
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা ও জুড়ী) আসনের নির্বাচনী ফলাফলে পরাজিত হলেও ভোটের সমীকরণে চমক দেখিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। ২৬-২৭ বছরের ব্যবধানে অন্তত ৫০ হাজার ভোট বৃদ্ধিতে পরাজয়েও হতাশ নয় দলটির প্রার্থী, নেতাকর্মী ও সমর্থকরা, বরং বিজয়ী না হয়েও যেন তারা জয়ের স্বাদ পাচ্ছেন।
স্বাধীনতা পরবর্তী প্রথমবার ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-১ আসনে প্রার্থী দেয় জামায়াতে ইসলামী। উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন আমীর ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মালিককে সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী করা হয়। ওই নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর ভোটের অংক দশ হাজারও ফাঁড়ি দেয়নি। এরপর অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চারদলীয় এক্যজোটের (বিএনপির) শরীক দল হিসেবে প্রার্থী দেয়নি জামায়াত। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও জোটগত কারণে প্রতিদ্বন্দীতা করেনি জামায়াতে ইসলামী। পরবর্তীতে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে নির্বাচনতো দূরের কথা রাজনৈতিক কার্যক্রমই চালাতে পারেনি জামায়াত। চরম অস্থিত্ব সংকটে পড়া জামায়াতে ইসলামী প্রায় ১৭ বছর কঠিন সময় পার করে। হামলা-মামলা, জেল-জুলুম মাথায় নিয়ে ভেতরে ভেতরে সুসংঠিত হতে থাকে। যার চমক দেখা গেল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে। প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল কল্পনাও করেনি জামায়াতে ইসলামীর এত উত্থান ঘটবে।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বড়লেখা উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌসভার মোট ৬৯টি ভোটকেন্দ্রে দাঁড়িপাল্লার (১১ দলীয় জোট) প্রার্থী মাওলানা মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বিএনপির প্রার্থীর চেয়ে ৪১০ ভোট বেশি পেয়েছেন। তার প্রাপ্ত ভোট ৫৬,১৭০ ও বিএনপি প্রার্থী নাসির উদ্দিন আহমেদের প্রাপ্ত ভোট ৫৫,৭৬০। কিন্তু জুড়ী উপজেলার ৬ ইউনিয়নের বিএনপি প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের একিভুত হিসাবে ১৫,২৬৯ ভোটের ব্যবধানে হেরে যান জামায়াত প্রার্থী মাওলানা আমিনুল ইসলাম। আসনটির একিভুত হিসাব অনুযায়ী ধানের শীষের প্রাপ্ত ভোট ৯৮,২৮২ ও দাঁড়িপাল্লার প্রাপ্ত ভোট ৮৩,০১৩। শরীক দলের ভোট বাদ দিলেও গত ২৭-২৮ বছরে এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর ভোট বেড়েছে ৫০ থেকে ৬০ হাজার। যা সংগঠনটির চমক হিসেবেই অনেকেই দেখছেন।
উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ফয়সল আহমদ বলেন, ‘যারা কষ্ট করে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে সিল দিয়ে আমাদের ভালোবাসা প্রদর্শন করেছেন, সেটাই হবে আগামী দিনের জন্য আমাদের সবচাইতে বড় পুঁজি। মানুষের আস্থা অর্জনের যে যাত্রা থামবে না, আমি গভীর কৃতজ্ঞতা ও সম্মানের সঙ্গে আপনাদের সবার প্রতি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। মহান আল্লাহ কখনো পরিশ্রম ও নিয়তকে বিফল করেন না।’ এই জাগরণই আমাদের শক্তি।’
বড়লেখা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এমাদুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনে আমাদের প্রার্থী হেরে গেলেও আমরা হতাশ নই, অস্বাভাবিক জনসমর্থন মিলেছে। ন্যায়-ইনসাফের পক্ষে ভোটারগণ যে সমর্থন ও ভালোবাসা দেখিয়েছেন তাতে এই পরাজয়কে আমরা বিজয় হিসেবে দেখছি। জামায়াতে ইসলামী ওসব ভোটারগণের অবদান স্মরণ রাখবে, অতীতের চেয়ে আরো বেশি কাছে পাবেন। ন্যায় ইনসাফ ভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।