তুরস্কের পার্লামেন্টে হাতাহাতি ও সংঘর্ষ

মন্ত্রিসভায় রদবদলের মাধ্যমে একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে বিচারমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে গত বুধবার তুরস্কের পার্লামেন্টে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ইস্তাম্বুলের প্রধান প্রসিকিউটর আকিন গুরলেককে বিচার মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পদে নিয়োগ দেন। বিরোধী দলের আইনপ্রণেতারা যখন পার্লামেন্টে গুরলেকের শপথ গ্রহণে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন, তখনই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। উত্তেজনার একপর্যায়ে সংসদ সদস্যদের একে অপরকে ধাক্কা দিতে এবং ঘুষি মারতে দেখা যায়।

ইস্তাম্বুলের প্রধান প্রসিকিউটর হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন আকিন গুরলেক প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টি বা সিএইচপি-র (CHP) বেশ কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে হাই-প্রোফাইল মামলার বিচারকার্য পরিচালনা করেছিলেন। বিরোধীরা দীর্ঘকাল ধরে এই বিচারিক প্রক্রিয়াগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে নিন্দা জানিয়ে আসছে। তবে হট্টগোলের মধ্যেই পরে সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের বেষ্টনীতে গুরলেককে শপথ নিতে দেখা যায়।

এই রদবদলের অংশ হিসেবে এরদোয়ান এরজুরুম প্রদেশের গভর্নর মোস্তফা চিফৎচিকে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবেও নিয়োগ দিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে সিএইচপি শাসিত বিভিন্ন পৌরসভার শত শত কর্মকর্তাকে দুর্নীতির তদন্তে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামোগ্লুও রয়েছেন, যাকে এরদোয়ানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং গত বছর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। যদিও তুরস্ক সরকার বরাবরই দাবি করে আসছে যে দেশটির বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করে।

বুধবারের এই নাটকীয় রদবদলের পেছনে কোনো আনুষ্ঠানিক কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তবে সরকারি গেজেটে জানানো হয়েছে যে, বিদায়ী মন্ত্রীরা তাদের দায়িত্ব থেকে ‘অব্যাহতি চেয়ে অনুরোধ’ করেছিলেন।

তুরস্ক যখন সম্ভাব্য সাংবিধানিক সংস্কার এবং কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি বা পিকেকে (PKK)-র সঙ্গে কয়েক দশকের সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে একটি শান্তি উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করছে, ঠিক তখনই এই নতুন নিয়োগগুলো দেওয়া হলো। এই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে পার্লামেন্টে নতুন সংস্কার বিল পাস হওয়ার কথা রয়েছে। সূত্র: এপি

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন