সিলেটের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় লিডিং ইউনিভার্সিটির স্প্রিং সেমিস্টার ২০২৬ এ ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের আন্ডাগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে স্প্রিং সেমিস্টার ২০২৬ ভর্তি হওয়া নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লিডিং ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টি বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ আব্দুল হাই। ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন।
ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন প্রোগ্রামের নতুন শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম দিন অতিবাহিত করেন আনন্দমুখর পরিবেশে। শিক্ষার্থীদের সাথে বিপুল সংখ্যক অভিভাবক প্রাকৃতিক ছায়াঘেরা লিডিং ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাস ও অবকাঠামো দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে লিডিং ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্য হিসেবে নবীন শিক্ষার্থীদেরকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, জীবনে উন্নতি করতে হলে শৃংখলা বজায় এবং নিয়ম মেনে চলতে হবে। এখানে কোন ধরনের রাজনীতি, র্যাগিং ইত্যাদি করা যাবেনা। তিনি বলেন, সন্তানদের সুশিক্ষিত করে ঘরে তুলতে শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদের দায়িত্বও অনেক। আজ আমরা খুশি যে লিডিং ইউনিভার্সিটি স্থায়ী সনদপ্রাপ্ত একটি পূর্নাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, এখানে উন্নত পরিবহন ব্যবস্থাসহ, শিক্ষার্থীদের জন্য খেলার মাঠ এবং পড়াশোনার জন্য রয়েছে রিসোর্সফুল লাইব্রেরি। তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে লিডিং ইউনিভার্সিটির তৃতীয় একাডেমিক ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ সমাবর্তন অত্যন্ত সফলতার সাথে সম্পন্ন হয়েছে, আজকের এই নবীন শিক্ষার্থীরা গ্র্যাজুয়েটস হবার সাথে সাথেই ৫ম সমাবর্তন অনুষ্ঠান হবে এ আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি। পরিশেষে তিনি তরুণ শিক্ষার্থীদেরকে সুশিক্ষিত করে সমাজ ও দেশের উন্নয়নে দক্ষ মানব সম্পদে পরিনত করতে এবং এ বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে সবাইকে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে কাজ করার আহবান জানান।
নবীন শিক্ষার্থীদের লিডিং ইউনিভার্সিটিতে স্বাগত জানিয়ে সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন বলেন, লিডিং ইউনিভার্সিটি কেবল সিলেটের মধ্যে সেরা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, দেশের বেস্ট ইউনিভার্সিটিগুলোর মধ্যে একটি বেস্ট বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে শুধু সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়না, উন্নত ক্যারিয়ার গড়তে পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের গবেষণায় সম্পৃক্ত করা হয়। শিক্ষার্থীদের জুনিয়র স্কলার এবং শিক্ষকদেরকে সিনিয়র স্কলার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পড়াশোনা এবং গবেষণার জন্য শিক্ষার্থীদেরকে শিক্ষকদের সাথে কার্যকর যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে। তিনি জানান লিডিং ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের আওতায় গবেষণা উপ-প্রকল্পের গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি লিডিং ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা উপমহাদেশের প্রখ্যাত দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে বলেন, মানব সম্পদ তৈরি করার জন্যই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়সহ অনেক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন এবং লিডিং ইউনিভার্সিটি সে লক্ষ্যেই উন্নীত হচ্ছে। পরিশেষে আজকের এ সুন্দর অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য আয়োজক কমিটিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন তিনি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে ট্রাস্টি বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ আব্দুল হাই বলেন, এটা শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের প্রথম পদক্ষেপ। তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ যা তাদেরকে উন্নত বিশ্বের সাথে পরিচিত করতে সাহায্য করে। আর্টিফিশ্যাল ইন্টেলিজেন্স (Ai) প্রভাবে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সাথে তালমিলিয়ে এবং নিজেদেরকে সামঞ্জস্য রাখতে এডুকেশন এবং প্রফেশনালিজম হতে হবে, লিডিং ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ এবং অভিজ্ঞ শিক্ষকবৃন্দের সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে বাস্তব জ্ঞানার্জনের সুযোগ।
ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে লিডিং ইউনিভার্সিটির সামার সেমিস্টার ২০২৫ এ কৃতি শিক্ষার্থীদেরকে বেস্ট স্টুডেন্ট অ্যাওয়ার্ড ২০২৫ এর সম্মাননা স্মারক ও সনদ প্রদান করা হয়। অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুভূতি প্রকাশ করে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী নওসিন তাসনোভা আমিন বলেন, লিডিং ইউনিভার্সিটির শিক্ষাবান্ধব পরিবেশে ও দক্ষ শিক্ষকদের সান্নিধ্যে থেকে আজ আমি এ পর্যায়ে আসতে পেরেছি, সেজন্য আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
বেস্ট স্টুডেন্ট অ্যাওয়ার্ড ২০২৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী অনিকা তাবাসসুম ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ, শানবির গংলা ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, হালিমা ইংরেজি বিভাগ, নওসিন তাসনোভা আমিন আইন বিভাগ, ঝিনিয়া আমরিন মোবাশিরা ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, সৈয়দ ফারহান হাসান কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, রিজওয়ানা আহমেদ সামি আর্কিটেকচার বিভাগ, মো. আবু নাইদ সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এবং সুমি আক্তার ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ।
জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মফিজুল ইসলাম।
নবীনবরণ অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য প্রদান করেন লিডিং ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. বশির আহমেদ ভুঁইয়া, আধুনিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কামরুজ জামান ভুঁইয়া, কলা ও আধুনিক ভাষা অনুষদের ডিন ও ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম আয়োজক কমিটির আহবায়ক প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম, ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা প্রফের ডা. মো. আব্দুল মজিদ মিয়া, লিডিং ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সচিব ইঞ্জিনিয়ার মো. লুৎফর রহমান, প্রক্টর মো. মাহবুবুর রহমান এবং সকল বিভাগের বিভাগীয় প্রধানদের পক্ষে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শাহানশাহ মোল্লা। নবীন শিক্ষার্থী হিসেবে অনুভূতি ব্যক্ত করেন বিবিএ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী এনাং নাম্বা কিশান এবং বিএ অনার্স ইন ইংলিশ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী নুজহা তাবাসসুম এনাম।
নবীনবরণ অনুষ্ঠানে লিডিং ইউনিভার্সিটির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. কবির আহমেদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, লাইব্রেরিয়ান এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
লিডিং ইউনিভার্সিটির ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মিসেস জহুরা জামিন জোহা এবং ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. এনাম আহমেদের সঞ্চালনায় নবীনবরণ অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী জামিউর রহমান, পবিত্র গীতা পাঠ করেন ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী অবিরাম গোপাল দাশ এবং পবিত্র ট্রিপিটক পাঠ করেন ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী নিশিতা চাকমা।
