আমরা ছোটবেলা থেকে জেনে এসেছি ভালুক শীতকালে শীতনিদ্রায় যায়। কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভালুক আসলে ডিপ হাইবারনেশন বা গভীর শীতনিদ্রায় যায় না। কাঠবিড়ালি বা বাদুড়ের মতো প্রাণীরা যেভাবে শরীরের তাপমাত্রা একদম কমিয়ে ফেলে এবং প্রায় মৃতবৎ পড়ে থাকে, ভালুক তেমনটা করে না।
ভালুক শীতকালে যে অবস্থায় থাকে তাকে বলা হয় টর্পোর।
শীতনিদ্রা হলো স্বেচ্ছায় নেওয়া বিশ্রাম, আর টর্পোর হলো খাবারের অভাবে শরীরকে টিকিয়ে রাখার একটি কৌশল। টর্পোরের সময় ভাল্লুক একটানা ঘুমায় না। তারা মাঝেমধ্যে শরীরের পজিশন পরিবর্তন করে, যাতে গায়ে ঘা না হয়। এমনকি স্ত্রী ভালুক এই ঘুমের মধ্যেই বাচ্চার জন্ম দেয় এবং তাদের যত্ন নেয়।
শীতের আগে ভালুক প্রচুর খেয়ে শরীরে চর্বি জমায়। ঘুমের সময় এই চর্বি থেকেই তারা শক্তি পায়। এই সময় তারা কিছু খায় না, এমনকি মলমূত্র ত্যাগও করে না। স্বাভাবিক সময়ে ভালুকের হার্টবিট মিনিটে ৮৪ বার হলেও টর্পোরের সময় তা কমে ১৯ বারে নেমে আসে।
সব ভাল্লুক কি এমন করে? না, সব ভালুক এমনটা করে না। এটি মূলত খাবারের ওপর নির্ভর করে। কালো ও বাদামী ভালুক গাছপালা বেশি খায়। শীতকালে গাছপালা থাকে না বলে এরা ঘুমানোর কৌশল নেয়।
মেরু ভালুক মাংসাশী।
শীতকালেও এদের শিকার (সিল মাছ) পাওয়া যায়, তাই এরা সারা বছর সক্রিয় থাকে। তবে গর্ভবতী মেরু ভালুকরা বিশ্রামের জন্য গর্তে আশ্রয় নেয়। পান্ডা মোটেও এমন ঘুমে যায় না। কারণ বাঁশ খেয়ে তারা শরীরে যথেষ্ট চর্বি জমাতে পারে না। ঠাণ্ডা বাড়লে তারা পাহাড়ের নিচে নেমে আসে।
বিজ্ঞানীরা ভালুকের এই প্রক্রিয়াটি নিয়ে গবেষণা করছেন। কারণ ভালুক মাসের পর মাস নড়াচড়া না করেও তাদের পেশি শুকিয়ে যায় না বা রক্ত জমাট বাঁধে না। এটি বুঝতে পারলে দীর্ঘ সময় হাসপাতালে শুয়ে থাকা রোগীদের চিকিৎসা এবং মহাকাশচারীদের দীর্ঘ যাত্রায় শরীর সুস্থ রাখার নতুন উপায় বের করা সম্ভব হবে। সূত্র: পপুলার সাইন্স
