জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাগর পথে অবৈধভাবে লিবিয়া থেকে গ্রিস যাবার পথে বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের অভাবে সুনামগঞ্জের ১২ জনের প্রাণ হারানোর ঘটনায় দিরাই থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) রাত ১২টায় চারজন মানবপাচারকারীর নামোল্লেখ করে অজ্ঞাত নামীয় আসামি দিয়ে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
অভিভাসন প্রত্যাশায় নিহত জেলার দিরাই উপজেলা জগদলের সোহানুর রহমানের বাবা ছালিকুর রহমান মামলার বাদী হয়েছেন।
দিরাই থানার ওসি এনামুল হক চৌধুরী মামলার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
উল্লেখ, গত শনিবার লিবিয়া থেকে অবৈধ পথে গ্রীস বোটে করে যাবার পথে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটের কারণে ভূমধ্যসাগরেই সাগরে ২২ জন অভিবাসীর মৃত্যু ঘটে, যাদের মধ্যে ১৮ জনই বাংলাদেশি। পরে পাচারকারীদের নির্দেশে মৃতদেহ গুলো ভূমধ্যসাগরে ফেলে দেওয়া হয়।
এরমধ্যে সুনামগঞ্জের তিন উপজেলার ১২ জন রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ৬ জন, জগন্নাথপুরের ৫ জন ও দোয়ারাবাজারের ১ জন রয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে জগন্নাথপুর উপজেলার পাঁচজন, তারা হলেন-চিলাউড়ার শামছুল হকের ছেলে ইজাজুল হক রেজা (২৩), একই গ্রামের দুলন মিয়ার ছেলে নাইম মিয়া (২৪), রানীগঞ্জ ইউনিয়নের টিঁয়ারগাঁও গ্রামের আখলুছ মিয়ার ছেলে শায়েক আহমদ জনি (২৫), পাইলগাঁও (হাড়গ্রাম) গ্রামের প্রাক্তন শিক্ষক হাবিবুর রহমানের ছেলে আমিনুর রহমান (২৬) ও ইছগাঁও গ্রামের বশির মিয়ার ছেলে আলী আহমদ (২২)।
দিরাই উপজেলার ছয়জন নিহত হয়েছেন, তারা হলেন- কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারাপাশা গ্রামের সাইদ সরদারের ছেলে নূরুজ্জামান ময়না (৩০), ইসলাম উদ্দিনের ছেলে শাহান মিয়া (২৫) ও আব্দুল গণির ছেলে সাজিদুর রহমান (২৮); রাজানগর ইউনিয়নের ররনারচর গ্রামের আব্দুল মালিকের ছেলে উপজেলা যুবদলের সদস্য মজিবুর রহমান (৩৮), জগদল ইউনিয়নের বাসুরি গ্রামের সোহানুর রহমান এহিয়া (২৮), করিমপুর ইউনিয়নের মাটিয়াপুর গ্রামের তায়েফ মিয়া (৩০)।
এছাড়াও দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের কবিরপুর গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে আবু ফাহিমও মারা গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহতদের স্বজনরা অভিযোগ দিরাই উপজেলার মানবপাচারকারীর সঙ্গে জনপ্রতি ১২ লাখ টাকায় চুক্তি করে তারা লিবিয়া হয়ে গ্রিসে যাওয়ার উদ্যোগ নেন। চুক্তি অনুযায়ী বড় ও নিরাপদ নৌকায় করে যাত্রার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাদের ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় তুলে দেওয়া হয়।
