মৌলভীবাজারের বড়লেখায় গৃহবধূ মরিয়ম আক্তার মুন্নির আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি তাঁর ননদ ছামেলী আক্তার (২৫)-কে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ছামেলী আক্তার উপজেলার মুড়িরগুল গ্রামের মৃত ইয়াছিন আলী মেয়ে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় বড়লেখা থানা পুলিশের একটি চৌকস দল বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে তাঁর মা রেনু বেগম বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বড়লেখা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয় যৌতুকের জন্য নির্যাতন পরে আত্মহত্যার প্ররোচনার পথ নেয় মুন্নি। মামলায় মুন্নির স্বামী, শাশুড়ি, ননদ, ভাসুর ও জাসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া আরও পাঁচজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর থেকে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একটি চৌকস টিম বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়।
অভিযানের অংশ হিসেবে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান সনাক্ত করে এসআই শেখ কামরুল ইসলাম এবং মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই মো: আবদুল করিম নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্সসহ দুই দিনের অভিযানে শুক্রবার সন্ধ্যায় ডিএমপি ঢাকার মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের সহায়তায় মোহাম্মদপুর থানার বসিলা এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি ছামেলী আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান খান, শনিবার দুপুরে চামেলীকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রাজধানীর মোহাম্মদপুর কেরানীগঞ্জের বসিলা এলাকা থেকে পুলিশের একটি স্পেশাল টিম দীর্ঘ ৪৮ ঘন্টার অভিযানের পর আটক করেছে। গ্রেপ্তারের পর শনিবার সকালে আসামিকে বড়লেখা থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে আসামিকে মামলার ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিধি মোতাবেক আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২১ আগস্ট। বড়লেখা উপজেলার মুড়িরগুল গ্রামের বসতবাড়ির টয়লেটের টিনের চালার কাঠের তীরের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় মরিয়ম আক্তার মুন্নির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই দাবি করা হচ্ছে—যৌতুকের দাবিতে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন মুন্নির ওপর নিয়মিত নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। তাদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে নির্যাতন চালিয়ে মুন্নিকে হত্যার পর বিষয়টিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে মেয়ের স্বামী, ননদ ও শাশুড়িসহ ছয় জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মুন্নির মৃত্যুর পর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ৪ সেপ্টেম্বর বড়লেখা শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মানববন্ধনও অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
