সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার ১ নম্বর উত্তর বংশীকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদে নাগরিক সেবা পেতে চরম ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে। জন্মনিবন্ধন, জন্মনিবন্ধন সংশোধন, প্রত্যয়নপত্রসহ বিভিন্ন সেবা গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ করেছেন একাধিক সেবাগ্রহীতা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদে প্রয়োজনীয় কাজে গিয়ে অনেক সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পাওয়া যায় না। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে ফিরে যেতে হয়। এমনকি কোনো কোনো দিন পরিষদ কার্যালয় কার্যত বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, জন্মনিবন্ধন সংশোধনের ক্ষেত্রে সরকারি ফি ছাড়াও প্রতি আবেদনে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ অপ্রয়োজনীয় আর্থিক চাপের পাশাপাশি প্রশাসনিক হয়রানিরও শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর নবী তালুকদার অসুস্থ থাকায় প্রশাসনিক তদারকিতে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই সুযোগে কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর দায়িত্বে শিথিলতার কারণে জনসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল হালিম একই সঙ্গে মধ্যনগর সদর ইউনিয়ন পরিষদেও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করায় তাঁকে প্রায়ই নিজ কর্মস্থলে পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ করেন সেবাগ্রহীতারা। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কাজ এবং নাগরিক সেবা প্রদানে বিলম্ব সৃষ্টি হচ্ছে বলে তাদের দাবি।
মধ্যনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও মহিষখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির অভিভাবক সদস্য মানিক মিয়া বলেন, তিনি নিয়মিত ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম লক্ষ্য করেন। তাঁর দাবি, অনেক সময় পরিষদে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পাওয়া যায় না। জন্মনিবন্ধন সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবার জন্যও মানুষকে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল হালিম বলেন, সরকারি বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের কারণে তাঁকে প্রায়ই উপজেলা কার্যালয়ে যেতে হয়। তবে সেবা কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
গ্রাম পুলিশ শামসুদ্দিন জানান, তিনি সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত কাগজপত্র ও অর্থ অফিস সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটরের কাছে হস্তান্তর করেন।
তবে অফিস সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটর শুভ সরকার অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে কোনো অর্থ নেওয়া হয় না। কেউ অভিযোগ করলে প্রমাণসহ লিখিতভাবে দাখিল করার আহ্বান জানান তিনি।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর নবী তালুকদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিনি অসুস্থ রয়েছেন। সুস্থ হয়ে দায়িত্বে ফিরলে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জনি রায় বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে সেবা প্রদানে অনিয়ম বা অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ইউনিয়ন পরিষদে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন।
