সুনামগঞ্জে শহীদ মিনারের গেইটের তালা, অতপর…

হাওরাঞ্চল প্রতিনিধি
স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে সুনামগঞ্জের পৌর শহরের মধ্যে প্রাচীন শহীদ মিনারটির গেইটে তালা দেয়া থাকায় সেই তালা ভেঙে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বিক্ষোদ্ধ মুক্তিযোদ্ধাগণ।
বুধবার সকালে সাড়ে ৯টার দিকে শহরের ট্রাফিক পয়েন্ট ও পৌর বিপনীর মধ্যে স্থাপিত শহীদ মিনারটিতে ঘটনাটি ঘটেছে। এই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
অপর দিকে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে শহিদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক ড.মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া,পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমেদসহ জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তর,বিভিন্ন রাজনৈতিক,সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষে থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়েছে। এবং মুক্তিযোদ্ধাগন ও এখানেই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। যা প্রতি বছরেই সম্মান জানানো হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পৌর শহরের মধ্যে প্রাচীন ও ৮০ ভাগ মুক্তিযোদ্ধাগন স্বাধীনতা যুদ্ধের পর পরেই এই শহীদ মিনারটি তৈরী করে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে আসছেন। মুক্তিযোদ্ধাসহ সকল স্থরের মানুষ দাবীর প্রেক্ষিতে সম্প্রতি জেলা স্টেডিয়ামের সামনে নতুন করে বড় আকারে একটি শহীদ মিনার তৈরি করাও হয়েছে। এছাড়াও জাতীয় দিবস গুলোতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রাঙ্গণে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলকে বীর শহীদের সম্মানে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়ে থাকে প্রতি বছরেই প্রশাসনসহ সকল স্থরের মানুষ পক্ষ থেকে এবছরও তাই হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, ডিসেম্বরের ৬ তারিখে সুনামগঞ্জ মুক্ত হয় এরপর ১৬ই ডিসেম্বরের পূর্বেই ডিএস রোডের (দেওয়ান সাহেব রোডের) এই শহীদ মিনারটি নিজ হাতে নির্মাণ করেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাগণ। তৎকালীন মেজর মোতালিবের (সাব-সেক্টর কমান্ডার) নির্দেশনায় মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক সালেহ চৌধুরী তাৎক্ষণিক এই শহিদ স্মৃতি ফলকটির নকশা তৈরী করে দেন।
সুনামগঞ্জ জেলা উদীচীর সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলম জানান, মহান স্বাধীনতা দিবসে শহীদ মিনারে গেটে তালা দেয়া দেখে আমি নিজেও আশ্চর্য্য হয়েছি। গেটে তালাবদ্ধ দেখে ফিরে এসে পরে কোর্ট চত্বরে স্মৃতি ফলকে গিয়ে পুস্পস্তবক অর্পণ করেছি।
গেইটের তালা ভেঙে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করার বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল মোমেন জানান, আমরা মুক্তিযোদ্ধাগন সব সময় এই শহীদ মিনারে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করি। সকালে তালা দেয়া দেখে অনেকেই চলে গেছেন। আমরাও এসে দেখি তালা দেয়া পরে মুক্তিযোদ্ধাগন ক্ষুব্ধ হয়ে তালা ভেঙে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। পরে সংবধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেই আমরা। অনেকেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রাঙ্গণে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলকে বীর শহীদের সম্মানে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। আগামীতে আমরা এখানে ও নতুন শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করবো। এই শহীদ মিনারটি আমাদের নিজের হাতে তৈরি করা তাই মায়া বেশি। শহীদ মিনারটি পৌর প্রশাসনের একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক দায়িত্বে রয়েছে।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার পৌর প্রশাসক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম জানিয়েছেন, স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসে শ্রদ্ধা জানানোর স্থান স্মৃতিস্তম্ভ সবাইকে জানাতে হবে। শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানানো হয়। স্বাধীনতা দিবসে স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দেওয়া হবে সে জন্যই পুরাতন শহীদ মিনার বন্ধ রাখা হয়।