সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর অভিযোগ প্রসঙ্গে যা বললেন কয়েস লোদী

দৈনিকসিলেটডটকম
বরখাস্তকৃত সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর ভিত্তিহীন ও কান্ডজ্ঞানহীন অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্যানাল মেয়র রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ।
বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে এক পোস্ট এর মাধ্যমে এ প্রতিবাদ জানান।
কয়েস লোদী বলেন, বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল বিএনপি গণমানুষের আস্থা ও ভরসার এক অনন্য কেন্দ্রবিন্দু। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই দলটি বাংলাদেশে গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা ও চর্চা,রাজনৈতিক সম্প্রীতির লালন ও বিকাশের ক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকা পালন করে আসছে। বিএনপি বিশ্বাস করে রাজনীতিকে মোকাবেলা করতে হয় রাজনীতি দিয়ে। গত ১৬ বছর আওয়ামী ফ্যাসিজম মোকাবেলা করতে বিএনপি রাজনৈতিক কাঠামো ব্যবহার করেছে,কখনো কোনো অপরাজনীতির আশ্রয় নেয় নি।
বিগত সরকারের নানামুখি নির্যাতন,জেল জুলুম,গুমের রাজনীতি সারাদেশের মতো সিলেটেও অব্যাহত ছিল। আমাদের সবার মনে থাকার কথা,রেজিষ্ট্রি মাঠে এস আই তারেক কীভাবে মাথা ফাটিয়েছিল প্রবীণ নেতা মরহুম এম এ হকের,কীভাবে কোমরে রশি বেঁধে টেনে নেওয়া হয়েছিল সাবেক এমপি মরহুম দিলদার হোসেন সেলিমকে। সেদিন আমার পিঠেও লাঠির প্রচন্ড আঘাত করেছিল আওয়ামী এসআই তারেক,এখনো আমার পিঠে সেই কালো দাগ আছে।
জননেতা এম ইলিয়াস আলী,ইফতেখার আহমদ দিনার জুনেদ ও আনছারকে গুমের মাধ্যমে সিলেটের পরিচ্ছন্ন রাজনীতিতে কালিমা লেপন করে ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকার। এমসি কলেজের ছাত্রাবাস পুড়িয়ে দেওয়া,যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেকের বাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া ও গুলি ছোঁড়া, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরীর বাসা ভাংচুর, বিএনপি নেতা বদরুজ্জামান সেলিমের পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘তারু মিয়া স্টোর’ বারবার ভাংচুর করেছিল স্বৈরশাসক আওয়ামীলীগ। সিলেট নগরীর ৭ নং ওয়ার্ডে একাধিক বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর,সিলেটে ভিন্ন রাজনৈতিক দলের অসংখ্য নেতাকর্মীদের বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাংচুর করে আওয়ামীলীগ নিজেদের ফ্যাসিবাদী চেহারা প্রকাশ করেছে বিগত ১৬ বছর।
তিনি বলেন, বিগত ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পর সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি যাতে না হয় সেজন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের নির্দেশে প্রতিটি পাড়া মহল্লায় বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা দলবেঁধে পাহারা দিয়েছে।
আমরা লক্ষ করছি ইদানিং আবারো রাজনৈতিক রীতিনীতি তোয়াক্কা না করে নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ সিলেটের রাজনীতির মাঠকে উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে। মানুষ যখন ঘুমে থাকে তখন তাদের ৭/৮ জনের টিম মুখে কাপড় বেঁধে ২/৩ মিনিটের ঝটিকা মিছিল দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ফলাও করে প্রচার করছে।এই অশুভ তৎপরতার প্রতিবাদ জানিয়ে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা জনসম্মুখে প্রকাশ্যে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিল করেছে। আমরা একই সঙ্গে সাধারণ ছাত্র জনতাকেও রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাতে দেখেছি।
পরবর্তীতে কে বা কারা কয়েকটি বাসা বাড়িতে হামলা করে ভাংচুর করেছে যা অন্য সবার মতো আমিও মিডিয়ায় দেখেছি। এসব ঘটনা অবশ্যই নিন্দনীয় এবং বিএনপি কোনোভাবেই এগুলো সমর্থন করে না।
আমরা চিরাচরিতভাবে সৃজনশীল ও সৃষ্টিশীল রাজনীতিতে বিশ্বাসী,কোন অপকর্ম আমরা সমর্থন করি না বা কোনো অপরাধীকে আশ্রয় বা শেল্টার দিই না। ইতোমধ্যে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে আমরা হয় তাদের বহিষ্কার করেছি কিংবা তদন্তের আওতায় এনেছি,এসব প্রমাণ সবাই দেখেছেন।
আমি মিডিয়ায় দেখেছি,লন্ডনে বসে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের বরখাস্তকৃত সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন তিনি নাকি শুনেছেন ২ এপ্রিলের ঘটনায় সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সরাসরি মদদ দিয়েছেন। কোনোরুপ তথ্য প্রমাণ ছাড়া শুধুমাত্র শোনা কথার ওপর ভিত্তি করে এরকম ভিত্তিহীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য আমাকে বিস্মিত করেছে। আনোয়ারুজ্জান চৌধুরী পদচ্যুত হওয়ার পর থেকেই এরকম লাগামহীন অন্তঃসারশূন্য বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। সিলেটের রাজনীতিতে নোংরা কালিমা লেপনের চূড়ান্ত আঁচড় দিয়ে সুযোগ বুঝে তিনি পালিয়ে গেছেন। মাত্র ৮ মাসের মেয়াদে তিনি সিটি কর্পোরেশনে দলীয় নেতাকর্মীদের অবৈধ নিয়োগ,টেন্ডারবাজি করে শত কোটি টাকার বাণিজ্য করেছেন। মেয়র কার্যালয়কে অস্ত্রের স্টোররুমে পরিণত করেছিলেন,যার তদন্ত চলমান আছে;একসময় কতৃপক্ষ তা জাতির সামনে উপস্থাপন করবেন বলে বিশ্বাস করি।
জুলাই আন্দোলনে এই বরখাস্তকৃত সাবেক মেয়র তার অনুসারীদের হাতে বিপজ্জনক আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ছাত্র জনতাকে দমনের চেষ্টা চালিয়েছেন ,মিডিয়ার মাধ্যমে সেসব তথ্য জাতির সামনে উপস্থাপিত হয়েছে। নিজের এসব অপকর্ম আড়াল করতে বর্তমানে হেন কোনো নোংরা কাজ নেই যা তিনি করছেন না। মানুষের সহানুভূতি আদায় করতে বর্তমানে এসব নিষিদ্ধ মিছিল এবং হামলার ঘটনা তিনিই যে করাচ্ছেন না সে নিশ্চিয়তা কে দেবে?
কয়েস লোদী প্রশাসনের কাছে জানতে চান, জুলাই বিপ্লবের আগে বিএনপির নেতাকর্মীরা ধানক্ষেতে রাত্রি যাপন করেও যেখানে পার পায় নি সেখানে অস্ত্রধারী এবং মামলার আসামিরা কী করে এখন শহরে অবাধে চলাফেরা করে? কীভাবে একটি নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠন গভীর রাত হোক আর ভোর বিহানে হোক রাস্তায় নেমে মিছিল করে?
এ বিষয়ে আপনাদের আরো কার্যকর তৎপরতা দেখাতে হবে। নতুবা পুলিশের ওপর জনগণের আস্থা স্থাপিত হবে না। একই সঙ্গে বাসা বাড়িতে হামলার প্রকৃত মদদদাতাকে সনাক্ত করুন এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। যে কোনো অপকর্ম প্রতিরোধ করতে গণমানুষের দল বিএনপি সবসময়ই আপনাদের পাশে থাকবে ইনশাআল্লাহ।