‘ভোজশালা মসজিদকে’ মন্দির বলে স্বীকৃতি দিল হাইকোর্ট

মধ্যপ্রদেশের বহুল আলোচিত ‘ভোজশালা’ কি কামাল মওলা মসজিদ নাকি বাগদেবী মন্দির সে বিরোধে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। গতকাল শুক্রবার (১৫ মে) ইন্দোর বেঞ্চের ওই রায়ে ধার জেলার বিতর্কিত স্থাপনাটিকে দেবী সরস্বতীর হিন্দু মন্দির হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং হিন্দু পক্ষকে পূজার পূর্ণ অধিকার দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে ২০০৩ সালে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ (এএসআই) যে আদেশে সেখানে মুসলিমদের নামাজের অনুমতি দিয়েছিল, সেটিও বাতিল করা হয়েছে।

রায়ের পরপরই ধারসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। মোতায়েন করা হয় পুলিশ সদস্য, র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সসহ এক হাজারের বেশি নিরাপত্তারক্ষী। প্রশাসন আগেই ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা আইনের ১৬৩ ধারা জারি করে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছিল।

হাইকোর্টের রায়কে ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবে দেখছেন হিন্দু পক্ষের আইনজীবীরা। হিন্দুদের পক্ষে মামলাকারী আইনজীবী বিষ্ণু শঙ্কর জৈন বলেন, আদালত ভোজশালা কমপ্লেক্সকে শুধু শিক্ষাকেন্দ্র নয়, দেবী সরস্বতীর মন্দির হিসেবেও স্বীকৃতি দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আদালত আমাদের পূজার অধিকার স্বীকার করেছে এবং সরকারকে এর ব্যবস্থাপনার নির্দেশ দিয়েছে। ২০০৩ সালের যে আদেশে সেখানে নামাজের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, সেটিও বাতিল করা হয়েছে। এখন সেখানে শুধু পূজাই হবে।’

আদালত হিন্দু পক্ষের প্রায় সব যুক্তিই গ্রহণ করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। ইন্দোর হাইকোর্ট প্রাঙ্গণের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জৈন বলেন, ‘আদালত স্পষ্টভাবে স্থাপনাটির চরিত্রকে হিন্দু মন্দির হিসেবে ঘোষণা করেছেন।’

অন্যদিকে, রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে মুসলিম পক্ষ। ধার শহরের কাজি ওয়াকার সাদিক জানিয়েছেন, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে যাবেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু আমাদের যুক্তির বিপরীতে যে রায় দেওয়া হয়েছে, সেটি আমরা সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করব। প্রথম শুনানিতেই এর বিরোধিতা করা হবে।’

মসজিদের জন্য বিকল্প জমি নেওয়ার প্রস্তাবও কার্যত নাকচ করে দেন তিনি। অযোধ্যা মামলার প্রসঙ্গ টেনে সাদিক বলেন, ‘একবার মুসলিমদের বিকল্প জমি দেওয়া হয়েছে বলেই প্রতিবার একই পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে, এমন নয়। আমাদের দাবি আমরা বজায় রাখব।’

মুসলিম পক্ষের আরেক আইনজীবী নূর মোহাম্মদ শেখ বলেন, হাইকোর্টের রায়ের ফলে আপাতত সেখানে নামাজ আদায়ের সুযোগ নেই। ‘সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ না করা পর্যন্ত এখন সেখানে নামাজের প্রশ্নই ওঠে না,’ বলেন তিনি।

মামলায় মুসলিম পক্ষের প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবী আশহার আলি ওয়ারসি অভিযোগ করেন, আদালত কেবল প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের উপস্থাপিত তথ্যকেই গুরুত্ব দিয়েছে।

‘আমাদের উপস্থাপিত তথ্য কার্যত বিবেচনাই করা হয়নি। আমরা বলছি না আদালত আমাদের শুনেনি, কিন্তু আমরা এই রায়ে মোটেও সন্তুষ্ট নই। সাংবিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এটি প্রশ্নবিদ্ধ,’ বলেন তিনি।

দীর্ঘদিন ধরেই ভোজশালা-কামাল মওলা স্থাপনাটি নিয়ে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে আইনি ও ধর্মীয় বিরোধ চলে আসছে। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে বিরোধটি নতুন মাত্রা পায় এবং একাধিকবার সাম্প্রদায়িক উত্তেজনাও সৃষ্টি হয়।

২০০৩ সালে এএসআই একটি সমঝোতামূলক আদেশে মঙ্গলবার ও বসন্ত পঞ্চমীতে হিন্দুদের পূজার অনুমতি দেয়, আর শুক্রবার মুসলিমদের নামাজ পড়ার সুযোগ রাখে। কিন্তু বসন্ত পঞ্চমী ও জুমার দিন একসঙ্গে পড়লে প্রায়ই উত্তেজনা তৈরি হতো।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন