ্যমকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সুধীজনদের এই প্রকল্পের বিস্তারিত জানতে এবং কারুপণ্য প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।
২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে গ্র্যান্ড লঞ্চিংয়ের আগে আগামী মাসগুলোতে প্রকল্পের আরও নতুন নতুন মাইলফলক ঘোষণা করা হবে।