লন্ডনে গণমাধ্যম কর্মী, লেখক ও গবেষকদের সংগঠন ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করেছে ভাষার জন্য জীবন দানকারী বীর শহিদদের।অমর একুশে এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে পূর্ব লন্ডনের আলতাব আলী পার্ক শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বক্তারা বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা ভাষার গুরুত্ব বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে হবে। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চা অব্যাহত রাখতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করে যাওয়ার ওপর তারা জোর দেন। হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী বাংলা ভাষার মর্যাদা যেন যুক্তরাজ্যে বেড়ে ওঠা আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম ভুলে না যায় সে লক্ষ্যে ব্যক্তিগত উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। যুক্তরাজ্যে বেড়ে উঠা প্রতিটি শিশুকে বাংলা ভাষা শিক্ষা দেওয়া এবং বাংলা সংস্কৃতির প্রতি উৎসাহী করে তোলার তোলার জন্য সবাইকে আহ্বান জানানো হয়।
ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ শাহেদ রাহমান এর সভাপতিত্বে ও রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক,সমাজচিন্তক ও সংগঠক আব্দুল বাছির এর প্রাঞ্জল সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন সাবেক স্পিকার আহবাব হোসেন, জগন্নাথপুর টাইমস এর সম্পাদক সাজিদুর রহমান, পলিটিকা নিউজ এর প্রধান সম্পাদক তানভির আহমদ, রিপোর্টার্স ইউনিটি’র সহ সভাপতি ও ইউকে বাংলা গার্ডিয়ান এর সহকারী সম্পাদক এস কে এম আশরাফুল হুদা, কোষাধ্যক্ষ মির্জা আবুল কাসেম, সহকারী সম্পাদক আসমা মতিন, চ্যানেল এনআরবি ইউকে’র সম্পাদক এ রহমান অলি, দিলু চৌধুরী, জামাল আহমদ খান, নাহিদ জায়গীরদার, ইউকেবিডিটিভির সভাপতি আব্দুল মোমিন, বাংলা সংলাপ ও জে টাইমস টিভির প্রতিবেদক ইমরান তালুকদার প্রমুখ।
ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটি’র জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি কবি ইমদাদুন খানম, সমাজকর্মী বিধান গোস্বামী, কবি আসমা মতিন, সাংগঠনিক ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক কবি জান্নাতুল ফেরদৌস ডলি ও সদস্য দিপা হক প্রমুখ একুশের কবিতা আবৃত্তি করেন।
লন্ডনের আলতাব আলী পার্ক শহিদ মিনারে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত বাংলা ভাষাভাষী মানুষ ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি অনেকের কন্ঠে উচ্চারিত হচ্ছে প্রিয় কবি ও লেখক হুমায়ুন আজাদের সেই বাণী, ‘তবুও আমার কাছে বাঙলার মতো আর কোনো ভাষা নেই। বাঙলা আমার মাতৃভাষা। আমার ভাষা। আমার আনন্দ এ-ভাষায় নেচে ওঠে ময়ুরের মতো। আমার সুখ ভোরের রৌদ্র বিকেলের ছায়া আর সন্ধ্যার আভার মতো বিচ্ছুরিত হয় বাঙলা ভাষায়।’
