জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, সারাজীবন যে দলটি ভারতের বিপক্ষে কথা বলল, সেই দলটি এখন ক্ষমতার লোভে ভারতের সঙ্গে সমঝোতা করে।
বুধবার (১১ মার্চ) রংপুর নগরীর শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে বিভাগীয় ইফতার মাহফিল পূর্ব আলোচনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পাটওয়ারী বলেন, যারা দুর্নীতি, চাঁদাবাজদের সঙ্গে সমঝোতা করে, যারা ভারতের সঙ্গে সমঝোতা এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে আতাঁত করে; এই নব্য সমঝোতাকারীদের আমাদের বয়কট করতে হবে। কেননা দেশের মানুষ একদিন এদের জবাব দেবে।
তিনি বলেন, এ দেশে গত ৫০ বছরে ভারত কার্ড চালু ছিল, এখন আবার সমঝোতার কার্ড চালু করেছে। আমরা হুঁশিয়ার করে দিতে চাই, বাংলার মানুষ যতদিন জীবিত থাকবে, রংপুরের মানুষ যতদিন জীবিত থাকবে ভারতীয় আধিপত্যবাদ মেনে নেবে না।
তিনি বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কথা বললেই নাকি তাদের চুলকানি শুরু হয়ে যায়। আমি বিএনপি নিয়ে কথা বলতে চাই না। আমি চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীদের নিয়ে কথা বলতে চাই। যদি বিএনপির সঙ্গে এসব থাকে, তাহলে বিএনপির উচিত চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীদের কাছে না রাখা। না হলে মানুষ বলবে আব্বাস চাঁদাবাজ, বিএনপি চাঁদাবাজ। চাঁদাবাজ বললে অনেকের গাঁ শিউরে ওঠে। কেন আমি ব্যক্তি আব্বাসকে নিয়ে বলি। আমি ব্যক্তি আব্বাসকে নিয়ে বলি না। আমি চাঁদাবাজ আব্বাসের মাধ্যমে পুরো দেশের চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করি। এজন্য এগুলো দ্রুত বন্ধ করুন। না হলে আমরা এসবের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান তুলে ধরব।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, আমি দেশের মানুষকে বলতে চাই, হাট-বাজারে চাদাঁবাজদের বয়কট করতে হবে। মসজিদ থেকে আওয়াজ তুলতে হবে। খুতবায় চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে বলতে হবে। পিতা সন্তানকে এবং সন্তান পিতাকে বলবে, চাঁদাবাজের টাকার দরকার নেই। আমরা দরকার হলে ফুটপাতে দোকান দিয়ে ব্যবসা করে আয় করে খাব, তবু চাঁদার টাকায় আমরা চলতে চাই না। এভাবে সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে চাঁদাবাজদের।
এ সময় চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে শ্লোগান দেন তিনি।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন, দলটির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। প্রধান বক্তা ছিলেন দলটির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, বিশেষ অতিথি ছিলেন দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক মো. সারজিস আলম।
এই বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে বিএনপি, এনসিপি, জামায়াত ও এবি পার্টির নেতাকর্মীসহ সুধী সমাজের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
