রাজনৈতিক হিংসা ও চরম প্রতিহিংসার বলি হয়ে সিলেটের বিয়ানীবাজারে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে সাবেক ছাত্র শিবির নেতা ও বর্তমান যুক্তরাজ্য প্রবাসী রেজওয়ান হোসেন রনির পরিবারের পৈতৃক বসতবাড়ি। ১ জুলাই রাত ৬টা ২০ মিনিটে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা কেবল একটি অগ্নিসংযোগ নয়, বরং একটি পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ স্তব্ধ করে দেওয়ার ঘটনা বলে অভিহিত করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
রনির পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ১ জুলাই সন্ধ্যায় বিয়ানীবাজারের চারখাই এলাকার বাগবাড়ী গ্রামের বাড়িতে রনির বৃদ্ধ মা-বাবা ও নিকটাত্মীয়রা অবস্থান করছিলেন। রাত সাড়ে ৬টার দিকে হঠাৎ ২০-২৫ জনের একটি সশস্ত্র দল বাড়িতে হামলা চালায়। অতর্কিত এ তাণ্ডবে প্রাণভয়ে রনির বৃদ্ধ বাবা-মা পেছনের দরজা দিয়ে প্রতিবেশীদের বাড়িতে গিয়ে কোনোমতে আত্মরক্ষা করেন। ঘরের লোকজন বের হয়ে যাওয়ার পরই হামলাকারীরা ঘরের ভেতর আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনের তীব্রতায় ঘরের ভেতরের আসবাবপত্র, টিভি,ফ্রিজ, পারিবারিক সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সনদপত্র এবং জায়গা-জমির মূল দলিলপত্র পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে যায়।
রনির পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, এই হামলার মূল ইন্ধনদাতা সিলেট-৬ আসনের বর্তমান এমপি অ্যাডভোকেট এমরান আহমেদ চৌধুরী। কিছুদিন পূর্বে, অর্থাৎ ২২ জুন ২০২৬ তারিখে এমপি নিজেই বাদী হয়ে প্রবাসে থাকা রনির বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা ঠুকে দেন। রনি যুক্তরাজ্যে বসে ফেসবুকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার কারণেই এমপি ও তার সমর্থকরা ক্ষিপ্ত ছিলেন। স্থানীয়দের মতে, মামলায় সন্তুষ্ট না হয়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে রনির পরিবারকে নিঃস্ব করার উদ্দেশ্যেই এই অগ্নিকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
বর্তমানে রনির পরিবার খোলা আকাশের নিচে কিংবা আত্মীয়দের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাটি নিশ্চিত করলেও নিরাপত্তাহীনতার কারণে পরিবারটি এখন চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
