গরমের সুপারফুড হিসেবে তরমুজ বিশেষ জনপ্রিয়। এতে প্রায় ৯৫ শতাংশ পানি থাকে। গরমে শরীরের পানিশূন্যতা রোধে তরমুজ দারুণ ভুমিকা রাখে। শরীর ঠান্ডা রাখতেও এই ফলের তুলনা নেই। তবে এ ফলের উপকারিতা এবং অসুবিধা উভয়ই রয়েছে। বিশেষ করে কিছু নির্দিষ্ট খাবারের সঙ্গে খেলে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। এ ব্যাপারে নিউজ এইট্টিনের এক প্রতিবেদনে বিভিন্ন তথ্য জানানো হয়েছে।
তরমুজ গরমে শরীর সতেজ রাখে। সেই সঙ্গে হজমশক্তি উন্নত করে এবং পেট পরিষ্কার করে। তাৎক্ষণিক শক্তি দিতেও তরমুজের তুলনা নেই। তবে, যে কোনও খাবারের আসল উপকারিতা তখনই পাওয়া যায় যখন তা সঠিক পরিমাণে, সঠিক সময়ে এবং সঠিক ভাবে খাওয়া হয়। এ কারণে তরমুজ খাওয়ার সঠিক সময়, পদ্ধতি এবং সঠিক খাদ্য সংমিশ্রণের বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।
অনেকেই তরমুজের অর্ধেক খেয়ে বাকি অর্ধেক ফ্রিজে রেখে দেয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এভাবে দুই দিন পর্যন্ত তরমুজ রাখা যেতে পারে। কিন্তু, তারপরে ফলের আর্দ্রতায় ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে। এ কারণে কাটা তরমুজ দীর্ঘ সময়ের জন্য বাইরে ফেলে রাখা ঠিক নয়।
কাটা তরমুজে সাধারণত সালমোনেলা বা ই. কোলাই-এর মতো ব্যাকটেরিয়া বাসা বাঁধতে পারে। এ কারণে সন্ধ্যায় বা রাতে তরমুজ খাওয়া এড়িয়ে চলুন। ভারী খাবারের ঠিক পরেই কখনও তরমুজ খাওয়া ঠিক নয়। সকালে বা দিনের বেলায় তরমুজ খাওয়ার চেষ্টা করুন।
উচ্চ-প্রোটিনযুক্ত খাবারের সঙ্গে তরমুজ খাওয়া উচিত নয়। এতে পেট ফাঁপা, বদহজম এবং বায়ু ত্যাগের মতো হজমের নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তরমুজ সহজে হজম হয় কিন্তু প্রোটিন হজম হতে এবং ভাঙতে সময় লাগে। এ কারণে মুরগির মাংস, মাছ, ডিম, পনির ইত্যাদির সঙ্গে বা খাওয়ার ঠিক পরেই তরমুজ খাওয়া এড়িয়ে চলুন।
অনেকে তরমুজ খাওয়ার ঠিক পরেই প্রচুর পরিমাণে পানি পান করেন, এটা ঠিক নয়। এতে পেট ফাঁপতে পারে। তরমুজে এমনিতেই প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে,তাই এতে আরও পানি যোগ করলে আপনার পেট কেবল ফুলে উঠবে। এটি পাকস্থলীর পিএইচ স্তরের উপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
দই বা অন্যান্য দুগ্ধজাত খাবারের সঙ্গে তরমুজ খাওয়া এড়িয়ে চলুন। এই ফলের উচ্চ জলীয় উপাদান পাকস্থলীর অ্যাসিডকে পাতলা করে দেয়, এর ফলে দুগ্ধজাত খাবার হজম করা কঠিন হয়ে পড়ে। এদিকে দুগ্ধজাত খাবার হজমের জন্য পর্যাপ্ত অ্যাসিড প্রয়োজন,তা না পেলে পেটের নানা সমস্যা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কমলালেবু, মিষ্টি লেবু, পাতিলেবুর মতো টক ফলের সঙ্গে তরমুজ খাওয়া অস্বাস্থ্যকর হতে পারে। এতে বদহজম দেখা দেয়। যাদের হজমশক্তি ভালো নয়, তাদের তরমুজ খাওয়ার সময় এসব ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত।
